আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > ইন্দ্রায়ন বা মাকাল ফল হচ্ছে আফ্রিকা ও এশিয়ার লতানো উদ্ভিদ

ইন্দ্রায়ন বা মাকাল ফল হচ্ছে আফ্রিকা ও এশিয়ার লতানো উদ্ভিদ

ভূমিকা: ইন্দ্রায়ন বা মাকাল ফল (বৈজ্ঞানিক নাম: Citrullus colocynthis) হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের সিট্রালাস গণের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী সপুষ্পক বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।

বৈজ্ঞানিক নাম: Citrullus colocynthis (L.) Schrad. Linnaea 12: 414 (1838). সমনাম: Cucumis colocynthis L. (1753), Colocynthis vulgaris Schrad. (1950). ইংরেজি নাম: Bitter Apple, Wild Watermelon, Colocynth. স্থানীয় নাম: ইন্দ্রায়ন, মাকাল। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants শ্রেণী: Eudicots উপশ্রেণি: Rosids বর্গ: Cucurbitales পরিবার: Cucurbitaceae উপপরিবার: Cucurbitoideae গণ: Citrullus প্রজাতি: Citrullus colocynthis

বিবরণ: মাকাল বীরুতের মূল কন্দাল, কাষ্ঠল। কান্ড বিস্তৃত, কোণাকৃতি, খররোমাবৃত, আকর্ষ সরু, খাটো, স্বল্প রোমশ বা খররোমাবৃত, দ্বিখন্ডিত বা সরল। এদের পাতা ডিম্বাকার, তাম্বুলাকার, ৫-১২ x ৩-৮ সেমি, দৃঢ়, অত্যন্ত অমসৃণ, করতালাকারে ৫ খন্ডিত বা গভীরভাবে ৩ খন্ডিত, খন্ড স্থূলাগ্র বা সূক্ষ্মাগ্র পক্ষবৎ তরঙ্গিত, শীর্ষীয় খন্ড বৃহৎ, প্রান্ত কুঞ্চিত, বৃন্ত ঘন রোমশ।

পুংপুষ্প: মঞ্জরীদন্ড ৪-৫ সেমি লম্বা, অতিরোমশ, বৃতি নল প্রশস্ত ঘন্টাকার, কন্টমরোমী, ৪-৮ মিমি লম্বা, খন্ড তুরপুণাকার, ২-৩ মিমি লম্বা, শীর্ষ সম্মুখ বা পশ্চাৎমুখী বক্র, দলমন্ডল ফ্যাকাশে হলুদ খন্ড ডিম্বাকার, ৪-৬ x ২-৩ মিমি, সূক্ষ্মাগ্র।

স্ত্রীপুষ্প: বৃতি দলমন্ডল পুংপুষ্পের বৃতি ও দলমন্ডলের অনুরূপ। বন্ধ্যা পুংকেশর ৩টি, খাটো গর্ভাশয় বিডিম্বাকার, খররোমাবৃত, গর্ভদন্ড খাটো, স্তম্ভাকার, গর্ভমুন্ড ৩টি পুরু । ফল গোলাকার, সামান্য চাপা, ৫-৭ সেমি লম্বা ও ৫-৭ সেমি চওড়া, সবুজ ও সাদার মিশ্রন, রোমশ বিহীন, পরিপক্ক অবস্থায় হলুদাভ সাদা, রসালো অংশ স্পঞ্জি ও তিক্ত, বহিস্তৃক পাতলা। বীজ ডিম্বাকার-দীর্ঘায়ত, হলুদাভ-বাদামী, ৬ x ৩ মিমি। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে মে থেকে অক্টোবর মাসে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২২ (Shimotsuma, 1961).

চাষাবাদ ও আবাসস্থল: বেলে মাটি, মূলত মরু উদ্ভিদ। বীজে বংশ বিস্তার ঘটে থাকে।

বিস্তৃতি: আফগানিস্তান, আফ্রিকা, ভারত, ইরান, ইরাক, মায়ানমার ও শ্রীলংকা। জন্মস্থান ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও গাজিপুর জেলা থেকে রিপোর্টকৃত।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: ফলের রসালো অংশ রেচক, এই অংশে ক্ষারীয় পদার্থ ও রেজিন বিদ্যমান। মূল রেচক রূপে ব্যবহৃত এবং জন্ডিস, বাত এবং মূত্র সংক্রান্ত ব্যাধি নিরাময় উপকারী। জাতিতাত্বিক ব্যবহার হিসেবে উল্লেখ আছে যে এদের ফল ও বীজ বেলুচিস্তানের কোনো কোনো অঞ্চলে রেচক রূপে ব্যবহার করা হয়। গিনিতে আধকপালে মাথা ধরা এবং বাত শূলে পাতার ব্যবহার প্রচলিত।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ইন্দ্রায়ন প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ইন্দ্রায়ন সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে শীঘ্র সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম অলিউর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩০৫-৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  করলা পৃথিবীর গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের সবজি
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page