আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনী > লুডউইগ ফয়েরবাখ ছিলেন জার্মানির বস্তুবাদী দার্শনিক

লুডউইগ ফয়েরবাখ ছিলেন জার্মানির বস্তুবাদী দার্শনিক

লুডউইগ ফয়েরবাখ বা লুডউইগ ফয়েরবাক (ইংরেজি: Ludwig Feuerbach; ১৮০৪-৭২ খ্রি.) ছিলেন জার্মানির বস্তুবাদী দার্শনিক। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। কিন্তু তাঁর বস্তুবাদী চিন্তাধারার জন্য ১৮৩০ সালে ফয়েরবাককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। হেগেলের ভাববাদের সমালোচনা এবং ধর্মের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার জন্য ফয়েরবাখ ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস, কার্ল মার্কস এবং সমসাময়িক অন্যান্য বস্তুবাদী চিন্তাবিদদের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন।

ফয়েরবাকের চিন্তা দারা এবং রচনাসমূহের বৈশিষ্ট্য এই যে, তিনি ধর্মের উৎপত্তি ও বিকাশের বিশ্লেষণ করে ভাববাদের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক প্রমাণ করেন। হেগেলের দ্বান্দ্বিকতার মূল চরিত্র যে ভাববাদ তাও ফয়েরবাক বিশ্লেষণ করে দেখান। জ্ঞানতত্ত্বে তিনি অজ্ঞেয়বাদের বিরোধিতা করেন। জ্ঞানের উৎস হচ্ছে অভিজ্ঞতা এবং ইন্দ্রিয়ানুভূতি। কিন্তু অভিজ্ঞতা ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে মনের ভূমিকা অস্বীকার করেন নি। মানুষের জ্ঞান ও চেতনা কেবল ব্যক্তিক নয়।

ফয়েরবাখ মনে করতেন জ্ঞান এবং জ্ঞাতা, নৈর্বক্তিক ও আত্মগত-এর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই জ্ঞানের উদ্ভব। কাজেই জ্ঞান হচ্ছে সামাজিক প্রক্রিয়া। কিন্তু মার্কস এবং এঙ্গেলস-এর মতে ফয়েরবাখ উনিশ শতকের বস্তুবাদীদের পথিকৃৎ হলেও তাঁর চিন্তাধারার সীমাবদ্ধতা ছিল।

ইতিহাস ও সমাজের মধ্যে ফয়েরবাখ যেমন ধর্মের উৎপত্তি নির্দেশ করে সমাজবিজ্ঞানীদের ভূমিকা পালন করেছেন, তেমনি আবার ধর্মকে মানুষের অচেতন আত্মচেতনার প্রকাশ বা নিজের চরিত্রের বাস্তব রূপায়ন বলে তিনি ধর্মের ভাববাদী ব্যাখ্যার রহস্যে নিজেকে আবদ্ধ রেখেছেন। মানুষের নীতিরোধকেও তাই তিনি বাস্তব পরিবেশ ও সমাজনির্দিষ্ট বিষয়ের চেয়ে মানুষের চিরন্তন সুখান্বেষী স্বভাবের প্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফয়েরবাখ নিঃসন্দেহে বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের সাক্ষাৎ পূর্বগামীদের অন্যতম ছিলেন।

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৭০।

আরো পড়ুন:  জেরেমি বেনথাম ছিলেন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আইনবিদ
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page