ভূমিকা: খাড়া বিষকচু (বৈজ্ঞানিক নাম: Alocasia acuminata) বাংলাদের পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মানো বিরুৎ। এই কচু সচরাচর পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক পরিবেশের সংকটের জন্য বর্তমানে জাতীয় হার্বেরিয়ামে চাষাবাদ করা হয়।
খাড়া বিষকচু-এর বর্ণনা:
এটি একটি দৃঢ় ও ঋজু বা খাড়াভাবে দণ্ডায়মান বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, যার উচ্চতা সাধারণত ৩০-৬০ সেমি এবং প্রস্থ ২.৫-৩.০ সেমি হয়ে থাকে। গাছটিতে প্রায় ৬-৮টি পাতা গুচ্ছাকারে থাকে, যেখানে প্রতিটি পত্রবৃন্ত ৩০-৬০ সেমি লম্বা এবং পত্রফলক ২০-২৫ সেমি পর্যন্ত হয়; এই ঝিল্লিযুক্ত পাতাগুলো দেখতে অনেকটা দীর্ঘায়িত হীরকাকার, যার শীর্ষভাগ লেজের মতো লম্বা এবং ভূমি খণ্ড-যুক্ত। উদ্ভিদের পুষ্পবিন্যাসটি পাতার নিচের অংশে জোড়াবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং এর ২০-৩০ সেমি লম্বা মঞ্জরীদণ্ডটি পত্রবৃন্তের চেয়ে কিছুটা খাটো হয়। এর ১২-১৬ সেমি লম্বা সবুজ রঙের চমসা বা স্পেথ (Spathe) নালি ও দণ্ড ফলকের সংযোগস্থলে সংকুচিত থাকে এবং ৯.০-১১.৫ সেমি লম্বা দীর্ঘায়িত নৌকাকৃতির দলফলকটি দেখতে সাদাভ বা হলুদাভ-সবুজ রঙের হয়। চমসার চেয়ে আকারে ছোট (১০-১২ সেমি) স্পেডিক্সের মধ্যে ১.২ সেমি লম্বা স্ত্রী পুষ্পের অংশে ফ্যাকাশে সবুজ ও বর্তুলাকার গর্ভাশয় থাকে, যার গর্ভমুণ্ড মুণ্ডাকার এবং তিন খণ্ডে বিভক্ত। এর ৩.৫ সেমি লম্বা সাদাভ বন্ধ্যা অংশের উপরে ২.৫ সেমি লম্বা ও ০.৯ সেমি ব্যাসের অর্ধবেলনাকার পুংপুষ্পধারী অংশ থাকে, যার শীর্ষভাগে ৫ সেমি লম্বা সাদাভ ও তীক্ষ্ণাগ্র উপাঙ্গ বিদ্যমান। সবশেষে, এই উদ্ভিদে লাল রঙের বেরি জাতীয় ফল এবং অর্ধবর্তুলাকার বীজ উৎপন্ন হয়, যার ক্রোমোসোম সংখ্যা ২n = ২৮।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
এই উদ্ভিদটি সাধারণত পাহাড়ের ছায়াযুক্ত ও সেঁতসেঁতে ঢালু অঞ্চলে জন্মে থাকে। মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই উদ্ভিদে ফুল ও ফল দেখা যায় এবং এর বংশবিস্তার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ, যা মূলত বীজ ও কন্দের সাহায্যেই সম্পন্ন হয়।
বিস্তৃতি:
এই উদ্ভিদটির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিস্তৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান এবং আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ তথা চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি বনাঞ্চলে এর অবস্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাহাড়ের নির্জন ছায়াযুক্ত পরিবেশে এবং সেঁতসেঁতে ঢালু ভূমিতে এর বিশেষ বিস্তার পরিলক্ষিত হয়, যা মূলত এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির সাথে উদ্ভিদটির খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার পরিচয় দেয়। মূলত মিয়ানমার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের এই নির্দিষ্ট জেলাগুলোর বনাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটিই উদ্ভিদটির প্রধান বিচরণক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১১ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) খাড়া বিষকচু প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে খাড়া বিষকচু সংরক্ষণের জন্য জাতীয় হার্বেরিয়ামে চাষ করা হচ্ছে। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে প্রকৃত আবাসস্থল ও তার বাইরে সংরক্ষণ জরুরি।
তথ্যসূত্র:
১. হোসনে আরা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
ছবিটি নেওয়া হয়েছে ফেসবুক থেকে আলোকচিত্রীর নাম: TK TN
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।