জল নেমে গেলে পলি

দেবতার থানে ধ’রে দিয়ে পাঁচসিকে/ কিনে নেব ত্রাণ -/ আমরা নই সে চিজ/ হানা দিলে বান/ ডেকে তুলে পড়শিকে/ চলে আমাদের তদন্ত তজবিজ।/ পেটে পড়ে টান,/ পড়ক –/ উঁচুতে টাঙাই শিকে/ পদ্মপাতায় ভালো ক’রে মুড়ে/ মাটির হাঁড়ির মুখ/ হাতের নাগাল থেকে ঢের দূরে/ তুলে রেখে দিই বীজ আরো পড়ুন

ভানুমতীর খেল

সাদার গায়ে ছিটানও কিছু কালি;/ বিষয়আশয় বলতে সেই বুড়োর/ আর আছে কী?/ এই নিয়েই তো খালি/ যত রাজ্যের চাপান আর উতোর।/ ইহকালের কাছে তো সেই বুড়ো/ পাতেনি হাত ;/ আপনি মিলেছে যা/ তাতেই খুশি, হোক না খুদকুঁড়ো/ হোক কিছু তার চোখের জলে ভেজা। আরো পড়ুন

খেলা

খেলনাগুলো পড়ে রইল/ ছড়িয়ে ছিটিয়ে/ দেশলাইয়ের বাক্স জোড়া দিয়ে/ তৈরি করা রেল/ উনুন কড়াই খুন্তি/ চালডাল ভাড়ার হেঁশেল/ হাত-খসা পা-খসা/ মুণ্ডুহীন/ কয়েকটা পুতুল/ চেয়ার টেবিল টুল/ মুখোলে ফোটানো আরো পড়ুন

চিৎ

বুড়োর কানের কাছে এনে মুখ/ বললাম হেঁকে,/ ‘ওহে, বেলা গেল। ’/ বুড়ো হেসে বলে, ‘ওরে উজবুক,/ তবে তো এখনই/ কনে-দেখা-আলো।’/ বললাম, ‘বুড়ো, বেঁচে করবে কি ?/ চোখেও দেখ না,/ কানেও শোনে না। আরো পড়ুন

জল সইতে

দেখে যাতে তোমাদের কষ্ট না হয়,/ চোখে যাতে ভালো লাগে/ তার জন্যে/ আমার বুকে-বেঁধানো সমস্ত কাটায়/ আমি গুজে দিয়েছি/ একটি করে ফুল—/ তোমরা হাসো।/ শুনে যাতে তোমাদের দুঃখ না হয়,/ কানে যাতে ভালো ঠেকে/ তার জন্যে/ আমার বুক-ভাসানো সমস্ত কান্নায়/ আমি জুড়ে দিয়েছি/ একটি করে সুর – আরও পড়ুন

বত্রিশ সিংহাসন

আগে ছিল মাটির তলায়,/ সে একরকম ভালো ;/ এখন ভাসছে চোখের ওপর –/ বডডই জ্বা-লালো!/ বত্রিশটা বছর গেছে/ তাকাতে তাকাতে –/ কখনও ডান কাতে, হরি হে,/ কখনও বা-কাতে।/ এই কারণে ভোজ রাজার/ মনটা করে হু হু –/ বসতে গেলেই সিংহনাদে/ আওয়াজ যে হয় ‘উঁ-হুঁ’ আরো পড়ুন

বোনটি

বাপ গিয়েছে স্বর্গে ;/ দাদার লাশ/ মর্গে।/ ভালো চাস তো, যা এইবেলা/ ধর গে/ ঐ অমুককে –/ কী করে যাই,/ আজ্ঞা।/ ওঁরই ক্ষেতে বর্গা।/ ধরনা দেবার একটাই জায়গা/ বড় পীরের দরগা।/ ইস্কুলের মাঠে সারি সারি/ গোঁ গোঁ করে/ কালো গাড়ি।/ ঐ অমুকের বাড়ি থেকে যায়/ বড় বড় চাঙারি। আরো পড়ুন

তো

রাস্তাগুলো খোঁড়া হ’চ্ছে/ রাস্তাগুলো খোঁড়া করছে/ কারণ, রাস্তা বড় হ’চ্ছে/ হবেই তো—/ কতদিন আর থাকবে বাচ্চা ?/ চাকায় হাড় মড়মড়িয়ে/ গাড়ি যাবে গড়গড়িয়ে/ তবেই তো !/ তালি বাজান,/ ও মেরি জান।/ বহুৎ আচ্ছ!/ বহুৎ আচ্ছ।/ উচু উচু পেল্লায় বাড়ি/ আহা-হা তা/ উঠবেই তো! আরো পড়ুন

বোবা কোকিল

কথা চাপিয়ে/ কথার পৃষ্ঠে/ কাটছিল দিন/ কষ্টেসৃষ্টে/ এখন যে কী মুশকিল !/ হয়ত কেউ/ পঞ্চাশোর্ধ্বে/ ঠাট্টা করে।/ খাঁচার মধ্যে/ বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে এক কোকিল। আরো পড়ুন

ঠাকুরমার ঝুলি

এ-দুয়োরে যায়: দূর-দূর! / ও-দুয়োরে যায় । ছেই-ছেই !/ সুয়োরানী লো সুয়োরানী তোর/ রাজ্যে দিল হানা/ পাথরচাপা কপাল যার সেই/ ঘুটেকুড়ানির ছানা/ ঘেন্নায় মরি, ছি!/ মন্ত্রী বলল, দেখছি/ কোটাল বলল, দেখছি/ ঢোল ডগরে পড়ে কাঠি/ রক্তে হয় রাঙা মাটি আরও পড়ুন

error: Content is protected !!