প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি মুকিয়া গণ ও আমাদের আগমুখি লতা

মুকিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Mukia Arn., Mad. Journ. Lit. Sc. 12: 50 (1840). জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants শ্রেণী: Eudicots উপশ্রেণি: Rosids বর্গ: Cucurbitales পরিবার: Cucurbitaceae উপপরিবার: Cucurbitoideae গণ: Mukia

উদ্ভিদ জগতের বৈচিত্র্যের শেষ নেই। আমাদের চারপাশের লতাগুল্মের মধ্যে কিউকারবিটাসি (Cucurbitaceae) বা শসা-লাউ পরিবারের একটি বিশেষ গণের নাম হলো মুকিয়া (Mukia)। আজ আমরা এই উদ্ভিদটির গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং বাংলাদেশে এর উপস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

শারীরিক গঠন ও লতা

মুকিয়া মূলত একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা। এর লতাগুলোর নিচের অংশ বা মূলীয় দিকটি বেশ কাষ্ঠল প্রকৃতির হয়। এর পাতাগুলো ৩ থেকে ৭টি কোণবিশিষ্ট এবং করতলাকার খণ্ডিত বা তাম্বুলাকার। লতাটি অন্য গাছকে আঁকড়ে ধরার জন্য এতে খুব সাধারণ ও সরু আকর্ষ থাকে।

পুষ্প বা ফুলের বৈশিষ্ট্য

মুকিয়া উদ্ভিদে খুব ছোট ছোট সহবাসী ফুল ফোটে। অর্থাৎ একই উদ্ভিদে পুং ও স্ত্রী পুষ্প আলাদাভাবে কিন্তু একসাথে অক্ষীয় গুচ্ছে অবস্থান করে।

  • পুংপুষ্প: এই ফুলগুলো খাটো মঞ্জরীদণ্ডে জন্মে। এদের বৃতি ঘণ্টার মতো এবং ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। এর দলমণ্ডল চক্রাকার এবং ৩টি পুংকেশর বৃতিনলের ভেতরে সন্নিবিষ্ট থাকে। এর পরাগধানীগুলো দীর্ঘায়ত হয়—যার মধ্যে দুটি ২-প্রকোষ্ঠী এবং একটি ১-প্রকোষ্ঠী বিশিষ্ট।
  • স্ত্রী পুষ্প: স্ত্রী পুষ্পগুলো অর্ধবৃন্তক হয়। এদের গর্ভাশয় ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার এবং গায়ে ছোট ছোট কন্টকরোম (কাঁটার মতো রোম) থাকে। এতে ২-৩টি আমরা থাকে এবং গর্ভমুণ্ড ২-৩ খণ্ডে বিভক্ত।

ফল ও বীজ

মুকিয়া গণের ফলগুলো সাধারণত গোলাকার বা উপবৃত্তাকার হয়। এগুলো অবিদারী, অর্থাৎ পাকার পর ফলগুলো নিজে থেকে ফেটে যায় না। ফলের ভেতরে থাকা বীজগুলো ডিম্বাকৃতির এবং কিছুটা চাপা। বীজের উপরিভাগ মসৃণ বা অমসৃণ—উভয়ই হতে পারে।

বাংলাদেশে মুকিয়া: আগমুখি বা বিলারি

বাংলাদেশে মুকিয়া গণের একটি বিশেষ প্রজাতি পাওয়া যায়, যার নাম আগমুখি বা বিলারি। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Mukia maderaspatana। গ্রামবাংলার ঝোপঝাড় বা বন-বাদাড়ে এই লতাটি প্রায়ই চোখে পড়ে, যা আমাদের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

উপসংহার

প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র সদস্যটি তার জটিল গঠন আর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এমন আরও অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যা আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. এম অলিউর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩২৪। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!