ভূমিকা: ফিতা ঢেকিয়া ( বৈজ্ঞানিক নাম: Microlepia strigosa) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।
ফিতা ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:
ফিতা ঢেকিয়া গ্রন্থিকন্দ দীর্ঘ-লতানো প্রজাতি। এদের শাখান্বিত, ০.৫ সেমি পর্যন্ত পুরু, গাঢ় বাদামী ৩ মিমি পর্যন্ত লম্বা, বহুকোষী, এক সারিযুক্ত রোম দ্বারা সম্পূর্ণ ঘনভাবে আবৃত। পত্রদন্ড প্রায় ৫ সেমি দূরে দূরে, লম্বাটে, গোড়ার দিকে রোমযুক্ত, শীর্ষের দিকে অধিকতর খাটো রোমযুক্ত। পাতা লম্বা, বল্লমাকার, দ্বি-পক্ষল, পত্রকঅক্ষ এবং শিরা রোমশ, কন্টক রোমাবৃত, প্রাথমিক পত্রক বৃত্তযুক্ত, বল্লমাকার-দীর্ঘাগ্রী, প্রায় ১০ জোড়া, উর্ধ্বমুখী, নিচের ১-২ জোড়া সামান্য হ্রাসকৃত, পক্ষল, সাধারণতঃ বৃন্তযুক্ত, প্রায় ডিম্বাকার ভোঁতা পক্ষবৎ খন্ডিত, প্রধানত: উপরের প্রান্তে, নিচের খন্ড বিডিম্বাকৃতি, গভীর, অবশিষ্ট গুলি খাটো, সবগুলি কৌণিক দন্তর, শিরা উপরে সামান্য স্পষ্ট, নিচে সুস্পষ্ট, উপর এবং নিচ উভয় দিকে কিছু লম্বা, বিক্ষিপ্ত রোম বিশিষ্ট (পাতার অবশিষ্ট তল কখনো কখনো অসংখ্য ক্ষুদ্র রোমযুক্ত অথবা কখনো কখনো উপরের তলের মত মসৃণ)। সোরাসগুলি উর্ধ্বমুখী উপশিরার শেষে উপ-প্রান্তীয়, চওড়া পেয়ালা-আকৃতির ইনডুসিয়াম দ্বারা আবৃত, ইনডুসিয়াম পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সভঙ্গ অথবা ঝালরযুক্ত, সামান্য রোম বিশিষ্ট। ক্রোমোসোম সংখ্যা: x = ৪৩
আবাসস্থল: ছায়াযুক্ত জায়গা। গ্রন্থিকন্দ এবং রেণু দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।
বিস্তৃতি:
উত্তর ভারত হতে জাপান, শ্রীলঙ্কা হতে পলিনেশিয়া। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় এই প্রজাতি পাওয়া যায়।
ব্যবহার: তরুণ পাতা সবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৫মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ফিতা ঢেকিয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ফিতা ঢেকিয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন
- শ্বেতফুলি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- পানি কেশুরী বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- চমসা পাথরকুচি এশিয়ায় জন্মানো বাহারী বিরুৎ
- আকন্দ গাছ-এর ১৩টি ঔষধি গুণাগুণ এবং উপকারিতা
- সাতিপাতা উষ্ণাঞ্চলের ভেষজ বিরুৎ
- লজ্জাবতী বাংলাদেশের ঝোপে জন্মানো ভেষজ লতা
- বড় লজ্জাবতী গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় অঞ্চলের লতা
- বড়কুচ পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ফিতা ঢেকিয়া বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলে জন্মে
- যূথিকাপর্ণী গুল্মের ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ
- ময়নাকাঁটা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- কুড় এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম
- কুতি কালাই বর্ষজীবী বিরুত ডাল জাতীয় শস্য
- বিশল্যকরণী লতা বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ
- মেথি দানা ও শাকের নানাবিধ গুণাগুণ
- পাথরকুচি বহুবর্ষজীবী ভেষজ গুণসম্পন্ন বিরুৎ
- মানকচু খাওয়ার নানাবিধি উপকারিতা আছে
- কোদো ধান বর্ষজীবী বিরুৎ
- সাদা চিতা বা সফেদ চিত্রক-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- জোয়ান বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- পিছন্দি গুল্ম-এর ভেষজ গুণাগুণ
- ঝুমকা লতা-এর ভেষজ গুণাগুণ
- মাষকালই ডাল দিয়ে তৈরি নানা রেসিপি
- পিছন্দি পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম
- সাদা কলমির নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- সাদা কলমি এশিয়ায় জন্মানো বিরুৎ
- একাঙ্গী বিরুতের ঔষধি ব্যবহার
- বন পুদিনা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ
- টিকি ওকরা এশিয়ার বর্ষজীবী বিরুৎ
- নাগেশ্বর পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
তথ্যসূত্র:
১. মমতাজ মহল মির্জা, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৫ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩০৯ আইএসবিএন 984-30000-0286-0
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Keisotyo
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।