আকন্দ গাছের গণের পরিচয়

আকন্দ

গণের বৈজ্ঞানিক নাম: Calotropis R. Br., Mem. Werner. Soc. 1: 39 (1811).
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Eudicots অবিন্যাসিত:Asterids বর্গ: Gentianales পরিবার: Apocynaceae গণ: Calotropis

ক্যালোট্রপিস হচ্ছে এপোসিনাসি পরিবারের একটি গণের নাম। এই গণে মাত্র তিনটি প্রজাতি রয়েছে যারা আকন্দ নামে পরিচিত। আকন্দ হচ্ছে এক প্রকারের ঝোপ ও গুল্ম জাতীয় মাঝারি ধরনের ওষধি গাছ। প্রজাতি তিনটির নাম হচ্ছে যথাক্রমে ১. বড় আকন্দ (বৈজ্ঞানিক নাম Calotropis gigantea), ২. ছোট পাতা আকন্দ (বৈজ্ঞানিক নাম: Calotropis procera) এবং ৩. মাঝারি আকন্দ (বৈজ্ঞানিক নাম: Calotropis acia).

গণের বিবরণ:

ক্যালোট্রপিস বা আকন্দ বৃহৎ শাখাবিশিষ্ট গুল্ম বা ছােট বৃক্ষ। কাণ্ড ও শাখাসমূহ তুলার মত ঘন ক্ষুদ্র কোমল রােমাবৃত বা মসৃণ। পত্র প্রশস্ত, কিছুমাত্রায় পুরু ও পুরুষ্ট, অর্ধবৃন্তক বা মধ্যশিরার নিম্নে গ্রন্থি বিশিষ্ট পত্রবৃন্তক। সাইম ছত্রমঞ্জরী-সদৃশ বা উপ-সমভূমঞ্জরী, পর্বে একল। পুষ্প মধ্যম-আকৃতির, দৃষ্টি আকর্ষক। বৃতি খন্ড ডিম্বাকার, অভ্যন্তরে গ্রন্থিল, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র। দলমণ্ডল উপচক্রাকার বা স্পষ্টতঃ ঘন্টাকৃতি, ফ্যাকাশে বেগুনি বা শুদ্ধ শুভ্র, মসৃণ, খন্ডের দৈর্ঘ্য সংযুক্ত অংশের ব্যাসার্ধের তুলনায় অনেক বেশী, ডিম্বাকার, মুকুলে প্রান্ত স্পর্শী। কিরীট একক, শল্ক পাঁচটি, মাংসল, পার্শ্বীয়ভাবে চাপা, পুংকেশরীয়। সমস্ত দৈর্ঘ্য জুড়ে লগ্ন, পৃষ্ঠীয়ভাবে তরীদলীয় । পরাগধানী একটি যােজক বিশিষ্ট যা অধােমুখী ঝিল্লিময় শীর্ষে পরিণত হয়েছে। পলিনিয়া আয়তাকার, বিলম্বী। প্রতি পরাগধানী কোষ্ঠে একল। গর্ভদণ্ড শীর্ষ পঞ্চকোণী। ফলিক্যাল খর্ব, পুরু ও মাংসল, নৌকা-আকৃতি। বীজ ডিম্বাকার, রােম অতি মােলায়েম ও কৌশিক।[১] বাংলাদেশ ও ভারতে প্রধানত ছোট পাতা আকন্দ ও বড় আকন্দ প্রজাতি দুটি যথেষ্ট পাওয়া যায়। মাঝারি আকন্দটি কিছুটা কম পাওয়া যায়। বড় আকন্দের দুটি উপপ্রজাতি আছে, সেগুলো হচ্ছে শ্বেত আকন্দ ও রক্ত আকন্দ।

বড় আকন্দ এশিয়া ও আফ্রিকার এক ঔষধি গুল্ম

আকন্দের ওষুধী গুণঃ

আকন্দ গাছের ব্যবহার চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী। দাদ ও টাকপড়া নিবারক। আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাদের ব্যথা দুর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়। আকন্দ বাত বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারক। আকন্দ পাতা ও হলুদের তৈরি বড়ি শোথ/ ফোলা/পান্ডু রোগ নাশক এবং এর রস কৃমি নাশক। গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা শুরু হলে ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই পানিসহ পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়। পেট কামড়ানি বা পেট জ্বালায় আকন্দ পাতার সোজা দিকে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা ছেঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়। শোথ বা ফোলা রোগে আকন্দ বিশেষ উপকারী। ফোলাজনিত কারণে কোন স্থান ফুলে উঠলে আকন্দপাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। শ্বাস কষ্টে আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে তারপর আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়। নিউমোনিয়াজনিত বেদনায় আকন্দ পাতার সোজা দিক ঘি মেখে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে ছেক দিলে উপকার পাওয়া যায়। হজম শক্তি কমে গেলে  ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। আকন্দের ব্যবহার্য অংশ হলো ফুল, পাতা, শিকড় ও আঠা।[২]

তথ্যসূত্রঃ

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৩৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২.আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা,৫-৯।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Anup Sadi

Leave a Comment

error: Content is protected !!