কনকচাঁপার আরেক নাম হচ্ছে রামধন চাঁপা। এটি আমাদের দেশীয় ফুল। বাংলাদেশে বসন্তে ফোটা বিভিন্ন রঙের ফুলের মধ্যে কনকচাঁপা প্রধান। বসন্তে ফোটার পরে গ্রীষ্মের শেষাবধি গাছে ফুল থাকে। আমাদের জানামতে ঢাকায় কেবল দুটা মাত্র কনকচাঁপা গাছ আছে। একটি রমনা পার্কে, অপরটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর বাগানে। রমনার উত্তরায়ণ গেট থেকে ঢুকে দক্ষিণ দিকে আসতে রমনার সবচেয়ে বড় পলাশগাছটির পূর্ব দিকে আছে গাছটি।
পরিচিতি:
কনকচাঁপা বা রামধন চাঁপা ছোট গুল্ম জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এরা ৪ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। তবে এক মিটার উঁচু কনকচাঁপা গাছেও ফুল ধরে। কনকচাঁপা পত্রমোচী বৃক্ষ, শীতের সময় গাছের সব পাতা গাছ তলায় ঝরে পড়ে। কনকচাঁপা গাছের পাতা ডিম্বাকার, অখণ্ড, বোঁটা খাটো এবং আগা চোখা। বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে তামাটে রঙের নতুন সবুজ কচি পাতার সঙ্গে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের ফুল আসে। এদের ফুল সুগন্ধি। ফুল ফোটা শুরু হলে ধীরে ধীরে ছোট ছোট থোকায় পুরো গাছ ভরে যায়। ফুল তিন-চার সেন্টিমিটার চওড়া, পাপড়ি ১২টি, মুক্ত, বৃত্তাংশের সমান লম্বা। পাপড়ি হলুদ, পুংকেশর সোনালী রঙের এবং সংখ্যায় অনেক, পরাগধানীর চেয়ে পরাগদণ্ড খাটো। ফল ০.৫ সেমি চওড়া ও গোলাকার, কালো ও রসাল। বীজ থেকে চারা গজায়।
বিস্তৃতি:
সাধারণত ঘন গুল্মের জঙ্গল ও পত্রঝরা বনে দেখা যায়। সিলেট ও চট্টগ্রামের বনে একসময় যথেষ্ট দেখা যেত। এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বাদে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ ভারতের প্রাকৃতিক বনে জন্মে।
ব্যবহার:
কনকচাঁপা আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গাছের ত্বক বা বাকল হজমকারী টনিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এদের কাঠ দিয়ে হাঁটার লাঠি তৈরি করা হয়। সাঁওতাল জনগণ কনকচাঁপার শিকড় সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ব্যবহার করে থাকে। ভারতীয় আদিবাসীরা নানান ধরনের মেয়েলি চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে থাকেন। দেখতে সুন্দর কনকচাঁপা ফুলের গাছটি আকারে ছোট হওয়ায় কাঠুরিয়া কিংবা সাধারণ মানুষ সহজেই কেটে ফেলতে পারে। এই কারণে গাছটি প্রাকৃতিক পরিবেশে দুর্লভ হয়ে গেছে। গাছটি সংরক্ষণে বন বিভাগ ও মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তথ্যসূত্র:
১. সৌরভ মাহমুদ, “কনকচাঁপা”, দৈনিক প্রথম আলো, সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ২৪ এপ্রিল ২০১৫, http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/511348/.
- পাতি অলকনন্দা: চেনার উপায়, চাষাবাদ পদ্ধতি ও এর ওষধি গুণাগুণ
- বাবলা গাছ (Vachellia nilotica): পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- বুনো গোলাপ চাষ পদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব – Wild Rose
- সাদা গোলাপ চাষ পদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য ও ভেষজ গুণাবলী – শ্বেত গোলাপের সম্পূর্ণ গাইড
- চমসা পাথরকুচি এশিয়ায় জন্মানো বাহারী বিরুৎ
- জলার রঙ্গন আলঙ্কারিক ছোট বৃক্ষ
- দেশি ভুইচক্র বহুবর্ষজীবী বিরুৎ
- হয়া পরগাছা ভেষজ ও আলঙ্কারিক লতা
- ঝুমকা জবা উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের আলঙ্কারিক গুল্ম
- স্থল পদ্ম গ্রীষ্মমন্ডলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- দেশি কার্পাস এশিয়ায় জন্মানো বর্ষজীবী বৃক্ষ
- খুবানি শোভাবর্ধক ও উপকারী বৃক্ষ
- নারকাটা সপুষ্পক আরোহী লতা
- ডিকামালী শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গুল্ম
- পুন্নাগ গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- পাতাহীন ডেনড্রোবিয়াম বা ফাসিয়া মাছ অর্কিড জাতীয় প্রজাতি
- বন সাবাইম এশিয়ার চিরহরিৎ বনে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- স্বর্ণচাঁপা ফুল, ফল, গাছের ছালের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- বরুণ গাছ, পাতা, ফুলের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- বনঢুলি বা দুপুরমনি ফুল ও মূলের ছয়টি ভেষজ গুণাগুণ
- ঢোলপাতা বা কানশিরে তৃণের সাতটি ভেষজ উপকারিতা
- শ্বেত কাঞ্চন দক্ষিণ এশিয়ার সুগন্ধি ও ভেষজ প্রজাতি
- নয়নতারা উদ্ভিদের সাতটি কার্যকরী ভেষজ গুণাগুণ
- উলট চন্ডাল বিরুৎ-এর দশটি ভেষজ গুণাগুণ
- কাঁটা মুকুট উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের জন্মানো শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ
- মালতী লতা বাংলাদেশে জন্মানো আলংকারিক ও ভেষজ উদ্ভিদ
- লতা পারুল বা রসুন লতা উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের আলংকারিক উদ্যান উদ্ভিদ
- নীলমনিলতা উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের জন্মানো শোভাবর্ধনকারী আরোহী লতা
- মাকড়শা হুড়হুড়ি উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে আলংকারিক বিরুৎ
- মে ফ্লাওয়ার বা ফায়ার বল উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের আলংকারিক বিরুৎ
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।