আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > কলমি বিশ্বের উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শাক

কলমি বিশ্বের উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের প্রচলিত শাক

বৈজ্ঞানিক নাম: Ipomoea aquatic Forssk.

সমনাম: Ipomoea reptans Poir. (1814).

ইংরেজি নাম : Swamp Cabbage, Water Spinach, Swamp Morning-glory.

স্থানীয় নাম: কলমি শাক।

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae

বিভাগ: Angiosperms

অবিন্যাসিত: Edicots

অবিন্যাসিত: Asterids  

বর্গ: Solanales   

পরিবার: Convolvulaceae    

গণ: Ipomoea

প্রজাতি: Ipomoea aquatica.   

বর্ণনা: কলমি কাদা মাটিতে লতানো বা পানিতে ভাসমান রোমশ বিহীন বীরৎ জাতীয় উদ্ভিদ। এর শাখা দেখে ছোট রসালো, এটা সাধারণত ভাসমান । কান্ড ফাঁপা, পর্বে মূলোদগম। পত্র ৫-৯ x ২-৫ সেমি, ডিম্বাকার, ডিম্বাকৃতি-দীর্ঘায়ত, ব-দ্বীপাকার, ভল্লাকার বা রৈখিক, মূলীয় অংশ তাম্বুলাকার, তীরাকার, বল্লমাকার। পুষ্প ১ থেকে স্বল্প সংখ্যক, অক্ষীয় সাইমে বিন্যস্ত। বৃতি খন্ড অর্ধসম, ৭-১০ মিমি লম্বা। দলমন্ডল চোঙ্গাকৃতি, ২.৫-৫.০ সেমি লম্বা, ফ্যাকাশে লাল, কণ্ঠনালী গাঢ় নীল রক্তিমাভ। পুংকেশর অভ্যন্তরস্থ, মূলীয় অংশ ঘন কোমল রোমাবৃত, পুংদন্ড নিম্নাংশে রোমশ, গর্ভপত্র ২টি, যুক্ত গর্ভপত্রী । ফল ক্যাপসিউল, আড়াআড়ি ০.৮ সেমি, স্থায়ী, রোমশ বিহীন, ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, বৃতি ফলে বিদ্যমান।

ফুল ও ফল ধারণ: জানুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ৩০ (Fedorov, 1969).

আবাসস্থল: ভিজা নিম্নভূমি, পুকুর ও জলাশয়ের তীরবর্তী অঞ্চল।

বিস্তৃতি: বিশ্বের উষ্ণমন্ডল জুড়ে বিস্তৃত। বাংলাদেশের সর্বত্র জন্মে।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:

পত্র ও কান্ড উপাদেয় সবজি, মহিলাদের স্নায়ু ও সাধারণ দৌর্বলে উপকারী । পাতার রস জ্বর নিবারক। কৃমি, কুষ্ঠ, শ্বেতী, জ্বর ইত্যাদি সমস্যা নিরসনে ফুলের ও পাতার মুকুল কার্যকর (Ghani, 2003)

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: ভারতের লোধা আদিবাসী সন্তান  প্রসবের পর প্রসূতির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য এই উদ্ভিদের ক্বাথ ব্যবহার করে। তারা জন্ডিস রোগ নিরাময়ের জন্য পাতার রস গরুর দুধের সাথে মিশ্রিত করে গ্রহণ করে থাকে। সাঁওতাল আদিবাসীরা ফুলের রস চক্ষুপীড়ায় ব্যবহার করে থাকে। তারা উদ্ভিদের রস কুষ্ঠ, ক্ষত, আর্সিনিকের বিষক্রিয়া নিরসনেও গ্রহণ করে (Pal and Jaih, 1998)।

অন্যান্য: এই শাকের বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষের সপ্তম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  বর্তমানে প্রজাতিটির সংকটের উল্লেখ নেই। বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা আশংকা মুক্ত (lc)। বাংলাদেশে এটিকে সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি এবং বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. বুসরা খান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ০৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩১৫-৩১৬।আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  দেতরা বা বান্দল দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার ঔষধি লতা
Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page