ভূমিকা: মালা হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের সায়াপোনিয়া গণের একটি বর্ষজীবী আরোহী বীরুৎ।
বিবরণ: মালা লতার কান্ড সরু, প্রলম্বিত। আকর্ষ দ্বিখন্ডিত। পত্র গভীরভাবে করতালাকারে ৫ খন্ডিত, ৮-১২ সেমি লম্বা এবং অনুরুপ পরিমাপ বিশিষ্ট চওড়া। উপরের পৃষ্ঠ অমসৃণ, নীচের পৃষ্ঠ মসৃণ, প্রান্ত দপ্তর বা তরঙ্গিত বা অর্ধ সভঙ্গ, বৃন্ত ৩-৬ সেমি লম্বা। উদ্ভিদ সহবাসী।
পুংপুষ্প: মঞ্জরীদন্ড ০.৫-১.৫ সেমি লম্বা, বৃতি নল ঘন্টাকার, ২-৪ x ৩-৬ মিমি, খন্ড বিস্তৃত, ০.৫-১.০ মিমি লম্বা, দলমন্ডল সবুজ হলুদ, প্রশস্ত ঘন্টাকার, খাটো পিড়কা যুক্ত, ৪-১০ মিমি প্রশস্ত, খন্ড ডিম্বাকার, সূক্ষ্মাগ্র, পুংকেশর ৩টি, বৃতি নলের মধ্যে নিহিত, পুংদন্ড ১.০-১.৫ মিমি লম্বা, পরাগধানী ডিম্বাকার, ২ মিমি লম্বা।
স্ত্রীপুষ্প: গুচ্ছাকার, বৃতি নল ও দলমন্ডল পুংপুষ্পের বৃতিনল ও দলমন্ডলের অনুরূপ, বন্ধ্যা পুংকেশর ৩টি, খাটো, গর্ভাশয় গোলাকার, গর্ভদন্ড সরু, গর্ভমুন্ড ৩টি, পিড়কাযুক্ত। ফল বেরি সদৃশ, গোলাকার, হলুদাভ সবুজ, সরু ৬টি লম্বা দাগ যুক্ত, ১২-১৬ মিমি পুরু। বীজ ধূসর, ফিতা যুক্ত, সরু, সূক্ষ্মা, উভয় পৃষ্ঠ ৫x ৩ মিমি, অভিক্ষেপ যুক্ত, ৩.৫-৪.০ মিমি পুরু। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে।
ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৪ (McKay, 1930)।
আবাসস্থল: ঘন ঝোপ ও বনভূমি। মালা লতার বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটে।
বিস্তৃতি: আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, মায়ানমার ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশের বান্দরবান, চট্টগ্রাম, নিলফামারি, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও সিলেট জেলায় জন্মে।
অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: উদ্ভিদ কটু স্বাদ যুক্ত এবং রেচক ও টনিকের গুণাগুণ সম্পন্ন। পাতা ফোড়া ও অন্যান্য স্ফীত স্থানে প্রয়োগ করা হয়।
অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) মালা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে মালা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে শীঘ্র সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন
- ঝিঙ্গা বা ঝিংগা-র লতা, মূল, ফলের নানা ভেষজ গুণ
- তরমুজ ও বীজের সাতটি ভেষজ গুণাগুণ ও উপকারিতা
- কাঁকুড় বা কাঁকড়ি খাওয়ার উপকারিতা ও ছয়টি ভেষজ গুণাগুণ
- করলা বা উচ্ছের বহুবিধ ভেষজ গুনাগুণ, পুষ্টিমান ও উপকারিতা
- তরমুজ বা খরমুজা উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ দেশসমূহের বাণিজ্যিক ফল
- ইন্দ্রায়ন বা মাকাল ফল হচ্ছে আফ্রিকা ও এশিয়ার লতানো উদ্ভিদ
- সিট্রালাস হচ্ছে কিউকারবিটাসি বা শসা লাউ পরিবারের একটি গণের নাম
- মালা আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার কিউকারবিটাসি পরিবারের লতানো উদ্ভিদ
- প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি মুকিয়া গণ ও আমাদের আগমুখি লতা
- ঘি করলা বা ভাত করলা দক্ষিণ এশিয়া ও মায়ানমার অঞ্চলের সবজি
- কাঁকরোল বা কাকরোল বা গোলকাক এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় সবজি
- উচ্ছে পৃথিবীর উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চলের ভেষজ সবজি
- করলা পৃথিবীর গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের জন্মানো ভেষজ সবজি
- মমরডিকা হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের একটি গণ
- গুটি বান্দল এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিউকারবিটাসি পরিবারের লতা
- দেতরা বা বান্দল দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার ঔষধি লতা
- ঝিঙ্গা বা ঝিঙা-এর হচ্ছে সারা বিশ্বে আবাদকৃত একটি সবজি
- লাফা হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের একটি গণ
- চালকুমড়া এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটি জনপ্রিয় শাক ও সবজি
- পটল লতার পনেরোটি ভেষজ গুণ ও প্রযোগ পদ্ধতি
- বেনিনকাসা হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের একটি গণ
- লাউ বা কদু হচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকার জনপ্রিয় পাতা ও ফল সবজি
- লাগেনারিয়া হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের একটি গণ
- চালকুমড়া বা জালিকুমড়ার ১৫টি ঔষধি গুণ ও ব্যবহার
- লাউ বা কদুর ষোলটি ঔষধি গুনাগুণ ও নানামুখী উপকারিতা
- ফুটি বা বাঙ্গি বা বাঙ্গী বা বাঙির কয়েকটি বহুমুখী ঔষধি গুনাগুণ
- তেলাকুচা প্রকৃতির লতানো বীরুৎ ও এর বহুমুখী ভেষজ ওষধি গুরুত্ব
তথ্যসূত্র:
১. এম অলিউর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩০৪-৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।