হলদেপা নাটাবটের বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Turnix tanki সমনাম: নেই বাংলা নাম: হলদেপা নাটাবটের, বটের (আলী) ইংরেজি নাম: Yellow-legged Buttonquail (Buttonquail) জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Turnicidae গণ/Genus: Turnix, Bonnaterre, 1791; প্রজাতি/Species: Turnix tanki Blyth, 1843[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Turnix বা নাটাবটের গণে রয়েছে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১৫টি প্রজাতি। বাংলাদেশের প্রজাতি তিনটি হচ্ছে; ১. দাগি নাটাবটের, ২. ছোট নাটাবটের ও ৩. হলদেপা নাটাবটের। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে হলদেপা নাটাবটের।

বর্ণনা: হলদেপা নাটাবটের খুদে গোলগাল দেহের হলুদ পা ও হলুদ ঠোঁটওয়ালা ভূচর পাখি (দৈর্ঘ্য ১৫ সেমি, ওজন ৪০ গ্রাম, ডানা ৮ সেমি, ঠোঁট ১.৪ সেমি, পা ২.৪ সেমি, লেজ ৩ সেমি)। প্রজনন ঋতুতে ছেলেপাখির পিঠ বাদামি-ধূসর ও দেহতল পীতাভ। মাথার চাঁদি পীতাভ ডোরাসহ কালচে। থুতুনি ও গলা সাদাটে। পীতাভ ডানার কোর্ভাট, পাছা, স্ক্যাপুলার, পিঠ, বুকের পাশ ও বগলে স্পষ্ট কালো চিতি রয়েছে। প্রজননক্ষম মেয়েপাখির ঘাড় লাল এক রঙা। গলা, ঘাড়ের পাশ ও বুক লাল-কমলা। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েপাখির মাথার চাঁদিতে পীতাভ ডোরা, লাল-ধূসর ঘাড়, ধূসরাভ পাছা এবং কালো ও লাল স্ক্যাপুলার। ছেলে ও মেয়েপাখি উভয়ের চোখ সাদা এবং ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা ও নখর হলুদ। ২টি উপ-প্রজাতি T. t. tankiT. t. blanfordi উভয়ই বাংলাদেশে পাওয়াযেতে পারে।

স্বভাব: হলদেপা নাটাবটের ক্ষুদ্র ঝোপ ও জঙ্গলসহ তৃণভূমি, বনপ্রান্ত, বাগানও খামারে বিচরণ করে; সাধারণত জোড়ায় থাকতে দেখা যায়। ধীরে সুস্থে ওসাবধানে হেঁটে ও মাটিতে ঠোকরদিয়ে এবং ঝোপের নিচে ঝরাপাতা উল্টে খাবারখায়; খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, কচিকাণ্ড, পোকামাকড়, পিঁপড়া ওউইপোকা। মাঝে মাঝে এরা জোর গলায় ডাকে: হু-ওন.. ; প্রজননকালে দিনরাত ডাকে।মার্চ-নভেম্বর মাসে প্রজনন ঋতু। ঘাসবনে অথবা ক্ষুদ্র ঝোপের নিচে মাটিতে এরাঘাস দিয়ে গম্বুজ আকৃতির বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ধূসরাভ সাদারমধ্যে ছোট ছোট হলদে-বাদামি ছিটা-দাগ; সংখ্যায় ৪টি; মাপ২.২×২.০ সে.মি। ছেলেপাখি একাই ডিমে তা দেয় ও ছানা লালন করে । ১২ দিনে ডিম ফোটে; ১৪-১৬দিনে ছানার গায়ে ওড়ার পালক গজায়।

আরো পড়ুন:  পাতি বটেরা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি

বিস্তৃতি: হলদেপা নাটাবটের বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; সম্প্রতি ঢাকা ও সিলেট বিভাগে দেখা গেছে; ১৯ শতকে চট্টগ্রাম বিভাগে ছিল। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চিন, মিয়ানমার , থাইল্যান্ড এবং কোরিয়াসহ দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: হলদেপা নাটাবটের বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: হলদেপা নাটাবটের পাখির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ টংকি-তিতির (ল্যাটিন:coturnix = তিতির, tanki = টংকি, লেপ্চা ভাষায় কাপাশি পাখি।

তথ্যসূত্র:

১. এম আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৩৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Turnix tanki“, http://www.iucnredlist.org/details/22680539/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫১।

Leave a Comment

error: Content is protected !!