রেউচিনি গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

রেউচিনি হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর থেকে নেপাল পর্যন্ত ৭-১২ হাজার ফুট উঁচুতে এবং তাতার, খোতান, সিকিম, সিমলা, কাংগড়া, চীন, তিব্বত প্রভৃতি দেশে জন্মে।

রেউচিনি-এর ঔষধ হিসাবে প্রয়োগ

এটির কাজ প্রধানতঃ রসবহ ও রক্তবহ স্রোতে। এর মূল লঘু, তিক্ত, কটু, রুক্ষ, তীক্ষ্ণ, উষ্ণবীর্য, দীপন, মূত্রজনক, আর্তবজনক, গ্রাহী, যকৃত আজক, কফনিঃসারক, বিরেচক, কফপিত্তহর, বলকারক, লালাপ্রসেকজনক। অজীর্ণ, অতিসার, অগ্নিমান্দ্য, অরুচি, মলবদ্ধতা ও শীতপিত্ত রোগে ব্যবহার্য। দুষ্টক্ষতে চূর্ণ লাগালে উপকার হয়।

এটি অল্প মাত্রায় (১০০-৫০০ মি. গ্রা.) তিক্ত, দীপন ও গ্রাহী। ১-২ গ্রামের মতো একটু বেশি মাত্রায় সেবনে এর ক্রিয়া বৃহদন্ত্রের উপর পরিলক্ষিত হয়, ফলে ৬-৮ ঘণ্টার ৫ণ্য দাপ্ত হয়ে যায়। মৃদু বিরেচক রূপে তথা অজীর্ণ হতে উৎপন্ন অতিসারে এর প্রয়োগ হিতকর। জীর্ণ বিবন্ধ অবস্থায় এর প্রয়োগ সমীচীন নয়।

১. অগ্নিমান্দ্যে: ক্ষিদে ভাল হয় না, পেটে বায়ু জমে, খাওয়ায় অনিচ্ছা থাকে, দাস্তটা পরিষ্কার হয় না, এ ধরনের অবস্থা যে ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলছে, সেক্ষেত্রে রেউচিনি চুর্ণ ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকালে দিনে ২বার করে কিছুদিন খেলে অসুবিধেটা চলে যাবে।

২. ক্রিমিতে: তা সে গোল ক্রিমি, সুতা ক্রিমি বা ফিতা ক্রিমি, যে ক্রিমিই হোক, রাতে শোবার আগে ১ গ্রাম রেউচিনি চূর্ণ গরম জলসহ খেতে হবে। নিয়মিতভাবে ৮/১০ দিন পর দাস্তটা পুনরায় পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে তারপর এটি ব্যবহার করার দরকার আছে কিনা তা ঠিক করতে হবে ।

৩. কোষ্ঠবদ্ধতায়: যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে অথবা ২/৩ দিন অন্তর দাস্ত হয়, মাঝে মাঝে পেটে ব্যথা হয়, তাঁরা যদি রাত্রে শোয়ার সময় রেউচিনি চূর্ণ ১-২ গ্রাম মাত্রায় (প্রয়োজনমত) গরম জলসহ খান, তাহলে দাস্ত পরিষ্কার হবে। তবে এটি মাঝে মাঝে কিছুদিন খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের অসুবিধাগুলি দূর হয়।

৪. জীর্ণ প্রবাহিকায়: দীর্ঘদিন ধরে আমাশায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা যদি রেউচিনি চূর্ণ ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় প্রত্যহ সকালে ও বিকালে ২ বার করে মাসখানিক খান, তাহলে দীর্ঘদিনের কষ্টের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে।

৫. অর্শে: নিয়মিতভাবে প্রত্যহ ভোরে রেউচিনি চূর্ণ ১ গ্রাম মাত্রায় গরম জলসহ খেলে ১৫/১৬ দিন পরে দেখা যাবে যে, অর্শের দপদপানি, রক্ত পড়া, জ্বালা চলে গেছে।

৬. শীতপিত্তে: এ রোগে মাঝে মাঝে হাত-পা বা সর্বাঙ্গ চুলকোয় এবং চাকা চাকা হয়ে। ফুলে ওঠে। এ ক্ষেত্রে রেউচিনি চুর্ণ ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকালে দিনে ২ বার। জলসহ ২/৩ দিন খেলে উপসর্গগুলো নষ্ট হয়। তবে রোগের মূল কারণ বর্জন না করলে রোগ সারার সম্ভবনা কম।

৭. শিশুদের জ্বর ও কাসিতে: রেউচিনি চূর্ণ ৫০-১০০ মিলিগ্রাম (বয়সানুপাতে কমবেশী) মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার মধুসহ খেতে দিতে হবে। জ্বর কমে গেলেও কাসির জন্য আরও কয়েকদিন এটি ব্যবহার করা দরকা।

CHEMICAL COMPOSITION

Rheum emodi Wall

Leaves & stem contain: Oxalic acid 0.65-0.81%. Fresh roots contain: hetrodianthrones (sennidin C, reidin B and reidin C). Leaves and flowers contain: Rutin 0.32%. Drug contains: moisture 6.1%, cathartic acid 3.5%, chrysophanic acid 0.4%, sennoside A, sennoside B, essential oil 0.05%, a number of anthraquinone derivatives based on emodin, emodin-3-monomethyl ether (physcione), Chrysophanol, aloe-emodin and rhein, astringent principle (glucogallin), tannin and catechin, cinnamic and rheinolic acids, volatile oil, starch and calcium oxalate. Root contains: Terpenic alcohol, methyl-n-heptyl ketone, eugenol.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ৮৭-৯০।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!