ভূমিকা: ছোট ছাতিম হচ্ছে এপোসিনাসি পরিবারের এলস্টোনিয়া গণের একটি সপুষ্পক বৃক্ষ।
ছোট ছাতিম-এর বিবরণ:
ছোট ছাতিম লম্বা বৃক্ষ। এদের পাতা এক আবর্তে ৩-৪টি, পত্রবৃন্ত অনূর্ধ্ব ২ সেমি লম্বা, পত্রফলক ১৫-৩০ x ৪.৫-৯.৫ সেমি, উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার, অর্ধ-চর্মবৎ, উপরের পৃষ্ঠ চকচকে, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ বিবর্ণতর, ১৪-২১ জোড়া পার্শ্ব শিরাবিশিষ্ট, ঝিল্লিময়, উপরের পৃষ্ঠ মসৃণ, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ ঘন রোমশ, নিম্নাংশ ক্রমান্বয়ে সরু, শীর্ষ আকস্মিকভাবে খর্ব-দীর্ঘাগ্র। পুষ্পবিন্যাস প্রান্তীয়, বহু-পুষ্পবিশিষ্ট সমভূমঞ্জরী সাইম, রোমশ। পুষ্প ক্ষুদ্র, সাদা। বৃতি ঘণ্টাকার, খন্ড ৫টি, ডিম্বাকার, সূক্ষ্মাগ্র, রোমশ, ০.৫ মিমি লম্বা। দলমণ্ডল বেলনাকার, বহির্দেশ মসৃণ, ৫ মিমি লম্বা, মুখ সংকুচিত, খন্ডসমূহ গোলাকার। ফলিক্যাল বহুসংখ্যক, সরু, বিলম্বী, অনূর্ধ্ব ৩৬ সেমি লম্বা।ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ২২।
চাষাবাদ ও আবাসস্থল: রাস্তার কিনারায় আবাদ করা হয়। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে জুন থেকে জানুয়ারি মাসে। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।
বিস্তৃতি:
বোর্নিও, কম্বোডিয়া, সেলিবিস, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউ গিনি, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে ইহা বনাঞ্চলের বৃক্ষ রূপে প্রবর্তন করা হয়।
অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:
মূলের ক্বাথ উচ্চরক্তচাপ রোধক, পিত্তনাশক এবং বলবর্ধক। বাকলের দ্রবণীয় আরক, ক্বাথ, চূর্ণ বা জলজ সুরা জাতীয় দ্রবণ জ্বরনাশক ঔষধ ও আমাশয় নিবারক। ফিলিপাইনে অস্থিসন্ধি মচকানো কালশিরা ও অস্থিসন্ধি চ্যুতি এর নিরাময়ের জন্য নারিকেল তেলের সাথে এই গাছের পাতার পুলটিশ ব্যবহার করা হয়। ছাতিমের বিভিন্ন ভেষজ গুনাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ছোট ছাতিম প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ছোট ছাতিম সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বৃক্ষ রোপণ বাড়ানো যেতে পারে।
তথ্যসূত্র:
১. এম আতিকুর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৮৬-১৮৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
- পানি কেশুরী বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড়কুচ পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ময়নাকাঁটা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- নাগেশ্বর পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- কুমারি বুড়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উপকারি বৃক্ষ
- সিন্দুরি গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মে
- শাল গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ছোট জাগরা বাংলাদেশের পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি জাগরা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বৃক্ষ
- ভল্লা পাতা জাগরা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড় কুকুরচিতা চিরহরিৎ ভেষজ বৃক্ষ
- বড়হরিনা ভেষজ গুণসম্পন্ন ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ
- পুবদেশি বনচালতা বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদ
- পলক জুঁই সুগন্ধি আলংকারিক বৃক্ষ
- গন্ধাল রঙ্গন দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ছোট বৃক্ষ
- গোমরিয়া গামার পার্বত্যঞ্চলের ভেষজ বৃক্ষ
- চালমুগড়া বা ডালমুগরি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ঝাউয়া বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো উপকারী বৃক্ষ
- স্থল পদ্ম গ্রীষ্মমন্ডলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- হরপুল্লি বাংলাদেশে পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো বৃক্ষ
- দাকুম দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো পত্রঝরা বৃক্ষ
- পানিসরা বা পিচান্দি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের উপকারী বৃক্ষ
- ফলসা দক্ষিণ এশিয়ার জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি কার্পাস এশিয়ায় জন্মানো বর্ষজীবী বৃক্ষ
- দেশি কচুয়া পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো চিরহরিৎ বৃক্ষ
- অরনি বা বাতঘ্নী এশিয়ায় জনানো ভেষজ উদ্ভিদ
- চিল্লা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গাছ
- স্বর্ণমূলা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- সপ্তরঙ্গী-এর ভেষজ গুণ সম্পন্ন বৃক্ষ
- মায়াফল গাছ-এর তেরটি ভেষজ গুণাগুণ
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১২টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।