চরমপন্থা বা চরমপন্থাবাদ হচ্ছে কোনো কিছুকে সীমা বা চরম দিকে ধাবিত করা

চরমপন্থাবাদ বা চরমপন্থা  (ইংরেজি: Extremism) হচ্ছে কোনো কিছুকে প্রান্তের দিকে বা সীমার দিকে বা চরম দিকে ধাবিত করা।  চরমপন্থী হওয়ার প্রক্রিয়া বা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চরম মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষ সমর্থন করা। অস্বচ্ছ শব্দ, যার নানারকম অর্থ হয়ে থাকে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চরমপন্থাবাদ হচ্ছে কোনও রাজনৈতিক চিন্তার ফলাফল, হিতাহিত, সম্ভাব্যতা, যৌক্তিকতা, প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি নির্বিচারে শেষ সীমায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা; এবং মুখােমুখি সংঘর্ষে আসাই শুধু নয়, বিরােধী পক্ষকে খতম করাও অভীষ্ট বিষয়। এই ধারায় অপরের সব কিছু চিন্তার প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং অহিংসায় অনীহা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

চরমপন্থাবাদ দ্বারা কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছনাের জন্য যে কোনো ধরনের অবলম্বন, যেটা প্রচলিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, বিশেষ করে যেগুলি অপরের জীবন, স্বাধীনতা ও মানবিক অধিকারের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে সেই রকমের আন্দোলনকে বোঝানো হয়ে থাকে।

এছাড়াও চরমপন্থাবাদ দ্বারা বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ও বিপ্লবের অস্পষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শে বিশ্বাস এবং ক্ষমতা দখল ও সন্ত্রাসবাদী কৌশল প্রয়ােগের চেষ্টাকেও বোঝান হয়।

চরমপন্থাবাদ পরিভাষাটি বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তাধারায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, বিশেষভাবে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী প্রতিক্রিয়াশীল সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলো নিপীড়িত দেশসমূহের জনগণকে উদ্দেশ্য করে এই শব্দটি ব্যবহার করে। পাশ্চাত্যের মিথ্যাচারী প্রচারমাধ্যম বিবিসি এবং সিএনএনসহ সাম্রাজ্যবাদী প্রচারমাধ্যম এই পরিভাষা দ্বারা এমন মতাদর্শগুলোকে বোঝায় সমাজের মূলধারার আচরণ বা মনোভাব হতে অত্যধিক বহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করে।

আবার কতিপয় ক্ষেত্রে চরমপন্থাবাদকে কোনো একটি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সংজ্ঞার্থ করা হতে পারে। অর্থাৎ চরমপন্থা পরিভাষাটি সাধারণত দৃঢ় অসমর্থন প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মর্যাদাহানিকর অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এই শব্দটির অর্থ দ্বারা মাঝে মাঝে অধিক পাণ্ডিত্যপূর্ণ, নির্ভেজালভাবে বিবৃত এবং অ-নিন্দাসূচক দৃষ্টিকোণ প্রকাশিত হতে পারে।

চরমপন্থাবাদীদের সাধারণত কেন্দ্রিকতাবাদী ও মধ্যপন্থীদের বিপরীতে তুলনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, পাশ্চাত্যের সন্ত্রাসবাদী দেশগুলোতে ইসলাম বা ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলনসমূহের সমসাময়িক আলোচনায় মন্দ অর্থে চরমপন্থী এবং ভালো অর্থে মধ্যপন্থী মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য করার প্রবণতা বড় আকার ধারণ করেছে।

আরো পড়ুন:  নব্যধ্রুপদীবাদ শিল্প, সাহিত্য, থিয়েটার, সংগীত ও স্থাপত্যের সাংস্কৃতিক আন্দোলন

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ১০৫।

Leave a Comment

error: Content is protected !!