আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > দর্শন > হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর প্রচলিত ধর্মসমূহের অন্যতম

হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর প্রচলিত ধর্মসমূহের অন্যতম

হিন্দু ধর্ম বা হিন্দুত্ববাদ (ইংরেজি: Hinduism) ভারতবর্ষের প্রাচীন ধর্ম। বর্তমানকালেও পৃথিবীর প্রচলিত ধর্মসমূহের অন্যতম ধর্ম হচ্ছে হিন্দু ধর্ম। ‘হিন্দুদের ধর্ম’ হিসাবেও শব্দটির ব্যবহার করা হতো। এবং এদিক থেকে ‘ইণ্ডাস’ অঞ্চলের অধিবাসীদের ধর্মকে হিন্দু ধর্ম বলা হতো। এ থেকে বুঝতে পারা যায় হিন্দু ধর্ম দ্বারা কোনো সীমাবদ্ধ সুনির্দিষ্ট একক বিশ্বাসের বদলে প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের এবং যুগের অধিবাসীদের নানা প্রকার বিশ্বাস, আচার, আচরণ ও চিন্তাকে সামগ্রিকভাবে বুঝানো হতো। প্রাচীনকালে এই সমস্ত বিশ্বাস ও দর্শন আর্যদের ভারত আগমনের পূর্বেও ভারতে এক বিকশিত সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল।

অনুমান করা হয় খ্রি. পূ. ১৮০০-১৫০০ শতকের সময়কালে ভারতের বাইরে থেকে আগত আর্যদের সঙ্গে আদি ভারতবাসী তথা অনার্যদের দীর্ঘকালব্যাপী সংঘর্ষ এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। কালক্রমে আদি ভারতবাসীদের দেবদেবী বিশ্বাস ও আর্যদের দেবদেবী ও বিশ্বাসের অঙ্গীভূত হয়ে এক বিস্তারিত এবং মিশ্র এক ধর্ম ব্যবস্থা বিকশিত হয়।

 ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর এই তিন শক্তি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল অলৌকিক শক্তি। ভারতীয় দর্শন এবং ভারতীয় ধর্ম, দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা কষ্টকর। কর্মের ভিত্তিতে বারংবার পুনর্জন্ম এবং এই ধারায় ক্রমান্বয়ে কর্মের বন্ধন থেকে আত্মার মুক্তি, হিন্দু ধর্মের অন্যতম দার্শনিক বিশ্বাস। হিন্দু ধর্মের সমাজব্যবস্থায় একটি বৈশিষ্ট্য ছিল চার বর্ণাশ্রমব্যবস্থা: ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। আদিতে জীবিকার বিভাগ হিসাবে এই ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়ে থাকলেও পরবর্তীতে এই ব্যবস্থা জন্মগত এবং অপরিবর্তনীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং একটির চেয়ে অপরটি উত্তম কিংবা অধম বলে বিবেচিত হয়। এই বর্ণাশ্রমে সবচেয়ে নিম্নে অবস্থিত শূদ্র এবং হরিজন।

শূদ্র ও হরিজনরা উচ্চতর, বিশেষ করে উচ্চমত শ্রেণী ব্রাহ্মনের কাছে অস্পৃশ্য বলে গণ্য হতো। সামাজিক ক্ষেত্রে বর্ণাশ্যমের এই ভেদ ভারতবর্ষে আজও বিলুপ্ত হয় নি। এই ভেদাভেদের মূল ভিত্তি যে উচ্চতর অর্থনৈতিক শ্রেণীর সঙ্গে নিম্নতর বিত্তহীন মানুষের স্বার্থ এবং অধিকারের বৈষম্য এবং সংঘর্ষ, তা আধুনিককালে বুঝতে অসুবিধা হয় না। ভারতীয় জনগণের শত্রু মোহনদাস গান্ধী ভারতে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে প্রেম ও দয়ার কথা প্রচার করে এই বর্ণভেদের বৈষম্যকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন।

আরো পড়ুন:  সর্বেশ্বরবাদ কাকে বলে?

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page