ফিতা ঢেকিয়া বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলে জন্মে

ফিতা ঢেকিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Microlepia strigosa (Thunb.) Presl. Epim. Bot.: 95 (1851). সমনাম: Trichomanes strigosum Thunb. (1784). ইংরেজি নাম: লেসি ফার্ন। স্থানীয় নাম: ফিতা ঢেকিয়া।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Polypodiophyta অবিন্যাসিত: Tracheophytes বর্গ: Polypodiales পরিবার: Dennstaedtiaceae গণ: Microlepia প্রজাতি: Microlepia strigosa.

ভূমিকা: ফিতা ঢেকিয়া ( বৈজ্ঞানিক নাম: Microlepia strigosa) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।

ফিতা ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:

ফিতা ঢেকিয়া গ্রন্থিকন্দ দীর্ঘ-লতানো প্রজাতি। এদের শাখান্বিত, ০.৫ সেমি পর্যন্ত পুরু, গাঢ় বাদামী ৩ মিমি পর্যন্ত লম্বা, বহুকোষী, এক সারিযুক্ত রোম দ্বারা সম্পূর্ণ ঘনভাবে আবৃত। পত্রদন্ড প্রায় ৫ সেমি দূরে দূরে, লম্বাটে, গোড়ার দিকে রোমযুক্ত, শীর্ষের দিকে অধিকতর খাটো রোমযুক্ত। পাতা লম্বা, বল্লমাকার, দ্বি-পক্ষল, পত্রকঅক্ষ এবং শিরা রোমশ, কন্টক রোমাবৃত, প্রাথমিক পত্রক বৃত্তযুক্ত, বল্লমাকার-দীর্ঘাগ্রী, প্রায় ১০ জোড়া, উর্ধ্বমুখী, নিচের ১-২ জোড়া সামান্য হ্রাসকৃত, পক্ষল, সাধারণতঃ বৃন্তযুক্ত, প্রায় ডিম্বাকার ভোঁতা পক্ষবৎ খন্ডিত, প্রধানত: উপরের প্রান্তে, নিচের খন্ড বিডিম্বাকৃতি, গভীর, অবশিষ্ট গুলি খাটো, সবগুলি কৌণিক দন্তর, শিরা উপরে সামান্য স্পষ্ট, নিচে সুস্পষ্ট, উপর এবং নিচ উভয় দিকে কিছু লম্বা, বিক্ষিপ্ত রোম বিশিষ্ট (পাতার অবশিষ্ট তল কখনো কখনো অসংখ্য ক্ষুদ্র রোমযুক্ত অথবা কখনো কখনো উপরের তলের মত মসৃণ)। সোরাসগুলি উর্ধ্বমুখী উপশিরার শেষে উপ-প্রান্তীয়, চওড়া পেয়ালা-আকৃতির ইনডুসিয়াম দ্বারা আবৃত, ইনডুসিয়াম পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সভঙ্গ অথবা ঝালরযুক্ত, সামান্য রোম বিশিষ্ট। ক্রোমোসোম সংখ্যা: x = ৪৩

আবাসস্থল: ছায়াযুক্ত জায়গা। গ্রন্থিকন্দ এবং রেণু দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি:

উত্তর ভারত হতে জাপান, শ্রীলঙ্কা হতে পলিনেশিয়া। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় এই প্রজাতি পাওয়া যায়।

ব্যবহার: তরুণ পাতা সবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৫মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ফিতা ঢেকিয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ফিতা ঢেকিয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ মহল মির্জা, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৫ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩০৯ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Keisotyo

Leave a Comment

error: Content is protected !!