সবুজ দাঁড়াশ সাপ এশিয়ার আবাসিক ও বাংলাদেশের অপ্রতুল সাপ

সাপের প্রজাতি

সবুজ দাঁড়াশ সাপ

দ্বিপদ নাম: Ptyas nigromarginata (Blyth, 1854) সমনাম: Coluber nigromarginatus Blyth, 1854; Zaocys nigromarginatus Günther, 1864; Coluber nigromarginatus Das, 1996; Ptyas nigromarginata David and Das, 2004.; বাংলা নাম: সবুজ দাঁড়াশ সাপ, সবুজ ধারাজ, ইংরেজি নাম: Green Rat Snake.
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ রাজ্য: প্রাণী বিভাগ: Chordata উপপর্ব: Vertebrata শ্রেণী: Reptilia বর্গ: Squamata উপবর্গ: Serpentes পরিবার: Colubridae গণ: Ptyas, Fitzinger, 1843, প্রজাতি: Ptyas nigromarginata (Blyth, 1854);

ভূমিকা: সবুজ দাঁড়াশ সাপ বা সবুজ ধারাজ হচ্ছে কলুব্রিডি পরিবারের টিয়াস গণের একটি সাপের প্রজাতি। বাংলাদেশের সাপের তালিকায় এই গণে বাংলাদেশে রয়েছে ৩ টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতেও রয়েছে এই ১৩টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত এবং আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটি হচ্ছে সবুজ দাঁড়াশ সাপ। বাংলাদেশে এটি চিরসবুজ বনাঞ্চলে বসবাসরত এবং আন্তর্জাতিকভাবে এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাপ।

বর্ণনা: সবুজ দাঁড়াশ সাপের মাথা গ্রীবা চেয়ে বেশি চওড়া, পিউপিল গােলাকার। মাথা জলপাই বাদামী রঙের টেম্পােরাল এলাকায় উজ্জ্বল হলুদ রঙের প্যাচ থাকে। দেহের সম্মুখভাগের আঁইশ সবুজ রঙের, প্রান্তের দিকের অংশ কালাে রঙের। মাথার আঁইশ কালাে রঙের, দেহের পৃষ্ঠীয়ভাগের আঁইশে গাঢ় কালাে এবং হলদে বাদামী রঙের দাগ থাকে যা পরবর্তীতে কালাে এবং সাদা রঙ ধারণ করে। উদরের আঁইশ সবুজাভ সাদা এবং লেজের অঙ্কীয়ভাগে ধূসর ফোঁটা থাকে।

এদের আঁইশের বিন্যাস: ১৮ বা ১৬ : ১৬ বা ১৪ : ১৪ সারি, ৪-৬ মধ্য সারি শিরযুক্ত। অঙ্কীয় আঁইশের সংখ্যা ১৮৯-২০৯টি; পায়ুর আঁইশ জোড়ায় থাকে; নিম্ন-পুচ্ছের আঁইশের সংখ্যা ১২০-১৪২টি, জোড়ায় থাকে । সুপ্রাল্যাবিয়াল ৮টি কখনাে ৯টি হতে পারে, সাধারণত ৪র্থ এবং ৫ম টি চোখের সংস্পর্শে অবস্থিত। লােরিয়াল ১টি, প্রিঅকুলার ১টি, পােষ্টঅকুলার ২টি, টেম্পােরাল ২+২। দেহের আকৃতি: সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২৫৬ সেমি পর্যন্ত উল্লেখ্য করা হয়েছে, লেজের দৈর্ঘ্য ৭২ সেমি পর্যন্ত হয় (Smith, 1943; Whitaker and Captain, 2004)

আরো পড়ুন:  কালো পেট ঢোড়া সাপ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সাপের একটি সংকটাপন্ন প্রজাতি

স্বভাব ও আবাসস্থল: এই প্রজাতির সাপ চিরসবুজ বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। এদের স্বভাব সম্পর্কে বেশি জানা নেই তবে এরা খাদ্য হিসেবে ব্যাঙ গ্রহণ করে।

বিস্তার: বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, ভিয়েতনাম এবং মায়ানমারে পাওয়া যায় ।

অবস্থান: বাংলাদেশে অপ্রতুল তথ্যশ্রেণিতে রয়েছে (Khan, 2004)।

তথ্যসূত্র:

১. সুপ্রিয় চাকমা, জিয়া উদ্দিন আহমেদ (প্র. সম্পা.), বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ, খণ্ড: ২৫ (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০০৯), পৃ. ১৫৮।

Leave a Comment

error: Content is protected !!