ঘোড়ার চাল

মারা অত সহজ নয়/ একটি আছে/ আরেকটির জোরে/ ঘোড়াগুলো বাঘের মতো খেলছে।/ তোমাদের রাজাগুলোক সামলাও হে,/ নইলে/ এই কিস্তিতেই মাত যে !/ ঘোড়াগুলো বাঘের মতো খেলছে। মরুভূমির কড়াইতে টগবগ/ টগবগ করছে/ ফুটন্ত তেল –/ ভাগো!আরো পড়ুন

মুখুজ্যের সঙ্গে আলাপ

আরে ! মুখুজ্যেমশাই যে ! নমস্কার, কী খবর?/ আর এই লেখা-টেখা সংসার-টংসার এই নিয়েই ব্যস্ত।/ তা বেশ। কিন্তু দ্যাখো মুখুজ্যে,/ আমার এই ডানদিকটাকে বাঁদিক/ আর বাঁদিকটাকে ডানদিক ক’রে/ আয়নায় এভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া –/ আমি ঠিক পছন্দ করি না।/ তার চেয়ে এসে, চেয়ারটা টেনে নিয়ে/ জানলায় পা তুলে বসি।/ এককাপ চায়ে আর কতটা সময়ই বা যাবে ?/ দেশলাই ? আছে।আরো পড়ুন

আমরা যাবো

জলের কলে টিপ, টিপ,/ টিপ, টিপ।/ এখুনি/ বাসন-ধোয়া জলে/ নিজের মুখ দেখবে/ ধোঁয়ায় ধোঁয়াকার আরও একটি সকাল ।/ ততক্ষণে শানবাঁধানো অন্ধকার/ দেয়ালে দেয়ালে মাথা খুঁড়ে মরুক/ আর আমরা জলের কলে শুনি – আরো পড়ুন

সুন্দর

যখন তোমার আঁচল দমকা হাওয়ায় একা একা উড়ছিল/ তখনও নয়/ বিকেলের পড়ন্ত রোদে বিন্দু বিন্দু ঘাম/ তোমার মুখে যখন মুক্তোর মতো জ্বলছিল/ তখনও নয়/ কী একটা কথায় আকাশ উদ্ভাসিত ক’রে/ তুমি যখন হাসলে/ তখনও নয়/ যখন ভোঁ বাজতেই আরো পড়ুন

অগ্নিকোণ

অগ্নিকোণের তল্লাট জুড়ে দুরন্ত ঝড়ে তোলপাড় কালাপানি/ খুন হয়ে যায় সাদা সাদা ফেনা/ ঘুমভাঙা দলবদ্ধ ঢেউয়ের/ ক্ষুরধার তলোয়ারে।/ বনেজঙ্গলে ঝটপট করে প্রতিহিংসার পাখা। কাঁধের জোয়াল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ধনুকের মতো বাঁকা পিঠগুলো টান ক’রে ঘুরে দাড়ায়— পেরাকে পেনঙে টিনের খনিতে রবারের বনে, মশলার দ্বীপে/ সোনাফলা ইরাবতীর দুধারে উপত্যকায়/ বদ্বীপে, নীলকান্তমণির/ ঝিকিমিকি দেশে শ্যামে, কম্বোজে/ আনামী পাহাড়ে/ মেকং নদীর বানডাকা জলে/ ঘুম-ভেঙে-ওঠা অগ্নিকোণের মানুষ।/ রক্তের পাকে শত্রুকে পুঁতে/ অন্ধকারের বুকে হাঁটু দিয়ে দুহাতে উপড়ে আনে/ দুঃশাসনের ভিং।আরো পড়ুন

কালবেলা

যুবকেরা গেছে উৎসবে যুবতীরা গেছে ভোজসভায় অরণ্য গেছে বনানীর খোঁজে গরীব জুটেছে শোকসভায়। গয়নারা গেছে নীরব লকারে বন্যপ্রাণীরা অভয়ারণ্যে বিমান উড়েছে আকাশের খোঁজে গরীবরা শুধু হচ্ছে হন্যে। আরো পড়ুন

শিশুরা শুধু

নবারুণ ভট্টাচার্য

মূর্খ! কোনো আস্থাই নেই মন্ত্রীর আশ্বাসে, শিশুরা শুধু মরতে ভালোবাসে। জমছে খালি দুধের বোতল, সস্তার ঝুমঝুমি, নজর কাটার কাজলফোঁটা কোথায় দেবে তুমি, দোলনা একা দুলেই চলে রাতের মহাকাশে, শিশুরা শুধু মরতে ভালোবাসে। আরো পড়ুন

ফড়েদের প্রতি

আমি জানি, আমি দাবা খেলতে বসলেই/ পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়বে এক লক্ষ ফড়ে—/ যে যার হাতের কাজ ফেলে রেখে/ আমার প্রত্যেকটা চাল/ পাখি পড়ানোর মত করে বলে দিতে চাইবে। আরো পড়ুন

আশ্চর্য কলম

এই যে দাদা, এতদিনে বেরিয়েছে/ নতুন ফর্মুলায় তৈরী/ খলিফাচাঁদের আশ্চর্য কলম — ‘খাইখাই’/ চোর, জোচ্চোর, লোচ্চা, লম্পট, খাজা, খোজা/ পণ্ডিত, মূর্খ যে কেউ চোখ বুঁজে/ রাতারাতি লেখক হতে পারে।/ একলম হাতে থাকলে/ বসা বা দাঁড়ানো, চিৎ বা উপুড়/ যে কোন অবস্থায়/ প্রকাশ্যে ঝোপ বুঝে কোপ দেওয়া যায়—/ কোনরকম আগবাগ বা রাখঢাকের দরকার হয় না। আরো পড়ুন

দুয়ো

আমি তো আর ফটোয় তোলা ছবি নই/ যে,/ সারাক্ষণই হাসতেই থাকব।/ আমার মুখে তো চোঙ লাগানো নেই,/ যে/ সারাক্ষণ গাঁক গাঁক করব/ আমার তো হাতে কুষ্ঠ হয়নি/ যে,/ সারাক্ষণ হাত মুঠো করে রাখব। আরো পড়ুন

error: Content is protected !!