শ্বেতফুলি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

শ্বেতফুলি

বৈজ্ঞানিক নাম: Lepidagathis incurva Buch.-Ham. ex D. Don, Prodr. Fl. Nep.: 119 (1825). সমনাম: Lepidagathis hyalina Nees (1832). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: শ্বেতফুলি, সূর্য কণ্টক ও ধূম্রপত্র। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Lamiales পরিবার: Acanthaceae গণ: Lepidagathis প্রজাতি: Lepidagathis incurva

ভূমিকা: শ্বেতফুলি ( বৈজ্ঞানিক নাম: Lepidagathis incurva) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মে।

শ্বেতফুলি-এর বর্ণনা:

প্রায় মসৃণ কাণ্ড বিশিষ্ট অর্ধখাড়া বহুবর্ষজীবী বীরুৎ। পত্র সবৃন্তক, পত্রবৃন্ত ১-২ সেমি লম্বা, পত্রফলক ৭-৮ × ২.০-৩.৫ সেমি, বল্লমাকার-দীর্ঘায়ত থেকে ব্যাপকভাবে বল্লমাকার-ডিম্বাকৃতি, অখন্ড, সূক্ষ্মাগ্র, সূক্ষ্মভাবে রোমশ। স্পাইক খুব ঘন, কাক্ষিক এবং প্রান্তীয়, নরম রোমশযুক্ত, ১-পার্শ্বীয়, ১.৫-৪.০ সেমি লম্বা। মঞ্জুরীপত্র ৮-১২ মিমি লম্বা, বল্লমাকার থেকে ডিম্বাকার, গ্রন্থিল-রোমশ, দীর্ঘাগ্র, সূক্ষ্ম খর্বাগ্র, মঞ্জরীপত্রিকা ৬-৮ মিমি লম্বা, শুদ্ধ ঝিল্লি সদৃশ, দীর্ঘাগ্র, সূক্ষ্ম খর্বাগ্র। বৃতি গভীরভাবে ৫-খন্ডিত, খন্ড গুলি অসম, রৈখিক-বল্লমাকার, বাইরেরটি বড় এবং প্রায় ১ সেমি লম্বা, অন্যান্যগুলি ৭-৮ মিমি লম্বা। দল প্রায় ৬ মিমি লম্বা, নলাকার, আকস্মিকভাবে মধ্যাংশে স্ফীত অঙ্কীয়, ২-ওষ্ঠী, নিম্নের ওষ্ঠ ৩-খন্ডিত, উপরেরটির চেয়ে দীর্ঘ, ছড়ানো, সাদার মধ্যে বাদামি রং এর বিন্দু বিশিষ্ট। পুংকেশর ৪টি, অসম জোড়ায় অবস্থিত, অন্তর্ভুক্ত, পরাগধানী কোষ দীর্ঘায়ত, ভোঁতা। গর্ভাশয় দীর্ঘায়ত, মসৃণ, ৪-ডিম্বকবিশিষ্ট, গর্ভদণ্ড সূত্রাকার, গর্ভমুণ্ড মুন্ডাকার, সুক্ষ্মভাবে দ্বি-খন্ডিত। ক্যাপসিউল ৫-১০ মিমি লম্বা, দীর্ঘায়ত, অগ্রভাগ ব্যতীত মসৃণ, ৪-বীজবিশিষ্ট। বীজ গোলাকার, চ্যাপ্টা, প্রন্থে প্রায় ১ মিমি, রোমশ। ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২০ = ২০ Lepidagathis hyalına নামে সনাক্তকৃত প্রজাতির জন্য।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

পাহাড় এবং বনাঞ্চলের ভেজা এবং স্যাঁতসেতে স্থান। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল মার্চ থেকে মে মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।

বিস্তৃতি:

ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ চীন, মায়ানমার এবং মালয়েশিয়া। বাংলাদেশে প্রায় সমস্ত দেশ জুড়েই এই প্রজাতিটি পাওয়া যায়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) শ্বেতফুলি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রজাতিটির আশংকা মুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে শ্বেতফুলি সংরক্ষণের জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির সংরক্ষণ প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ বেগম, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪৭ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!