[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Mareca falcata সমনাম: Anas falcata বাংলা নাম: ফুলুরি হাঁস ইংরেজি নাম: Falcated Duck জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Mareca, Linnaeus, 1758; প্রজাতি/Species: Mareca falcata Georgi, 1775[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Mareca গণে বাংলাদেশে রয়েছে ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৫টি প্রজাতি রয়েছে। আমাদের আলোচ্য হাঁসটি হচ্ছে ফুলুরি হাঁস।
বর্ণনা: ফুলুরি হাঁস বর্গাকার মাথা ও কালচে ঠোঁটওয়ালা মাঝারি আকারের হাঁস (দৈর্ঘ্য ৫১ সেমি, ওজন ৬৫০ গ্রাম, ডানা ২৩.৫ সেমি, ঠোঁট ৪ সেমি, পা ৩.৮ সেমি, লেজ ৮.৫ সেমি)। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। প্রজননকালে ছেলেহাঁসের মাথা গাঢ় সবুজ; কাস্তের মত বাঁকানো সুদর্শন পালক লেজের ওপর পড়ে; দেহ ধূসর; কালো বেড় ওয়ালা সাদা গলা, গলাতে সবুজ বলয়; বুকে সাদা-কালো নকশা; ডানার পতাকা উজ্জ্বল সবুজ; লেজের তলা হলুদ আর কালো; চোখের রঙ ঘন বাদামি; এবং ঠোঁট ও পা কালো। মেয়েহাঁসের মাথা ধূসর; শরীরে বাদামি ডোরা; ওড়ার সময় ধূসরাভ ডানা ও সাদা ডানা-তল স্পষ্ট দেখা যায়। প্রজননকাল ছাড়া ছেলে তার কাল চাঁদি, ঘাড় ও পিঠ বাদে দেখতে মেয়েহাঁসের মত। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মেয়েহাঁস দেখতে একই রকম।
স্বভাব: ফুলুরি হাঁস অগভীর বাদাবন ও জলমগ্ন উদ্ভিদময় জলাভূমিতে বিচরণ করে; সাধারণত একা, জোড়ায় বা অন্য হাঁসের দলে দেখা যায়। অগভীর জলে মাথা ডুবিয়ে এরা আহার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে জলজ লতাপাতা ও কীটপতঙ্গ। বনবন শব্দ করে এরা জোরে উড়ে যায়; প্রজনন ঋতু ছাড়া নীরব থাকে; প্রজনন ঋতুতে সাঁতার কাটার সময় মুরিগর মত ডাকে ও ওড়ার সময় শিস্ দেয়। মে-অক্টোবর মাসের প্রজনন ঋতুতে উত্তর-পূর্ব চিন ও সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে পানির কাছাকাছি মাটিতে নল ও পালক বিছিয়ে বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো পীতাভ-সাদা, সংখ্যায় ৬-১০টি; মাপ ৫.৬ × ৪.০ সেমি। ২৪-২৫ দিনে ডিম ফোটে।
বিস্তৃতি: ফুলুরি হাঁস বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; শীতে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের মিঠাপানির জলাভূমিতে দেখা যায়। পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি পাকিস্তান থেকে শুরু করে ভারত, নেপাল, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, জাপান, ইরান, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে।
অবস্থা: ফুলুরি হাঁস বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এরা এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে বিবেচিত। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম প্রায়-বিপদগ্রস্ত (Near Threatened NT) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]
বিবিধ: ফুলুরি হাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ কাস্তে-পালকের হাঁস (ল্যাটিন: Anas = হাঁস, Falcatus = কাস্তের মত) ।
তথ্যসূত্র:
১. মনিরুল এইচ খান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -২৪। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Mareca falcata“, www.iucnredlist.org/details/22680153/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৫ আগস্ট ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫০।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।