যদি কোনো দিন

যদি কোনদিন দিগন্তের উপরে মাথা তুলে দাড়াতে পারি আমি তোমাদের সব হিসেব মিটিয়ে দিয়ে দেবো। মেঘ বরণ কাঁশ ফুলের মত আঙুলে ক্যারাম খেলা দেখেছি জানালার বাইরে থেকে চোখ তুলে নিঃশব্দে কতদিন বলতে চেয়েছি শুধু ১ বার তোমরা আমাকে খেলতে নাও দেখেও দেখেনি তারা কোনোদিন । গোঁয়াল ঘরের পেছনে পোষা কুকুরের গলায় মুখ রেখে অস্ফুটে বলেছি … Read more

দূর থেকে দেখো

আমি আমার ভাবনাগুলোকে চামচে ক’রে নাড়তে থাকব— অন্য কোনো টেবিল থেকে তুমি শুনো। সামনে দাঁড় করানো থাকবে কাপ আমার কোলের ওপর দুটো আঙুল কুরুশকাঠির মত বুনবে স্মৃতির জাল— তুমি অন্য কোনো টেবিল থেকে দেখো। তারপর যখন জুড়িয়ে জল হয়ে যাবে সময় চেয়ারে শব্দ ক’রে আমি উঠে পড়ব পেছনে একবারও না তাকিয়ে আমি চলে যাব যেখানে … Read more

আমি আসছি

আকাশে তাকালাম তোমার মুখ চোখ বন্ধ করলাম তোমার মুখ বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। কচি কচি কন্ঠে দিন আর রাত্রিকে টুকরো টুকরো ক’রে কারা কাঁদছে মৃত্যুর আতঙ্কে জীবনকে জড়িয়ে ধ’রে কারা কাঁদছে তাই বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। আমি আসছি— দুহাতে অন্ধকার ঠেলে ঠেলে আমি আসছি। সঙিন উদ্যত করেছ কে? সরাও। বাধার দেয়াল … Read more

মেজাজ

থলির ভেতর হাত ঢেকে শাশুড়ি বিড় বিড় ক’রে মালা জপছেন; বউ গটগট করে হেটে গেল। আওয়াজটা বেয়াড়া; রোজকার আটপৌরে নয়। যেন বাড়িতে ফেরিওয়ালা ডেকে শখ করে নতুন কেনা হয়েছে। সুতরাং মালাটা থেমে গেল; এবং চোখ দুটো বিষ হয়ে ঘাড়টাকে হেলিয়ে দিয়ে যেদিকে বউ যাচ্ছিল সেইদিকে ঢ’লে পড়ল। নিচের চোয়ালটা সামনে ঠেলে দাঁতে দাঁত লাগল। বিলক্ষণ … Read more

পুপে

মেয়ে আমার পুপে যখনই যায় ছাতে ছোট্ট ছোট্ট হাতে প্রকান্ড নীল আকাশটা চায় না দিলে নেয় লুফে। পুপে যখন বড় হবে তখন অন্য বায়না মেলায় কিনে দিতে হবে চিরুনি আর আয়না। আমি যতই হই না কেন আলসে, বাপের ঘরে থাকবে নাকো জানি চিরকাল সে। সিঁদুর পরতে গিয়ে যখন খুলবে রুপোর কৌটো: হঠাৎ মনে হতেও পারে … Read more

ছাপ

কেউ দেয় নিকো উলু কেউ বাজায়নি শাঁখ, কিছু মুখ কিছু ফুল দিয়েছিল পিছুডাক। পরনে ছিল না চেলি গলায় দোলে নি হার; মাটিতে রঙীন আশা পেতেছিল সংসার। আকাশের নীল গায়ে শপথের ইস্পাত; দরজায় পিঠ দিয়ে বাইরে গভীর রাত। সারা বাড়ি থমথমে সিঁড়ি একদম চুপ দেয়ালে নাচায় ধোঁয়া জানালায় রাখা ধূপ! মুঠো মুঠো তারা নিয়ে কড়ি খেলছিল … Read more

ড্যাং ড্যাং ক’রে

এক পায়ে ঊর্ধ্ব বাহু হয়ে দাঁড়িয়ে জটাধারী একটি গাছ ঝুঁকে প’ড়ে যত দেখে তত অবাক হয়— ট্যাঁকে বাচ্চা নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি বাসন মাজে রাত্তিরে গাছতলায় মাদুর বিছিয়ে শোয় যে মেয়েকে স্বামীও নেয় না যমেরও অরুচি — ছি ছি! আবার তার ছেলে হবে! জলের কলে সেই লজ্জাকে ঢাকতে হাঁটি- হাঁটি পায়ে মার হাতে ছেঁড়া … Read more

দীক্ষিতের গান

পালাবার পথে ধুলো-ওড়ানোর দঙ্গলে, ভাই আমিও ছিলাম একজন; আজ প্রাণপণে তাই ভীরুতার মুখে লাথি মেরে লাল ঝান্ডা ওঠাই। গা থেকে পাঁকের গলিত গন্ধ ধুয়ে মুছে দাও স্বপ্নজড়িত জীবনের দ্বিধা চাবুকে ছোটাও হাঁটু ছিঁড়ে যাক, দুপায়ে রক্তকদম ফোটাও। বিপদ তাড়ানো আওয়াজে আজকে হাঁকো হৈ হৈ ফাঁসিতে দিয়েছি জীবন, মরতেও পিছপাও নই গৃহকলহকে দূরে ঠেলে এসো একজোট … Read more

সালেমনের মা

পাগল বাবরালির চোখের মত আকাশ। তার নিচে পাঁঁচ ইস্টিশান পেরনো মিছিলে বার বার পিছিয়ে পড়ে বাবরালির মেয়ে সালেমন খুঁজছে তার মাকে। এ কলকাতা শহরে অলিগলির গোলোকধাঁঁধায় কোথায় লুকিয়ে তুমি, সালেমনের মা? বাবরালির চোখের মত এলোমেলো এ আকাশের নীচে কোথায় বেঁধেছো ঘর তুমি, কোথায় সালেমনের মা? মিছিলের গলায় গলা মিলিয়ে পিচুটি-পড়া চোখের দুকোণ জলে ভিজিয়ে তোমাকে … Read more

তোমাকে বলি নি

আকাশে তুলকালাম মেঘে যেন বাজি ফোটানোর আওয়াজে কাল তোমার জন্মদিন গেল। ঘরে বৃষ্টির ছাট এলেও জানালাগুলো বন্ধ করি নি— আলো-নেভানো অন্ধকারে থেকে থেকে ঝিলিক-দেওয়া বিদ্যুতে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তোমার মুখ। আর মাঝে মাঝে হাওয়া এসে নড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছিল তোমাকে ভালবেসে দেওয়া টেবিলে রাখা গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল। কাল কেন আমি ঘুমোতে পারি নি তোমাকে বলি নি— … Read more

error: Content is protected !!