মালদাহা নদী (ইংরেজি: Maldaha River) বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। তবে নদীটি বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত আন্তঃসীমান্ত নদী নয়। নদীটি বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৩৬ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১৮ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক মালদাহা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৯৭।[১]
প্রবাহ: নদীটি ভারতে উৎপত্তি লাভ করে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত সীমানা নির্ধারণ করে আদিতমারী উপজেলা পেরিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে ধরলা নদীতে পতিত হয়েছে। মৌসুমি প্রকৃতির এ নদীতে বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত হলেও শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ আশংকাজনক হারে হ্রাস পায়। এ সময় নদীতে ব্যাপক পরিসরে চাষাবাদ করা হয়। অতীতের তুলনায় এ নদীর প্রবাহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। শুধু বর্ষা মৌসুমে নদীতে সীমিত পরিসরে নৌযান চলাচল করে থাকে।[১]
অন্যান্য তথ্য: মালদাহা নদী বন্যাপ্রবণ এবং এই নদীর অববাহিকায় কোনো প্রকল্প নেই। এই নদীতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর এবং কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এই নদীটিতে জোয়ারভাটার প্রভাব নেই। এই নদীর তীরে রোহানপুরহাট ও কাহালোরহাট অবস্থিত।
তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১৫৫, ISBN 984-70120-0436-4.
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
