কুমোরপাড়ার চাঁদ ও বাঁশিওয়ালা

কুমোরপাড়ায় চাঁদ ছিলো সেদিন
মাটির পটগুলোতে নকশার আঁকিবুঁকি চলছিলো,
আবহাওয়া মোহনীয় ছিলো
আঁধার ছিলো না কোনো গলিতে।
ময়ূরাক্ষীর মতো কিশোর-কিশোরীদের চোখজোড়া
খড়কুটো নিয়ে খেলছিলো,
পাড়াজুড়ে সেদিন আলো মাতাল করে রেখেছিলো
নব যৌবনের উৎসব ছিলো সেদিন।

সারাদিন আমার এলাকায় এক বাঁশিওয়ালা ছিলো
জাদুকরী সুরে ভুলিয়ে রেখেছিল স্বদেশের স্মৃতিকে,
এমন উদাস শহরে কেনই সে বাজালো বাঁশি
তারও কি ছিলো আমার মতো বেদনা?
উপত্যকা থেকে ঘোড়ার খুরের শব্দ নগরের দেয়ালে কম্পন তুলে
বালুকণারা অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করে,
রাত জেগে তারা পাহারা দেবে তারুণ্যের দীপ্তিকে
কুমোর পাড়ার শিশুরা এখন শান্তিতে ঘুমায়।

এখন সন্ধ্যার শীতেরা এসে ভীড় করে আমার ঘরে
তখন আমি হারিয়ে ফেলি আমার সুরের পাখিকে
আজানা অনেক কিছুর যেমন তলিয়ে যায় তেমনি গেল সে
নতুন কোনো নগরে ভোর আনবে বলে।

১৮.২.২০১৭
বুদ্ধনগর, নেপাল

আরো পড়ুন:  কবিতার ইস্তেহার নিয়ে জাগতে হবে আজ

Leave a Comment

error: Content is protected !!