একে সংস্কৃতে শাল, বাংলায় শাল, শাল গাছ, শাল কাঠ; হিন্দীতে শাল, দামার, সাখ, সাল; উড়িষ্যার অঞ্চল বিশেষে সব্ব, সেকওয়া; বোম্বাই অঞ্চলে রালধনা বলে। ইংরেজীতে এটিকে The Sal tree বলা হয়। এর বোটানিক্যাল নাম Shorea robusta Gaertn. f., পরিবার Dipterocarpaceae.
শাল গাছ-এর বিবরণ:
শাল গাছ সরল ও খুব লম্বা, এতে শাখা-প্রশাখা খুব কম হয়। ছোট গাছের ছাল মসৃণ; কিন্তু বড় গাছের ছাল ফাটা ফাটা, পরে ১-২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। পাতা লম্বায় ৬-১০ ইঞ্চি, চওড়ায় ৪-৬ ইঞ্চি, আকারে আয়তাকার এবং পাতার গোড়ার দিকটা ডিম্বাকৃতি, অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। শাল গাছের কাঠ খুবই মজবুত, এটি ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র তৈরীর কাজে তো লাগেই, এছাড়া মজবুত ও ভারি কাঠের যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই শালকে আমাদের প্রয়োজন। এজন্য জঙ্গলের পর জঙ্গল মানুষের প্রয়োজনে শেষ হয়ে যায়। তাই সরকারী প্রচেষ্টায় এখন এর চাষ হচ্ছে। ফুলগুলি নরম, রোমশ ও শ্বেতবর্ণের পাপড়ি হলদে আভাযুক্ত। সাধারণতঃ বসন্তের প্রারম্ভে গাছ পত্রহীন হয়, তারপর যখন নতুন পাতা গজাতে শুরু করে, ঠিক সেই সময় গাছে ফুল আসে, আকারে অনেকটা ঝুমকোর মত। সাদা ফুল, পাপড়িগুলো হলদে আঠাযুক্ত, তাই সমগ্র ফলটাকে শ্বেতবর্ণ না ব’লে হরিদ্রাভ-শ্বেত বর্ণের বললে বোধ হয় ঠিক হবে। তারপর ফল হয়, বর্ষার প্রারম্ভে পাকতে শুরু করে। ফলগলি আকারে ছোট, লম্বায় ২ ইঞ্চির বেশী হয় না। গাছের আঠাকে ধনা বলা হয়, ধনা আগনে ফেললে যে ধোঁয়া বেরোয়, তা জীবাণুনাশক ও সুগন্ধযুক্ত।
আরো পড়ুন: শালের ভেষজ গুণাগুণ
বিস্তৃতি:
শালের গাছ হিমালয় পাহাড়, আসাম, ছোটনাগপুর, উত্তরবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশ, পাঞ্জাব, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, বিশাখাপত্তনম প্রভৃতির জঙ্গলে এবং ৫০০০ ফট উচু পর্যন্ত স্থানেও জন্মে। বর্তমানে ঐসব জঙ্গলে এবং নতুন তৈরী জঙ্গলে সরকারী প্রচেষ্টায় শাল গাছ লাগানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ
১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৫, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৩, পৃষ্ঠা, ৩০-৩৪।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: FarEnd2018
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।