ভূমিকা: পানি কেশুরী ( বৈজ্ঞানিক নাম: Macropanax oreophilum) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মে।
পানি কেশুরী-এর বর্ণনা:
ছোট বা মধ্যম-আকৃতির চিরহরিৎ বৃক্ষ, অনূর্ধ্ব ১০ মিটার লম্বা, বাকল ধূসর, আঁচিলযুক্ত ও কিছুটা খসখসে। পত্র আঙ্গুলাকৃতিতে ৩-৫ ফলকপত্র, পত্রবৃন্ত ১০-১৫ সেমি লম্বা, পত্রক আয়তাকার বা উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার, ১০-১৫ × ৩-৪ সেমি, নিম্নাংশ গোলাকার থেকে সূক্ষ্মাগ্র, পার্শ্ব শিরা ৬-১০ জোড়া, অণুবৃন্ত ১-৬ সেমি লম্বা। ছত্রমঞ্জরীর পুষ্পবিন্যাস, শাখায় অনিয়ত, আড়াআড়িভাবে অনূর্ধ্ব ১.৭ সেমি লম্বা, সর্ববৃহৎটি প্রান্তীয়, নীচের গুলি ক্ষুদ্রতর, প্রায়শঃ পর্ণমোচী, যৌগিক মঞ্জরী মরিচাবৎ-তারকাকার ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, মঞ্জরীপত্র ক্ষুদ্র, সরু, বল্লমাকার, দীর্ঘাগ্র, আশুপাতী, পুষ্পবৃস্তিকা ৩-৭ মিমি লম্বা, সূক্ষ্মভাবে তারকাকার রোমশ, মঞ্জরীপত্রিকা স্বল্প সংখ্যক, পর্ণমোচী। পুষ্প আড়াআড়িভাবে ৩ মিমি, সবুজাভ-হরিদ্রা। চক্র (ফলক) বৃহৎ, স্পষ্টতঃ শাঙ্কব। পুংকেশর ৫টি। গর্ভাশয় ২-কোষী, গর্ভদণ্ড ২টি, সংযুক্ত, স্থায়ী। ফল প্রায় ৭ মিমি লম্বা, ডিম্বাকার, স্থায়ী গর্ভদণ্ড দ্বারা মুকুটিত। ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২০ = ৪৮।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: প্রাথমিক ও গৌণ বনাঞ্চল। ফুল ও ফল ধারণ আগষ্ট থেকে মার্চ। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।
বিস্তৃতি:
ভারত, নেপাল, মায়ানমার ও চীন। বাংলাদেশে ইহা সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলায় পাওয়া গেছে।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পানি কেশুরী প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রজাতিটির আশংকা মুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে পানি কেশুরী সংরক্ষণের জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির ইন-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
- পানি কেশুরী বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড়কুচ পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ময়নাকাঁটা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- নাগেশ্বর পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- কুমারি বুড়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উপকারি বৃক্ষ
- সিন্দুরি গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মে
- শাল গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ছোট জাগরা বাংলাদেশের পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি জাগরা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বৃক্ষ
- ভল্লা পাতা জাগরা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড় কুকুরচিতা চিরহরিৎ ভেষজ বৃক্ষ
- বড়হরিনা ভেষজ গুণসম্পন্ন ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ
- পুবদেশি বনচালতা বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদ
- পলক জুঁই সুগন্ধি আলংকারিক বৃক্ষ
- গন্ধাল রঙ্গন দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ছোট বৃক্ষ
- গোমরিয়া গামার পার্বত্যঞ্চলের ভেষজ বৃক্ষ
- চালমুগড়া বা ডালমুগরি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ঝাউয়া বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো উপকারী বৃক্ষ
- স্থল পদ্ম গ্রীষ্মমন্ডলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- হরপুল্লি বাংলাদেশে পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো বৃক্ষ
- দাকুম দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো পত্রঝরা বৃক্ষ
- পানিসরা বা পিচান্দি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের উপকারী বৃক্ষ
- ফলসা দক্ষিণ এশিয়ার জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি কার্পাস এশিয়ায় জন্মানো বর্ষজীবী বৃক্ষ
- দেশি কচুয়া পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো চিরহরিৎ বৃক্ষ
- অরনি বা বাতঘ্নী এশিয়ায় জনানো ভেষজ উদ্ভিদ
- চিল্লা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গাছ
- স্বর্ণমূলা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- সপ্তরঙ্গী-এর ভেষজ গুণ সম্পন্ন বৃক্ষ
- মায়াফল গাছ-এর তেরটি ভেষজ গুণাগুণ
তথ্যসূত্র:
১. এ বি এম রবিউল ইসলাম এবং এ বি এম এনায়েত হোসেন, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২২৫ আইএসবিএন 984-30000-0286-0
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।