বড় লজ্জাবতী গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় অঞ্চলের লতা

বড় লজ্জাবতী

বৈজ্ঞানিক নাম: Mimosa diplotricha C. Wright ex Sauv. var. diplotricha Nielsen, Fl. Mal. Ser. 1, 11(1): 184 (1092). সমনাম: Mimosa invisa Mart. ex Colla. (1834), Mimosa invisa non Mart. ex Coll. var. invisa Verdc. (1979). ইংরেজি নাম: জায়ান্ট সেন্সেটিভ প্লান্ট। স্থানীয় নাম: তেইরা কাঁটা, বড় লজ্জাবতী ।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae অবিন্যাসিত: Eudicots বিভাগ: Angiosperms বর্গ: Sapindales পরিবার: Rutaceae গণ: Mimosa প্রজাতি: Mimosa diplotricha.

ভূমিকা: বড় লজ্জাবতী ( বৈজ্ঞানিক নাম: Mimosa diplotricha) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।

বড় লজ্জাবতী-এর বর্ণনা:

দূরপসারী অথবা হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ে ওঠে এমন কাষ্ঠল আরোহী, ১-২ মিটার উঁচু। কান্ড চতুষ্কোণী, কণ্টকিত, কন্টকগুলো ৪ সারিতে সজ্জিত, ৩-৪ মিমি লম্বা এবং নিচের দিকে বাঁকা। পাতা পক্ষল যৌগিক এবং ৩৫ সেমি লম্বা বৃন্তবিশিষ্ট। পত্রাক্ষ ৬-১১ সেমি লম্বা, অনুদৈর্ঘ্য খাঁজবিশিষ্ট, রোমশ, পক্ষগুলোর সংযোগস্থলে একটি সোজা কন্টক বর্তমান। পক্ষ ৪-৭ জোড়া, ১.০-৪.৫ সেমি লম্বা, রোমশ, নিম্নপৃষ্ঠে কতিপয় নিম্নমুখী বক্র কন্টক বর্তমান। পত্রক ১২-২১ জোড়া, ২.০-৩.৫ × ০.৮-১.০ মিমি, দীর্ঘায়ত, কখনও কখনও ৫-৭ × ২ মিমি পর্যন্ত, উভয়পৃষ্ঠ বিক্ষিপ্তভাবে রোমাবৃত। পুষ্পমঞ্জরী মঞ্জরীদন্ডক শিরমঞ্জরী, একক অথবা দূরবর্তী পাতার কক্ষে জোড়ায় জোড়ায়। পুষ্প প্রায় অবৃন্তক, উভলিঙ্গ, সমাকৃতির। বৃতি ৪ মিমি (প্রায়) লম্বা, অস্পষ্ট, বৃত্যংশগুলো সংযুক্ত, প্রান্তস্পর্শী। দলমন্ডল ২ মিমি (প্রায়) লম্বা, চুঙ্গি আকৃতির, সুক্ষ্ম রোমাবৃত, খন্ডকগুলো ১ মিমি (প্রায়) লম্বা, ডিম্বাকার, স্থূলাগ্র। পুংকেশর ৮টি, পুংদন্ড সূত্রাকার, পাটল বর্ণ-সাদা, দলমন্ডল থেকে বের হয়ে থাকে। গর্ভাশয় ১ মিমি (প্রায়) লম্বা, বৃন্তক অথবা প্রায় অকৃন্তক, ক্ষীণ রোমাবৃত। ফল পড, ১.৫-৩.৫ × ০.৪-০.৫ সেমি দীর্ঘায়ত, কিঞ্চিৎ বাঁকা এবং কিনারা বরাবর ও ভাল্ব এর পৃষ্ঠভাগে খর্বাকার কন্টকবৎ কুর্চ বিদ্যমান। বীজ হলুদাভ বাদামী, কিছুটা চকচকে, ৩.৫ মিমি (প্রায়) লম্বা। ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ২৪।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

চিরহরিৎ অরণ্যের নির্বনীকৃত এলাকা এবং গ্রাম্য ঝোপ-ঝাড়, রাস্তার ধারে, তৃণভূমি, পরিত্যক্ত জমি, খালের পাড় এবং অন্যান্য উপদ্রুত আবাসস্থল। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল সারা বৎসর। বীজ এবং শাখা কলমের সাহায্যে বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি :

আদি নিবাস গ্রীষ্ম প্রধান আমেরিকা, সমগ্র গ্রীষ্মমন্ডলে প্রবর্তিত, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াতে, এশিয়ায় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি এবং ফিলিপাইনে বিস্তৃত। বাংলাদেশে ইহা প্রবর্তিত এবং সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার চা-বাগান সমূহে ইহা রোপন করা হয়।

ব্যবহার:

ইহা একটি আগাছা জাতীয় উদ্ভিদ এবং অন্যান্য আগাছা দমিয়ে রাখতে শস্য আবরক হিসেবে চাষ করা হয়। থাইল্যান্ডে ইহা শস্য আবরক হিসেবে প্রবর্তিত কিন্তু জাভাতে ইহা একটি বিরক্তিকর আগাছা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বড় লজ্জাবতী প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি আশংকা মুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বড় লজ্জাবতী সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. বি এম রিজিয়া খাতুন, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৯ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Obsidian Soul

Leave a Comment

error: Content is protected !!