সেগুলি আমাদের সহজলভ্য ছত্রাক অথাৎ পলছত্রাক, খড়ছাতু বা পোয়াল ছাতু/ছাতাকে নিয়ে, তবে Agaricus campestris ছত্রাকটিও ঐসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োগের আগে এটিকে ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে হবে। এটি তাজা বা শুকনো উভয়ভাবে খাওয়া যায়। ছোট টুকরো টুকরো করে ধুয়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। পূর্বলিখিত প্রক্রিয়ায় তাকে প্রস্তুত করে সেটিকে সামান্য বাদাম বা সরষের তেলে অল্প ভেজে নিতে হবে, অথচ যেন সুসিদ্ধ হয়। এই ভাজা ছাতুই ঔষধার্থে ব্যবহার্য।
১. কোষ্ঠবদ্ধতায় : দু’ একদিন অন্তর অন্তর দাস্ত হয়, মল গুটলে গুটলে, দাস্ত পরিষ্কার হবার ঔষধ খেলে ২/১ দিন ভাল থাকে, তারপর আগের মতোই হয়ে যায়; সেক্ষেত্রে ভাজা ছাতু আন্দাজ ২৫ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার করে ভাতের সঙ্গে বা অন্য যেকোন সময়ে ৫/৭ দিন খেলে ওটা চলে যায়। তবে মাঝে মাঝে খেয়ে রাখলে খুব ভাল হয়।
২. আমাশায়: সাদা আমাশা কখনো কখনো শক্ত মলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, দাস্ত পাতলা হলে তার সঙ্গে থোকা থোকা আমও পড়ে, এক্ষেত্রে ভাজা ছাতু বা ছাতা আন্দাজ ২৫ গ্রাম মাত্রায় নিয়ে দিনে ২ বার করে খেতে হবে। এটি ব্যবহারকালীন আমাশা বৃদ্ধিকারক কোন দ্রব্য, যেমন পুঁইশাক, গুরুপাক দ্রব্য, অতিরিক্ত শাক বা তরকারি খাওয়া চলবে না। এভাবে নিয়ম মেনে ১০ থেকে ১৫ দিন খেলে আমাশা চলে যায়।
৩. দৌর্বল্যে : রোগান্তিক দুর্বলতা অর্থাৎ কোন রোগ থেকে সেরে ওঠার পর দুর্বলতা বা অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা—যেটাই হোক না কেন, এ অবস্থায় ভাজা ছাতু ২৫ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার করে খেতে হবে। খাওয়ার পর এক কাপ করে গরম দুধ খাওয়া দরকার। মাসখানিক খেলে অবস্থার পরিবর্তন হবে।
৪. সম্ভোগশক্তির স্বল্পতায় : এটি বার্ধক্যের শেষ স্তরে এসে দেখা দিলে তখন অবশ্য করার কিছুই নাই। যৌবনে ও প্রৌঢ়াবস্থায় এই শক্তির অভাব হলে মানসিক অস্বাচ্ছন্দ্যবোধের জন্ম হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ভাজা ছাতু বা ছাতা ২৫ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার করে কিছুদিন খেতে হবে। ২/৩ মাস খেলে চমৎকার কাজ হয়ে থাকে।
সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।
তথ্যসূত্রঃ
১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ১২৬।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Thomas Pruß
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।