আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > প্রবন্ধ > প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন ছিল হস্তান্তর-পূর্ব ব্রিটিশ ভারতের সাহিত্য আন্দোলন

প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন ছিল হস্তান্তর-পূর্ব ব্রিটিশ ভারতের সাহিত্য আন্দোলন

লেখক আন্দোলন

প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন (ইংরেজি: Progressive Writers’ Movement) ছিল হস্তান্তর-পূর্ব ব্রিটিশ ভারতে একটি প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলন। এই লেখক ও সাহিত্যিক গোষ্ঠীর কয়েকটি শাখা ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল। এই সাহিত্যিকগণ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং বামপন্থী ছিলেন এবং তাদের লেখার মাধ্যমে জনগণকে সমস্ত মানুষকে সমতার পক্ষে এবং সমাজের সামাজিক অবিচার ও পশ্চাদপদতাকে আক্রমণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট করেছিলেন।

সমগ্র বিশ্বে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর আগ্রাসী নীতি ও হিংস্র আচরণ ভারতের লেখক-বুদ্ধিজীবীদের বিচলিত করেছিল। বিশ্বের অনেক লেখক ফ্যাসিবাদবিরােধী ভাব দেখিয়েছিলেন এবং এর নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার পরিণাম সম্পর্কে করে দিয়েছিলেন সতর্কবার্তা। “সেদিনের পৃথিবীতে রম্য রলাঁ ভিন্ন আর কোন বুদ্ধিজীবী বােধ হয় ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে এমন প্রাণমন আত্মা নিয়ে দণ্ডায়মান হয়নি।”[১]

প্যারিস শান্তি সম্মেলন-এর পর লণ্ডনে কয়েকজন সাহিত্যিক ও প্রগতিকামী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রগতি সাহিত্য সঙঘ গঠন করেছিলেন। এ বিষয়ে উৎসাহী ও সক্রিয় ছিলেন—হার্বার্ট রিড, হ্যারল্ড লাস্কি, মূলকরাজ আনন্দ, রজনীপাম দত্ত, ই.এম. ফস্টার প্রমুখ লেখক ও বুদ্ধিজীবী।

১৯৩৬ সালে ১০ এপ্রিল লখনৌতে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় ‘অল্ ইন্ডিয়া প্রগ্রেসিভ রাইটার্স অ্যাসােসিয়েশন’ (All India progressive writers’ Association) বা ‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্ঘ। এই সম্মেলনে পৌরােহিত্য করেন স্বনামধন্য হিন্দি সাহিত্যিক মুনসি প্রেমচাঁদ। এই সংগঠনে প্রথম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট উর্দু সাহিত্যিক সাজ্জাদ জহির সম্মেলনের গুরুত্ব সম্পর্কে লেখেন: 

“This conference is a landmark in the history of our literature for the following reasons. Firstly, it was the first all India gathering of writers, writing in different Indian languages, but wanting to unite for solving our common national cultural problems. Secondly, this conference, looked at literature not from the point of view of a pedant as something apart from the rest of life, but as a social product, and as such moulded and influenced by social environment. ……….to struggle against reaction and ignorance in whatever form they may manifest themselves in society.”[২]

আন্তর্জাতিক সংকটকালে শিল্পীর দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া হয় এই সম্মেলনে। প্যারিস শান্তি সম্মেলনের উদ্দেশ্যে ও অভিপ্রায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানাের প্রস্তাব গৃহীত হয়। বাংলার যে সমস্ত প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে লখনৌতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে হীরেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ গােস্বামী প্রমুখদের নাম উল্লেখযােগ্য। ‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’-এর লখনৌ অধিবেশন থেকে ফিরে বাংলায়ও প্রগতি সংঘ গড়ে তােলার চেষ্টা করা হয়। ম্যাক্সিম গাের্কির মৃত্যু (১৮জুন, ১৯৩৬) বিশ্বের প্রগতিশীল শিবির বা প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের কাছে মর্মান্তিক দুঃসংবাদ বহন করে। তারই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে ১১জুলাই এক শােকসভা আয়ােজিত হয়। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে এই মঞেই গঠিত হয় ‘নিখিল বঙ্গ প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’।

আরো পড়ুন:  আকবরের শাসনামলে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সংঘ’-প্রতিষ্ঠিত হবার পর প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন-এর কবি-কথাশিল্পী-প্রাবন্ধিকরা আত্মপ্রকাশ করার বিস্তৃততর সুযােগ পেলেন। আনন্দবাজার গােষ্ঠীর তৎকালীন সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, কবি অরুণ মিত্র, সাহিত্যিক স্বর্ণকমল ভট্টাচার্য, বিনয় ঘােষ, সুবােধ ঘােষ, বিজন ভট্টাচার্য প্রমুখ এই প্রগতি সংঘের অংশিদার ছিলেন। পরিচয় গােষ্ঠীর কবি নীরেন্দ্রনাথ রায়, হিরণকুমার সান্যাল, বিষ্ণু দে, সমর সেন, সুভাষ মুখােপাধ্যায় এঁরা প্রগতি শিবিরে অংশ নেন।

‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’-এর প্রথম সাহিত্যিক প্রয়াস ১৯৩৭-এ প্রকাশিত ‘প্রগতি’ নামের একটি বাংলা সংকলন। সংকলনটি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গীকৃত হয়েছিল— ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বরণীয়েষু—’এবং মুখবন্ধের আগে উৎকলিত হয়েছিল প্রশ্ন কবিতার ‘আমি যে দেখিনু’— থেকে ‘তুমি কী বেসেছ ভালাে?’—পর্যন্ত অংশ। সম্পাদক ছিলেন হীরেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়। লেখক হিসেবে ছিলেন— নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখােপাধ্যায়, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ গােস্বামী, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সজনীকান্ত দাস, সমর সেন, অরুণকুমার মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবােধকুমার সান্যাল, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রমুখ। যাঁদের লেখার বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল—তাঁদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিলেন আঁদ্রে জিদ, ঈ.এম.ফস্টার, কার্ল মার্কস, টি.এস. এলিয়ট প্রমুখ।

সংকলনটির লেখক তালিকায় দলমত নির্বিশেষে সমস্ত লেখকের অবস্থান ছিল। সংকলনের মুখবন্ধ বা অন্য কোথাও সমাজতন্ত্রের কথা স্পষ্টভাবে ছিল না। ফ্যাসিস্ট বিরােধিতার প্রশ্নে সব লেখক সংগঠিত প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অবশ্য লেখক তালিকার মধ্যে অনেকে সাম্যবাদী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংগঠনের আদর্শ সম্বন্ধে লিখেছিলেন,

পৃথিবীব্যাপী সংকটের সীমাবদ্ধ বাস্তবতায় আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মূল আদর্শ ও লক্ষ্য ছিল নিভুল। সোভিয়েটের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে পৃথিবীব্যাপী সংগ্ৰাম চলার সময় প্ৰগতিবাদী শিল্পী ও সাহিত্যিকের একমাত্র কর্তব্য সুনির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল—তার সবটুকু সৃজনীশক্তি দ্বিধাহীন চিত্তে ফ্যাসিবাদের উচ্ছেদ সাধনে প্ৰয়োগ করা।[৩]

১৯৩৭-এ ‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’-এর শাখা স্থাপন করবার জন্য ঢাকায় প্রচেষ্টা চালান সাজ্জাদ জহির, হীরেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় ও সুরেন্দ্রনাথ গােস্বামী। অন্যদিকে আন্দামান জেল থেকে যে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা বামপন্থী হয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ ঢাকায় এসে ১৯৩৮-এ ‘কমিউনিস্ট পাঠচক্র’ এবং ‘প্রগতি পাঠাগার’ গড়ে তােলেন। সতীশ পাকড়াশী এঁদের মধ্যে অগ্রণী ছিলেন। ১৯৩৯-এর মাঝামাঝি ঢাকায় ‘প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’ গড়ে ওঠে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৯৪০-এ। ঢাকার সংগঠনটির সম্পাদক ও মূল কার্যনির্বাহক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, সহ-সম্পাদক ও অক্লান্তকর্মী ছিলেন তরুণ সােমেন চন্দ। 

আরো পড়ুন:  খুদাই খিদমতগর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে চালিত অহিংস আন্দোলন

১৯৩৭ সালে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার দ্বিতীয় পর্যায় প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা ছিল ফ্যাসিস্ট বিরােধী ও মার্কসপন্থী। ১৯৩৯-এর সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে হিটলার বিরােধী সংখ্যা প্রকাশ করেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

১৯৩৮-এর শেষে ‘নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সংঘ’-এর দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার আশুতােষ কলেজে। এই সম্মেলনের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন সাহিত্যিক মুলকরাজ আনন্দ, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং পণ্ডিত সুদর্শন। সম্মেলনের প্রারম্ভে রবীন্দ্রনাথের একটি শুভেচ্ছা বাণীও পঠিত হয়। সঙ্ঘের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই সম্মেলনে ঘােষিত হয়: 

“It is the object of our Association to rescue literature and other arts from the conservative classes in whose hand they have been deenerating long, to bring arts into the closest touch with the people and to make them the vital organs which will register the actualities of life, as well as lead us to the future we envisage.”[৪]

১৯৩৯-সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ‘অগ্রণী’ পত্রিকাটি ‘বামপন্থী মাসিক পত্রিকা’-রূপে ঘােষিত ছিল। লেখকদের মধ্যে ছিলেন সমর সেন, অরুণ মিত্র, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, দিনেশ দাস, সুভাষ মুখােপাধ্যায়, চঞ্চল মুখােপাধ্যায়, সুধী প্রধান, বিনয় ঘােষ।

১৯৩৯-সালেই প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’-এর মুখপত্র ‘নিউ ইণ্ডিয়ান লিটারেচার’ (New Indian Literature) ফ্যাসিস্ট বিরােধিতায় কলম ধরেছিলেন সাজ্জাদ জহির, প্রেমচন্দ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সমর সেন প্রমুখ। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ‘প্রগতি লেখক সঙ্ঘ’-এর প্রথম সাহিত্য সংকলন ‘ক্রান্তি’ (১৯৪০)। সম্পাদকের নাম উল্লেখ ছিল না। লেখায় অংশ নিয়েছিলেন যাঁরা, উল্লেখযােগ্য হলেন—রণেশ দাশগুপ্ত, অচ্যুত গােস্বামী, কিরণশংকর সেনগুপ্ত, সােমেন চন্দ।

কমিউনিস্টরা ১৯৪১-এ গড়ে তােলেন ‘সােভিয়েত সুহৃদ সমিতি’; ‘সােভিয়েট দেশ’ ১৯৪২ নামে সংকলন প্রকাশ করেন তারা। মুখ্য ভূমিকা নেন অরুণ মিত্র ও গােপাল হালদার।

‘অরণি’ পত্রিকায় ১৯৪১ সালে প্রগতি চেতনার বিকাশ লক্ষণীয়। সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার। প্রগতি সাহিত্যের বিস্তারে পত্রিকাটি উল্লেখযােগ্য সদর্থক ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৪২-এর ৮ মার্চ ঢাকা শহরে ফ্যাসিবাদ বিরােধী এক মিছিল পরিচালনা করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী বর্বরদের গুলিতে নিহত হন তরুণ লেখক সােমেন চন্দ। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে কলকাতায় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ফ্যাসিস্ট বিরােধী লেখক সম্মেলন। এই সম্মেলন মঞ্চেই ‘ফ্যাসিস্ট বিরােধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’ গঠিত হয়। তাই বলা যায় “সভ্যতা ও প্রগতির মারাত্মক শত্রুর বিরুদ্ধে লেখক ও শিল্পী সংঘের সৃষ্টি।” এই সঙ্ঘের সভাপতি নির্বাচিত হন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বিষ্ণু দে ও সুভাষ মুখােপাধ্যায়। ভারতীয় রাজনীতি তখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। 

আরো পড়ুন:  মোগল আমল ও দাক্ষিণাত্য দখল নানা অভিযান

সােভিয়েত রাশিয়া হিটলার বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয় ২২জুন। ৪২-এর ৮ আগস্ট ‘ভারত ছাড়াে’ আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ব্রিটিশদের দানবিক শােষণ পীড়ন নেয় চরম রূপ। বাংলাদেশে মার্কসবাদী শিল্পী সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেন একটি ব্যাপক ও জনমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

১৯৪৩ সালের মে মাসে বােম্বাই শহরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসের প্রাক্কালে প্রগতি লেখক সংঘের তৃতীয় সর্বভারতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয় এই সময়ে ১৯৪৩ সালের মে মাসে।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের সভাপতিত্বে ‘ফ্যাসিস্টবিরােধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’-এর দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায় (১৯৪৪, ১৫-১৭ জানুয়ারি)। সভাপতি মণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যেরা ছিলেন—মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, অতুল বসু, মনােরঞ্জন ভট্টাচার্য, আবুল মনসুর আহমদ, গােপাল হালদার ও শচীনদেব বর্মণ।

১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে ‘ফ্যাসিস্ট বিরােধী লেখক শিল্পী সঙ্ঘ’-এর তৃতীয় ও শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার মহম্মদ আলি পার্কে। ফ্যাসিবাদের বিরােধিতায় লেখক শিল্পীরা সর্বাত্মকভাবে প্রগতিবনা প্রচার করেন। এই সময়ও নবীন ও প্রবীণ কবিরা জেগে উঠেছিলেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়েছিলেন সক্রিয় ভূমিকা। বুদ্ধদেব বসু ফ্যাসিবিরােধী নৃশংসতার বিরুদ্ধে লিখেছিলেন প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘সভ্যতা ও ফ্যাসিজম’। প্রকাশিত হয়েছিল বিনয় ঘােষের ‘সংস্কৃতির দুর্দিন’, গােপাল হালদারের ‘সংস্কৃতির রূপান্তর’ লেখক সঙ্ঘ-এর উদ্যোগে ‘জনযুদ্ধের গান’, দক্ষিণ কলকাতার ছাত্র ফেডারেশন-এর উদ্যোগে ‘প্রাচীর’ নামে কবিতা সংকলন, বিষ্ণু দে’র কাব্যগ্রন্থ ‘বাইশে জুন’, সুভাষ মুখােপাধ্যায় ও গােলাম কুদ্দুস সম্পাদিত ‘একসূত্রে’ কাব্য সংকলন এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘আকাল’। বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’ নাটক প্রকাশিত হয় সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার সম্পাদিত ‘অরণি’ পত্রিকায়। ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের শেষ পর্যায়টিকে প্রগতি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। বহু কবি, সাহিত্যিক তাদের সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে এই সময়েই প্রগতিশীল লেখক আন্দোলন করে তােলেন গতিশীল।

এভাবেই ভারতে ও বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বিরােধিতায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ঢেউ বিস্তার লাভ করেছিল। প্রগতি চেতনার বিকাশে লেখক শিল্পী বুদ্ধিজীবীরা সংঘবদ্ধ প্রয়াস চালিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র

১. গােপাল হালদার, বাংলার-ফ্যাসিস্ট বিরােধী ঐতিহ্য, ১৯৭৫, ভূমিকা। 
২. Sudhi Pradhan, Marxist Cultural Movement in India, Chronicles and Documents (1936 -1947), 1979, Page. 52. 
৩. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রগতি সাহিত্য, মানিক গ্রন্থাবলী, প্রকাশক অজানা, কলকাতা, ১৯৪৫, পৃষ্ঠা ৫১৫,
৪. Sudhi Pradhan, তদেব, (Amended Manifesto: Adopted by the 2nd All India Progressive Writers, Conference held at Calcutta on Dec. 24-25, 1983) পৃ. ২১।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page