ঘেট কচুকে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে ঘেঁটকোলও বলা হয়ে থাকে। তামিল প্রদেশে করুণাইকিঝাংগু, তেলেগুতে দূরাদাকাণ্ডাগাড়া ও মালয়ে চেনা নামে এটি পরিচিত। এর বোটানিক্যাল নাম Typhonium trilobatum (Linn.)Schott. পূর্বে এটির নাম ছিল Arum trilobatum Linn.,ফ্যামিলী Araceae, ভারতে এই গণের ১৬টি প্রজাতি পাওয়া যায়। ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ: কন্দ, ডাঁটা ও পাতা।
ঘেট কচু-এর প্রয়োগ:
১. অর্শে: রক্তার্শ বা শুষ্কার্শ যাই হোক না কেন, সব অর্শেই কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে। এক্ষেত্রে ঘেঁটকচুর কন্দের তরকারি কয়েকদিন ভাতের সঙ্গে খেলে পায়খানা পরিষ্কার হয়ে গিয়ে কষ্টের লাঘব হয়। এটির সেবনে রক্তস্রাবও কমে যায়। বেশ কিছুদিন খেতে পারলে অর্শের বলি ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে।
২. উদরশূলে: পেটব্যথা, অবশ্য তা অম্বলের জন্য নয়, এর কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, দাস্ত পরিষ্কার হচ্ছে না, পেটে মাঝে মাঝে বায়ু জমে, ক্ষিদেটা ঠিক ঠিক ভাল হয়; তখন এই ঘেঁটকচুর ডাঁটার বা কন্দের তরকারি কয়েকদিন ভাতের সঙ্গে খেলে পায়খানা পরিষ্কার হয়ে গিয়ে বায়ু নিঃসরিত হয়ে যায় এবং পেটের ব্যথা থাকে না, ক্ষুধাবৃদ্ধি হয়।
৩. ফোড়া সারানো: যেসব ফোড়া খুবই শক্ত হয়, পাকে না আবার বসেও না, সেক্ষেত্রে এর কন্দ বেটে গরম করে প্রলেপ দিলে ভাল কাজ হয়। দিনে ২ বার করে পর পর কয়েকদিন দিলে অবস্থাটা বোঝা যাবে।
৪. হুলের জ্বালায়: ভীমরুল, বোলতা, মৌমাছি, ভোমরা, বিছা, বিষাক্ত পিপড়া প্রভৃতি হুল ফোটালে যে যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়, সেই যন্ত্রণা কমাবার জন্য যদি ঘেঁট কচুর মূল বেটে গরম করে লাগানো হয়ে থাকে তাহলে অতি সত্বর যন্ত্রণা কমে যায়।
CHEMICAL COMPOSITION
Typhonium trilobatum (Linn.) Schott. Edible portion of the tubers contain: moisture 69.9, protein 1.4, fat 0.1, fibre 1.0, carbohydrates 26.0 and mineral matter 1.6%, calcium 35 mg., phosphorus 20 mg., iron 1.3 mg., sodium 9 mg., potassium 237 mg, thiamine 0.07% and niacin 0.7 mg/100 g.; carotene 78%, folic acid 17.5 mg./100 g.; idone 0.8 ppm., fluorine 3.7 ppm. and choline 22.8 mg./100 g. (as chloride). Alcoholic extract of tubers contain: B-Sitosterol, two unidentified sterols (Sterol A and Sterol B) and a crystalline compound m.p. 95°.
সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।
তথ্যসূত্রঃ
১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ১৭৯-১৮১।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Krzysztof Ziarnek, Kenraiz
- কেতুরী হলদি দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় জন্মানো কন্দ প্রজাতি
- শঠি বা শটি কন্দের নানাবিধি ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ
- সটি বা ফইল্লা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- হলুদ বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও ভেষজ গুণসম্পন্ন মসলা
- কালা হলদি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- আমাদা বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ভেষজ কন্দজ প্রজাতি
- কচু বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ভেষজ সবজি
- গাং কনুর বাংলাদেশে জন্মানো বহুবর্ষজীবী কন্দ বীরুৎ
- বিষ কনুর বাংলাদেশে পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- দেশি কনুর ভেষজ গুণসম্পন্ন বাহারি বিরুৎ প্রজাতি
- লম্বা ফানকচু দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ার অরণ্য বিরুৎ
- চীনা বিষকচু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ
- খাড়া বিষকচু বাংলাদেশের ঝোপ-ঝাড়ে জন্মানো সংকটাপন্ন বিরুৎ
- বচ বাংলাদেশের জলাভূমিতে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- ওল কচু দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষজীবী ভেষজ কন্দজাতীয় গুল্ম
- কলাবতী জলাশয়ের পাশে জন্মানো কন্দজাতীয় বিরুৎ
- বিট লোহা আর ফসফরাস সমৃদ্ধ ভেষজ গুণ সম্পন্ন সবজি
- মিষ্টি আলু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে লতান বীরুৎ
- রসুন সারা দুনিয়ায় ব্যবহৃত জনপ্রিয় সবজি মসলা
- আদা হচ্ছে জিঞ্জিবার গণের ছোট কন্দজ ঔষধি বীরুৎ
- কেও বা কেঁউ গাছ: প্রকৃতিতে এক দৃষ্টিনন্দন ভেষজ ভাণ্ডার ও তার বহুমুখী ব্যবহার
- মুলা বা মুলোর সবজির পনেরটি ভেষজ উপকারিতা
- ওল বা ওলকচু খাওয়ার ষোলটি ভেষজ গুণাগুণ ও উপকারিতা
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।