বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যে কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম রয়েছে। এই বৈচিত্র্যময় প্রজাতিগুলোর মধ্যে ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ (বৈজ্ঞানিক নাম: Melanochelys tricarinata) অত্যন্ত বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। এটি সম্পূর্ণ স্থলজ (Terrestrial) প্রকৃতির একটি কচ্ছপ। বর্তমানে বন উজাড়, পাহাড়ি আবাসন ধ্বংস এবং অতিরিক্ত শিকারের কারণে এটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) কর্তৃক একটি সংকটাপন্ন (Vulnerable) প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই কচ্ছপটির ভূমিকা অপরিসীম।
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস ও পরিচিতি
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের একটি অত্যন্ত বিরল এবং সম্পূর্ণ স্থলজ কচ্ছপ প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক ট্যাক্সোনমি এবং পরিচিতির বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
সাধারণ পরিচিতি
- বাংলা নাম: ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ অথবা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা।
- ইংরেজি নাম: Tricarinate Hill Turtle বা Three-keeled land turtle।
- বৈজ্ঞানিক নাম: Melanochelys tricarinata (Blyth, 1856)।
- সমনাম বা প্রতিনাম (Synonyms):
- Geomyda tricarinata Blyth, 1856
- Geoemyda tricarinata Gray, 1870
- Chaibassia tricarinata Theobald, 1876
- Chaibassia theobaldi Anderson, 1879
- Nicoria tricarinata Lydekker, 1889
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস (Scientific Classification)
| ধাপ (Rank) | নাম (Taxon) |
|---|---|
| জগৎ (Kingdom) | Animalia (প্রাণী) |
| পর্ব (Phylum) | Chordata (মেরুদণ্ডী) |
| শ্রেণি (Class) | Reptilia (সরীসৃপ) |
| বর্গ (Order) | Testudines (কাছিম/কচ্ছপ) |
| পরিবার (Family) | Geoemydidae (কাইট্টা পরিবার) |
| গণ (Genus) | Melanochelys Gray, 1869 |
| প্রজাতি (Species) | M. tricarinata |
🐢 ত্রি-খিলা স্থল কাইট্টার শারীরিক বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা তার পিঠের খোলসের বিশেষ তিনটি ধার বা শিরার জন্য কচ্ছপ জগতে অত্যন্ত অনন্য। নিচে এদের শারীরিক কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. আকৃতি ও খোলসের অনন্য গঠন (Shell Anatomy)
- দৈর্ঘ্য: এই প্রজাতির কচ্ছপগুলো আকারে বেশ ছোট হয়। এদের পূর্ণবয়স্ক দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত সর্বোচ্চ ১৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- লম্বাটে খোলস: এদের পিঠের শক্ত খোলস বা কৃত্তিকাবর্মটি (Carapace) বেশ লম্বাটে এবং কিছুটা বাঁকা প্রকৃতির হয়। এটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের মিঠাপানির ‘শামুকভুক কালী কাইট্টার’ মতো। [1]
- ত্রি-খিলা বা তিন ধার: এদের খোলসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি তিনটি সুস্পষ্ট ধার বা শিরাবিশিষ্ট (Tricarinate) হয় এবং এতে তিনটি ভোঁতা কাঁটার মতো খাঁজ বা শির দেখা যায়।
- মজবুত বন্ধন: এদের নিচের নরম অংশ বা বক্ষস্ত্রাণটি (Plastron) একটি শক্ত বন্ধনী বা অস্থিসন্ধির মাধ্যমে পিঠের খোলসের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে। এদের বক্ষস্ত্রাণটি পিঠের খোলসের চেয়ে লম্বায় কিছুটা বড় হয় এবং উদরীয় বা বক্ষ শিল্ডের মাঝখানে ছোট সূচার (Suture) থাকে।
২. গায়ের রং ও আকর্ষণীয় ব্যান্ডের নকশা
- খোলস ও পেটের রং: এদের পিঠের খোলসটি গাঢ় জলপাই বা ধূসর রঙের হয়ে থাকে এবং এর ওপরের কাঁটা বা শিরাগুলো হালকা হলুদ রঙের হয়। এদের নিচের পেট বা বক্ষস্ত্রাণটি হলদে-বাদামি রঙের দেখায়।
- মাথা ও পায়ের রং: এদের মাথা ও পা ধূসর-কালো রঙের হয় এবং কখনো কখনো এতে হলুদ রঙের সূক্ষ্ম দাগ বা ছোপ দেখা যায়।
- চোখ ও মুখের রঙিন ব্যান্ড: এদের মাথার পাশে এক অসাধারণ রঙের রেখা থাকে। নাসারন্ধ্র (নাক) থেকে শুরু করে চোখ হয়ে কান বা টিম্প্যানাম পর্যন্ত একটি মোটা হলুদ কিংবা লাল রঙের আকর্ষণীয় ব্যান্ড বা দাগ প্রসারিত থাকে। এছাড়া মুখের কোণের নিচের অংশ থেকে নিম্ন চোয়াল বরাবর আরেকটি রঙিন ব্যান্ড নেমে যায়।
৩. মাথা, মুখ ও চোয়ালের বৈশিষ্ট্য
- মাথার গঠন: এদের মাথাটি শরীরের তুলনায় বেশ ছোট এবং তুণ্ড (মুখের অগ্রভাগ) খর্ব বা ছোট ও শঙ্কু আকৃতির হয়। এদের মাথার করোটি বা খুলিটি নলাকার প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- চোয়াল ও খাঁজ: এদের উপরের চোয়ালের ঠিক মধ্যভাগে একটি স্পষ্ট খাঁজ থাকে। তবে এদের চোয়ালের অ্যালভিওলার (Alveolar) আবরণীটি বেশ সরু এবং ধারবিহীন বা ভোঁতা প্রকৃতির হয়।
৪. পা ও শিল্ডের (আঁইশ) বিন্যাস
- পায়ের আঁইশ: এদের পায়ের সামনের অংশে বড় বড় এবং সুচালো আঁইশ থাকে, যা এদের বনে বা মাটিতে চলাফেরা করতে সাহায্য করে।
- শিল্ডের পরিমাপ: এদের খোলসে একটি মাঝারি বড় নুকাল (Nuchal) শিল্ড থাকে। ১ম মেরুশিল্ডটি সামনের দিকে বেশ প্রশস্ত হয় এবং ২য় থেকে ৪র্থ মেরুশিল্ডের দৈর্ঘ্যের চেয়ে প্রস্থ বেশি থাকে (যা এদের পাঁজর শিল্ডের চেয়ে অনেক সরু হয়)।
- অ্যাক্সিলারি ও ইনগুইনাল: এদের অ্যাক্সিলারি শিল্ডটি ছোট হয় এবং ইনগুইনাল শিল্ডের বহিরালম্ব ও পাঁজর প্লেটের বহিঃসীমানা পর্যন্ত সুন্দরভাবে বিস্তৃত থাকে।
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপের স্বভাব, খাদ্য ও প্রজনন প্রক্রিয়া
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা তার জীবনযাত্রার ধরনের দিক থেকে অন্যান্য জলজ কাছিমদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। নিচে এদের স্বভাব, খাদ্য এবং প্রজনন চক্রের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. আবাসস্থল ও জীবনযাত্রা
- সম্পূর্ণ স্থলজ জীবন: এরা মূলত জলজ পরিবেশ এড়িয়ে সম্পূর্ণ স্থলজ (Terrestrial) বন্যপ্রাণী হিসেবে জীবন কাটায়।
- বিচরণ ক্ষেত্র: এরা সাধারণত গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকার নিকটবর্তী পাহাড়ি চারণভূমি, বনাঞ্চলের শালবন এবং শুষ্ক ঘাসযুক্ত বালিয়াড়িতে বাস করে।
- সক্রিয়তার সময়: এরা মূলত গোধূলি বা সন্ধ্যার সময়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। দিনের তীব্র আলো ও রোদ থেকে বাঁচতে এরা বনের ঝোপঝাড় বা শুকনো পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকে।
২. খাদ্য তালিকা (Diet)
- সর্বভুক প্রকৃতি: ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ মূলত সর্বভুক (Omnivorous) প্রাণী।
- খাবারের উৎস: এরা প্রধান খাদ্য হিসেবে বনের বিভিন্ন ধরনের লতাগুল্ম, কচি ঘাস, ফল ও উদ্ভিজ্জ উপাদান গ্রহণ করে। তবে এর পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এরা ছোট ছোট কীটপতঙ্গ ও শামুক-ঝিনুকও ভক্ষণ করে থাকে।
৩. ডিম পাড়া ও বাচ্চার পরিস্ফুটনকাল
কচ্ছপ জগতের বড় কচ্ছপগুলোর তুলনায় এদের ডিম পাড়ার সংখ্যা বেশ কম, যা এদের প্রজাতিটিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
- ডিমের সংখ্যা: স্ত্রী কচ্ছপটি প্রতিবারে গর্ত করে বা গুচ্ছাকারে মাত্র ১ থেকে ৩টি ডিম পেড়ে থাকে।
- ডিমের পরিমাপ: এদের ডিমগুলোর গড় পরিমাপ সাধারণত ৩.৮ থেকে ৪.৪ সেমি (লম্বা) এবং ২.৩ থেকে ২.৫ সেমি (চওড়া) হয়ে থাকে।
- ডিম পাড়ার মৌসুম: এরা বছরে মূলত দুই দফায় ডিম দেয়—প্রথমবার ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে এবং দ্বিতীয়বার অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের প্রজনন সময়ে।
- পরিস্ফুটনকাল: এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে আবহাওয়াভেদে সাধারণত ৬০ থেকে ৭২ দিন (প্রায় ২ থেকে আড়াই মাস) সময় লাগে।
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপের ভৌগোলিক বিস্তার (Geographical Distribution)
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অত্যন্ত বিরল ও আঞ্চলিক (Endemic) বন্যপ্রাণী। নিচে এদের মূল বিচরণক্ষেত্রগুলো আলোচনা করা হলো:
- বাংলাদেশের বিস্তৃতি: বাংলাদেশে এই সম্পূর্ণ স্থলজ কচ্ছপটি মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। প্রথমত, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল (যেমন: পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের শালবন বা পাহাড়ি বালিয়াড়ি এলাকা) এবং দ্বিতীয়ত, দেশের একদম দক্ষিণ-পূর্ব অংশের টেকনাফের পাহাড়ি চিরসবুজ বনাঞ্চল। বনের ভেতরের শুকনো পাতার স্তূপ, ঝোপঝাড় এবং পাহাড়ি ঘাসযুক্ত চারণভূমি এদের প্রধান আবাসস্থল।
- আন্তর্জাতিক বিস্তার: বাংলাদেশের বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে এই বিরল প্রজাতিটির ভৌগোলিক উপস্থিতি কেবল প্রতিবেশী দেশ ভারত (বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বনাঞ্চল) এবং নেপালের তরাই অঞ্চলের পাহাড়ি চারণভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে দেখতে পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপের বর্তমান অবস্থা
ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা প্রজাতিটি প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই বিশেষ সুরক্ষার তালিকায় রাখা হয়েছে:
- বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণ অবস্থা (IUCN & CITES): আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই প্রজাতির কচ্ছপ বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ বা সংকটাপন্ন (Vulnerable) অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এদের অবৈধ পাচার ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য রোধ করতে একে CITES পরিশিষ্ট-১ (Appendix I)-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (যা আগে পরিশিষ্ট-২ এ ছিল)। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে এর যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা: দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই বিরল স্থলজ কচ্ছপটিকে বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী ‘তফসিল-১’ ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশে এই কচ্ছপটি সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত এবং একে ধরা, বনের বাইরে আনা, এর ক্ষতি করা বা মাংসের জন্য শিকার করা সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- হুমকি ও সচেতনতা: পাহাড়ি বনাঞ্চল কেটে ফেলা বা বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট ‘আবাসস্থল সংকোচন’ এবং মানুষের মাংসের লোভ ও শৌখিন বাজারে বিক্রির জন্য ‘অবৈধ শিকার’ই এই প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্বের প্রধান হুমকি। প্রতিবারে মাত্র ১-৩টি ডিম পাড়ার কারণে এদের প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধির হারও অনেক কম, যা এদের বিলুপ্তির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
📝 উপসংহার (Conclusion)
পরিশেষে বলা যায়, ত্রি-খিলা স্থল কচ্ছপ বা ত্রিশিরা শিলা কাইট্টা আমাদের পাহাড়ি বনাঞ্চল ও চারণভূমির বাস্তুতন্ত্র সুস্থ রাখতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। বনের বিভিন্ন ফল ও কচি পাতা খেয়ে এরা প্রাকৃতিকভাবেই বনের উদ্ভিদের বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। তবে মানুষের অতিরিক্ত লোভ, সুস্বাদু মাংসের জন্য নির্বিচারে শিকার এবং আন্তর্জাতিক শৌখিন বাজারে পাচারের কারণে এই শান্ত প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটাপন্ন কচ্ছপটিকে বাঁচাতে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চল রক্ষা করা এবং বন্যপ্রাণী আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
আরো পড়ুন
- বাংলাদেশে কচ্ছপ ও কাছিম সংরক্ষণ: বন বিভাগের উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস (২০১০-২০২৬)
- পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম: বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এই প্রজাতির অজানা তথ্য
- গঙ্গা তরুণাস্থি কাছিম: খালুয়া কাছিমের বৈশিষ্ট্য, হিংস্র স্বভাব ও প্রজননচক্র
- ত্রি-খিলা স্থল কাইট্টা (Melanochelys tricarinata) পরিচিতি, প্রজনন ও বিস্তার
- হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ: মহাবিপন্ন লম্বা কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও বিস্তৃতি
- ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম: উপমহাদেশের বৃহত্তম কাছিমের বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব
- পেলোচেলিস (Pelochelys) কাছিম গণের বৈশিষ্ট্য ও প্রজাতি পরিচিতি
- সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম (Lissemys punctata): পরিচিতি, বাসস্থান ও ডিম পাড়ার অদ্ভুত তথ্য
- মুকুটি নদ-কাইট্টা: নদীর কালী কাছিমের বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও বিস্তৃতি
- মেলানোক্লিস (Melanochelys) কচ্ছপ গণের বৈশিষ্ট্য ও প্রজাতি পরিচিতি
- বাণিজ্যিক কচ্ছপ চাষ পদ্ধতি: চীনা নরম খোলস কচ্ছপ চাষের আধুনিক গাইড
- পরিবেশ রক্ষায় কচ্ছপের ভূমিকা এবং বাংলাদেশে কচ্ছপ বিলুপ্তির কারণ
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিমের সম্পূর্ণ তালিকা
- বাটাগুড় বা বোদো কাইট্টা: মহাবিপন্ন কাছিমের বৈশিষ্ট্য ও প্রজননের সফল ইতিহাস
- বাংলাদেশের সরীসৃপ হচ্ছে কচ্ছপ ও সাপসহ অন্যান্য প্রজাতির বিস্তারিত আলোচনা
- বাংলাদেশের উভচর জলজ ও স্থলজ উভয় পরিবেশে বসবাসকারী ৪১ প্রজাতির প্রাণী
📚 তথ্যসূত্র ও টীকা (References)
১. বইয়ের সূত্র: এম আনোয়ারুল ইসলাম, মোনাওয়ার আহমাদ ও আবু তৈয়ব আবু আহমদ সম্পাদিত; উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ, বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ, খণ্ড ২৫, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, প্রথম প্রকাশ: জুন ২০১১, পৃষ্ঠা: ৬১।
২. সম্পাদনা ও আপডেট বিজ্ঞপ্তি: এই তথ্যবহুল নিবন্ধটি সর্বপ্রথম ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে তারিখে জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘রোদ্দুরে.কম’-এ পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছিল। কন্টেন্টের গুণগত মান, বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং আধুনিক তথ্য বজায় রাখতে আজ ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি নতুন তথ্যসহ পরিমার্জন, আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করা হয়েছে।
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)
উত্তর: এই কচ্ছপদের পিঠের শক্ত খোলস বা কৃত্তিকাবর্মটি অন্যান্য কচ্ছপের মতো মসৃণ না হয়ে তিনটি সুস্পষ্ট লম্বাটে ধার বা শিরাবিশিষ্ট (Tricarinate) হয়ে থাকে। খোলসের ওপর এই বিশেষ তিনটি শিরার থাকার কারণেই এদের ত্রি-খিলা বা তিন-শিরওয়ালা কচ্ছপ বলা হয়।
উত্তর: না, এটি সম্পূর্ণ স্থলজ (Terrestrial) একটি কচ্ছপ। এরা নদী বা পুকুরের পানিতে বাস করে না, বরং বাংলাদেশের টেকনাফ ও উত্তরাঞ্চলের বনাঞ্চলের শুকনো পাতার স্তূপ, ঝোপঝাড় এবং পাহাড়ি ঘাসযুক্ত চারণভূমিতে জীবন কাটায়।
উত্তর: কচ্ছপ জগতের অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এদের ডিম পাড়ার সংখ্যা অনেক কম। একটি স্ত্রী ত্রি-খিলা কচ্ছপ প্রতি প্রজনন ঋতুতে গর্ত করে বা গুচ্ছাকারে মাত্র ১ থেকে ৩টি ডিম পেড়ে থাকে।
উত্তর: বাংলাদেশে এই সম্পূর্ণ স্থলজ কচ্ছপটি মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। প্রথমত, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল (যেমন: পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের শালবন বা পাহাড়ি বালিয়াড়ি এলাকা) এবং দ্বিতীয়ত, দেশের একদম দক্ষিণ-পূর্ব অংশের টেকনাফের পাহাড়ি চিরসবুজ বনাঞ্চল।
উত্তর: এই কচ্ছপগুলোর মাথার দুই পাশে এক অসাধারণ রঙের রেখা থাকে। এদের নাসারন্ধ্র (নাক) থেকে শুরু করে চোখ হয়ে কান বা টিম্প্যানাম পর্যন্ত একটি মোটা হলুদ কিংবা লাল রঙের আকর্ষণীয় ব্যান্ড বা দাগ প্রসারিত থাকে। এছাড়া মুখের কোণের নিচের অংশ থেকে নিম্ন চোয়াল বরাবর আরেকটি রঙিন ব্যান্ড নেমে যায়, যা এদের দেখতে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।