বনশিয়াল বুকা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ

বৃক্ষ

বনশিয়াল বুকা

বৈজ্ঞানিক নাম: Antidesma bunius (L.) Spreng., Syst. Veg. 1: 826 (1824). সমনাম: Stilago bunius L. (1767). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: বনশিয়াল বুকা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae, বিভাগ: Tracheophytes. অবিন্যাসিত: Angiosperms.অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Malpighiales. পরিবার: Phyllanthaceae. গণ: Antidesma, প্রজাতি: Antidesma bunius.

ভূমিকা: বনশিয়াল বুকা (বৈজ্ঞানিক নাম: Antidesma bunius) হচ্ছে এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের ভেষজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এই গাছ জন্মে। ফল হিসাবে খাওয়া যায়।

বনশিয়াল বুকা-এর বর্ণনা:

গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ, প্রায় ৮ মিটার উঁচু। ছোট শাখা রোমশ বা রোমশ বিহীন। পত্র উপবৃত্তাকৃতি ডিম্বাকার, ১০-১৭ x ৩-৬ সেমি।

পাতা দেখতে সূক্ষ্মাগ্র বা দীর্ঘা, ঝিল্লিময়, চর্মবৎ, পার্শ্বীয় শিরা ৭-৯ জোড়া, উপপত্র আশুপাতী, বৃন্ত ৩-৭ মিমি লম্বা, শক্ত রোমশ।

পুষ্পবিন্যাস রেসিম। পুং পুষ্পমঞ্জরী ১২ সেমি লম্বা, মঞ্জরীদন্ড ২.৫ মিমি প্রশস্ত, পুষ্প শিথিলভাবে মঞ্জরীদন্ডে বিন্যস্ত, অর্ধবৃন্তক বা সবৃন্তক;

বৃতি খাটো খন্ডিত, খন্ড গোলাকার, ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, চাকতি খন্ডিত, রোমশ বিহীন;

পুংকেশর ৩টি পুংদন্ড ১.৫-২.০ মিমি লম্বা, সরু, পরাগধানী ০.৫ মিমি আড়াআড়ি, শুষ্ক অবস্থায় হালকা বাদামী।

স্ত্রীপুষ্প: সবৃন্তক, বৃন্ত ১ মিমি লম্বা, ফলে ৪ মিমি পর্যন্ত বর্ধিত, বৃতি ৪ খন্ডিত, খাটো নলাকার, খন্ড প্রশস্ত ত্রিকোণাকার থেকে অর্ধকর্তিতা, খাটো খররোমাবৃত।

গর্ভাশয় ১.৫ মিমি লম্বা, রোমশ বিহীন, গর্ভমুন্ড ৩-৪টি, খাটো প্রসারিত। ফল ৬-৮ মিমি লম্বা, গোলাকার থেকে উপবৃত্তাকার, পাকা অবস্থায় লাল থেকে কালচে, রসালো।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

চিরহরিৎ অরণ্য। ফুল ও ফল ধারণ হয় জানুয়ারি-আগস্ট। বংশ বিস্তার হয় বীজে বংশ বিস্তার।

বনশিয়াল বুকা-এর বিস্তৃতি:

ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশের ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট ও কক্সাবাজার জেলায় জন্মে।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:

পাতা অতিশয় কটু, সাপের কামড় থেকে উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়, তরুণ পাতা সিদ্ধ করে সিফিলিস জাতীয় ক্যানসারে প্রয়োগ করা হয়। ফল আহার্য ও মিষ্ট।

আরো পড়ুন:  কালোজিরা প্রয়োগের ১০টি রোগের ভেষজ চিকিৎসা

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বনশিয়াল বুকা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে বনশিয়াল বুকা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. বুশরা খান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৭ম, পৃষ্ঠা ৩৯৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Judgefloro

Leave a Comment

error: Content is protected !!