চিচিঙ্গা লতার ছয়টি ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ

বর্ষজীবী লতানে উদ্ভিদ। লতার গায়ে সক্ষম সক্ষম রোম এবং গাঁট আকর্ষযুক্ত, এই আকর্ষ দ্বারাই মাচায়, বেড়াতে ও অন্য গাছকে আঁকড়িয়ে ধরে ওপর দিকে ওঠে। পাতা ৫টি কোণ বিশিষ্ট এবং উভয়দিকে কোমল রোম আছে, লতা ও পাতা উভয়ই নরম। লাউ কুমড়ার মতো পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শ্বেত বর্ণের ফল একই গাছে জন্মে। পুরুষ জাতীয় ফুলের বোঁটা লম্বা ও স্ত্রী জাতীয় ফুলের বোঁটা ছোট, এই স্ত্রী জাতীয় ফুল থেকেই ফল হয়। ফল প্রায় ৩-৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা ও ব্যাস ১-১২ ইঞ্চি হতে দেখা যায়। এর গায়ে সাদা ও সবুজ রঙের ডোরাযুক্ত চিত্রিত দাগ থাকে। এতে ডিম্বাকৃতি, চেপ্টা ও কিনারা ঢেউ খেলানো মেটে রঙের বহু বীজ থাকে। চিচিঙ্গা বনচিচিঙ্গা অপেক্ষা লম্বা হয়ে থাকে। সাধারণতঃ গ্রীষ্মের প্রারম্ভে বীজ লাগানো হয়, বর্ষায় ফুল তৎপরে ফল হতে শুরু করে। এর আদি জন্মস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, তবে বর্তমানে ভারতের সর্বত্র সবজি হিসেবে অল্পবিস্তর চাষ হয়ে থাকে।

চিচিঙ্গা-এর অন্যান্য নাম:

এর সংস্কৃত নাম চিচিঙ্গা, বাংলায় প্রচলিত নাম চিচিঙ্গা ও হিন্দীতে চেচিঙ্গা নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম Trichosanthes anguina Linn. ও ফ্যামিলি Cucurbitaceae.

গুণাগুণ:

এটি রসবহস্রোতে কাজ করে। ইহা শীতল, ক্রিমিনাশক, বিরেচক ও বলকারক। এর ফল বিরেচনে ও ক্রিমির উপদ্রব নিবারণে হিতকর। ফিলিপাইনে এটিকে বমনকারক ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া এটি বলকারক, তৃষ্ণা ও পিত্তের প্রশমক। কেউ কেউ এর বীজ ও মূল উদরাময়েও প্রয়োগ করে থাকেন। ইউনানী চিকিৎসকদের মতে এর বীজ ক্ষুধাবর্ধক। ঔষধার্থ ব্যবহার্য অংশ-পাতা, ফল ও বীজ।

চিচিঙ্গা-এর উকারিতা:

১. মাসিক ঋতু বন্ধে: যাঁদের মাসিক ঋতু আর হচ্ছে না, হয়তো বা শরীরে মেদ বেড়ে যাওয়াতে কমতে কমতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে চিচিঙ্গার ডাঁটা-পাতার রস ১ চা-চামচ সম-পরিমাণ জল মিশিয়ে অল্প গরম করে সকালে ও বিকালে দু’বার খেতে হবে; কয়েক দিন খেলেই মাসিক ঋতুটা হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন:  সোনাপাতা বা কেতুরী হলদি-এর গুণাগুণ

২. চর্মরোগে: যে চর্মরোগ পুরনো হয়ে গিয়েছে, সারছে না— সেক্ষেত্রে চিচিঙ্গার ডাঁটা ও পাতা একসঙ্গে রস করে, ছেকে, সমপরিমাণ জল মিশিয়ে, একটু গরম করে, ২ চা-চামচ নিয়ে সকালের দিকে একবার খেতে হবে। তবে প্রয়োজনবোধে দু’বারও খাওয়া যায়। আর ওই রসে জল না মিশিয়ে ব্যাধিতস্থানে একবার লাগাতে হবে, আধঘণ্টা বাদে ওটা ধুয়ে ফেলতে হবে, এইরকম ২-৩ দিন লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।

৩. অরুচিতে: চিচিঙ্গে সিদ্ধ করে, অল্প লবণ মিশিয়ে ও মরিচের গুড়া ছিটিয়ে খেতে হয়। এটাতে অরুচি সেরে যায়।

৪. অগ্নিমান্দ্য: চিচিঙ্গা ফলের রসকে একটু গরম করে, তা থেকে এক-দেড় চা-চামচ নিয়ে তার সঙ্গে একটু চিনি মিশিয়ে সকালের দিকে একবার করে খেতে হবে। দরকার হলে বিকালের দিকেও একবার খাওয়া যায়।

৫. ক্রিমিতে: চিচিঙ্গার বীজ চূর্ণ ৫০০ মিলিগ্রাম প্রত্যহ সকালে একবার করে খেতে হবে। তবে পাকা ফলের বীজ হওয়া চাই।

৬. অতিসার রোগে: চিচিঙ্গ মূলের রস ১ চা-চামচ, তার সঙ্গে ২ চা-চামচ জল মিশিয়ে অল্প গরম করে, ছেকে প্রত্যহ একবার করে খেতে হবে। এর দ্বারা অতিসার রোগের নিরাময় হবে।

CHEMICAL COMPOSITION

1. The analysis of fruits (per 100 g of edible matter):— (a) Moisture 94.6%, (b) Protein 0.5%, (c) Fat 0.3, (d) Fibre 0.8 (e) other carbohydrates 3.3, (f) Mineral matter 0.5 [Calcium, Iron, Sodium, Potassium, Copper], (f) Oxalic acid 34.0 (g) Phosphorus 20.0, (h) Chlorine 0.3. 2. Vitamins :- Thiamine 0.04, (b) Riboflavin 0.06, (c) Nicotinic acid 0.3. 3. Carotene (96 ug). 4. Free amino acids. 5. Glucose and Fructose. 6. Enzymes (a) Elaterase, (b) Esterase. 7. Chondrillasterol. 8. Fatty acids, (a) Trichosanic acid 40.2%, (b) Linoleic acid 15.4%, (c) Oleic acid 26.0%, (d) Palmitic acid 2.8%, (e) Stearic acid 9.5%.

আরো পড়ুন:  দেশী ছোট এলাচ বা মধুনিক্কন দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৪, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৮৪-১৮৫।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Bhaskaranaidu

Leave a Comment

error: Content is protected !!