চা পাতা ব্যবহার আটটি উপকারিতা

চা পান (বৈজ্ঞানিক নাম: Camellia sinensis, ইংরেজি নাম: Tea Plant) শুধু দোষেরই নয়; চায়েরও আছে কিছু কিছু গুণ। এটি রুচি উৎপন্ন করে, ত্বক ও মূত্রাশয়কে প্রভাবিত করে ঘাম সৃষ্টি করে এবং প্রস্রাবের বেগ আনে, ঢিমে হয়ে যাওয়া উৎসাহ আবার চাগিয়ে দেয়, ক্লান্তি দূর করে, পিত্ত বাড়িয়ে দেয়। খাওয়ার চার ঘণ্টা পরে চা পান করলে ভাল হয়। অতএব খাওয়ার তিন-চার ঘণ্টা পরে খাবারের যে অংশটুকু হজম হয়নি তা চা হজম করিয়ে নীচে নামিয়ে দেয়।

চায়ের স্বাদ কষা আর তীক্ষ্ণ, পরিপাকেও তীক্ষ্ণ, উষ্ণবীর্য যা শরীর গরম বা কড়া করে, কফ হরণ করে, বাত বৃদ্ধি করে, পাকস্থলীর পক্ষে ভাল। দুধ মেশানো চা মিষ্টি, কফ নাশক, কিছুটা বা স্বেদ কারক অর্থাৎ ঘাম বের করে দেয়, কিছুটা উত্তেজক, কামোত্তেজক, ঠাণ্ডা দূর করে, শ্রমের ক্লান্তি দূর করে, মূত্রবৃদ্ধি করে এবং জড়তানাশ করে।

জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি ও সর্দিতে চায়ের উপকারী অনেক। যাঁরা খুব বেশি কাজ করেন, কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে যান তখন এটি পান করলে তাঁদের মধ্যে আবার নতুন করে কাজ করবার উদ্দীপনা আসে। প্রতিদিন খুব বেশি খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। রক্তকে উত্তেজিত করে শরীর যেন শুকিয়ে দেয়।

চা পাতা-এর ভেষজ গুণ

১. ক্লান্তিতে: সামান্য একটুতেই ক্লান্তি আসে, কিছুক্ষণ কাজ করার পর কাজে একটা অনিচ্ছা, কাজ করতে করতে মাথাটা অল্প ভারিবোধ, কখনো বা মাথায় মৃদু যন্ত্রণা, এই যে ক্ষেত্র, এক্ষেত্রে ভাল জাতের চা পাতা দিয়ে প্রস্তুত এক কাপ চা খেলে ক্লান্তিটা একটু পরেই চলে যাবে। যে চায়ের পাতা যত উৎকৃষ্ট হবে, তাতে ট্যানিনের মাত্রা কম এবং ক্যাফিনের মাত্রা বেশি থাকবে। এই ক্যাফিন আমাদের স্নায়ুমণ্ডলকে সতেজ করে দেহ-মনে স্ফূর্তি আনে।

এক কাপ ফুটন্ত জলে হাফ ডাস্ট বা পাতা চা ১ চা-চামচ তবে গুড়া হলে ২ চা-চামচ দিয়ে ৪/৫ মিনিট ঢেকে রাখার পর হেঁকে, তাতে অল্প, চিনি ও দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। চায়ের পাতা জলে ফোটানো চলবে না। যাঁদের অম্বলের ধাত আছে, তাঁরা চায়ের সঙ্গে চিনি দেবেন না, অল্প মাত্রায় দুধ দেবেন।

আরো পড়ুন:  কেচুয়ান দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ

২. ক্ষুধা কমাতে: খাই খাই রোগ অনেকের আছে। এক্ষেত্রে ১ চা-চামচ চা-পাতা এক কাপ জলে ৪/৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর সেটাকে মিনিট খানিক ফুটিয়ে তারপর তাতে ২ চা-চামচ দুধ মিশিয়ে পান করতে হবে। সারাদিনে এভাবে ৩/৪ বার করে সপ্তাহখানিক পান করলে খাই খাই ভাবটা প্রশমিত হবে ।

৩. তরুণ সর্দিতে: হঠাৎ ঠাণ্ডা লাগলে, তা সে বৃষ্টিতে ভিজেই হোক, শীতের দিনে খালি গায়ে থেকেই হোক আর জল ঘেঁটেই হোক, এক্ষেত্রে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে চায়ের জল তৈরী করে তাতে অল্প লবণ ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে সারাদিনে ২/৩ বার খেতে হবে। দু দিনেই জলের মতো ঝরা সর্দি চলে যাবে। সর্দি গাঢ় হলে স্বাভাবিকভাবে প্রস্তুত চা খেলে আর কোন অসুবিধা হবে না।

৪. গলাবসায়: ঠাণ্ডা লেগে গলা বসে গেলে চা-সিদ্ধ জলে লবণ মিশিয়ে গার্গেল করতে হবে এবং লেবু লবণ দিয়ে দিনে ২/৩ বার চা খাওয়া প্রয়োজন। ঐ সময়টা ২/৪ দিন হালকা গরম জলে স্নান করলে ভাল হয়।

৫. ঢুলুনী রোগে: বসলেই ঝিমুনী, সময় নেই অসময় নেই যখন-তখন যেখানে-সেখানে তন্দ্রা এসে হাজির হয়, এটা ক্লান্তিতেও আসে আবার বয়সের চাপেও আসে, দুর্বলতাতেও হয়; এক্ষেত্রে কয়েকদিন লবণ মিশ্রিত চা, অসুবিধা হলে অল্প চিনি মিশ্রিত চা সারাদিনে ৩/৪ বার করে ২/৩ দিন খেলে ঢুলুনীটা আস্তে আস্তে চলে যাবে।

৬. শ্লেষ্মার প্রকোপে: ঠাণ্ডা লেগে বুকে কফ জমেছে, অথচ কাসিও বেশি নাই, মনে হয় বুকে যেন কে চেপে বসে আছে, ভেতরে একটা চাপবোধ ও অস্বস্তি, সামান্য চলাফেরা করতে গেলেই কষ্টবোধ, হাঁফ ধরে, খেতেও বিশেষ ইচ্ছা নেই, মনে কোন আনন্দ নেই, এক্ষেত্রে লবণ মিশ্রিত চা সারা দিনে ৩/৪ বার করে ৪/৫ দিন খেলে অবস্থাটা আয়ত্তে চলে আসবে। তারপর অল্প দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা খেলে চলবে।

আরো পড়ুন:  নুনে শাক-এর সাতটি ভেষজ গুণাগুণ ও প্রয়োগ

৭. নেত্রাভিষ্যন্দে: চা তৈরীর পর গরম চায়ের পাতাগুলোকে কাপড়ে বেঁধে একটা ছোট পুঁটলি করে তার ভাপ চোখে লাগালে চোখ উঠা বা নেত্রাভিষ্য প্রশমিত হয়।

৮. চুল ওঠায় দূর করতে: যেক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে চুল উঠে যাচ্ছে, কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে চা-পাতা সিদ্ধ জলের (ঠাণ্ডা হলে) দ্বারা প্রত্যহ একবার করে মাথা ধুতে হবে। মাসখানিক এভাবে লাগালে উপকার আপনা থেকেই বুঝতে পারবেন ।

CHEMICAL COMPOSITION

Camellia sinensis Kuntze. Syn. Camellia thea Link. Syn. Camellia theifera Griff.

Leaves contain:– Polyphenols 22.2% (1-gallocatechin, dl-gallocatechin, 1-epicatechin, dl-catechin, 1. gallochatechin gallate, 1-epicatechin-gallate and a new gallocatechin-gallate); protein 17.2%, caffeine 4.3%; crude fibre 27%, starch 0.5% reducing sugar 3.5%; pectins 6.5%; ether extract 2%; dextrin; ash 5.6%, carotine; riboflavin; acids (sikkimic, malic, oxalic, nicotine, pantothenic and ascorbic); Kaempferol; quercetin; theophylline; theobromine; xanthine; hypoxanthin; adenin; dextrins; inositol and gums; volatile oils 0.014% (oC.B-hexenal, B, X-hexenol, butyraldehyde, isobutyraldehyde, isovaleraldehyde, nhexanol, benzyl alcohol, phenyl ethyl alcohol, phenol, cresol, hexanoic acid, n-octanol, geraniol, B-methyl-butanOC-on, linalool, acetophenone, citral acids-oc, acids (acetic, propionic, butyric, valeric, caproic, palmitic and heptoic) and methyl salicylate.

Black tea contains:- essential oil 0.003-0.006% (cresol, isovaleraldehyde, oC, B-hexenal, isobutyl aldehyde, benzaldehyde, butyraldehyde, isobutyraldehyde, caproladehyde, B-y-hexenol, linalool and alcohols (phenyl ethyl, butyl, isobutyl, isoamyl, benzyl, hexyl and octyl); terpenes (citronellol and geraniol); acids (propionic, butyric, isovaleric caproic, hexenoic, caprylic, palmitic benzoic,
phenyl acetic and salicylic); quinoline, methyl salicylate; 2-acetyl pyrrole; methyl mercaptane and a sulpher con
taining liquid.

Seeds contain: moisture 10.4%; albuminoids. 8.5%; starch: 32.5%; carbohydrates 20%;. fatty oils 23%; crude fibre 3.8%; mineral substance 3.3%; saponine 9%; fatty acids (palmitic 7.6%, stearic 0.8%, oleic 83.3%, linoleic 7.4%, myristic 0.3%, arachidic 0.6% and hexadecanoic acid 0.8%); unsaponifiable matter 1.5% (theasin).

আরো পড়ুন:  বাবলা গাছের ১৪টি ভেষজ গুণাগুণ ও উপকারিতা

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা, ৫৪-৫৬।

২. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ১০৮-১০৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!