কি বলেন

ভাবছি।/ একটা গাড়ি কিনব ?/ না কি একটা বাড়ি?/ আমার মতে, গাড়িই ভালো –/ না কি বলেন, বাড়ি ।/ বাড়ি হলেও মন্দ হয় না/ কিন্তু দেখুন, গাড়ি –/ কত সুবিধে। মনে করলেই/ ডায়মণ্ডহারবার/ কিংবা ধরুন, উইকেণ্ডে রাঁচি! আরো পড়ুন

যেখানে ব্যাধ

এখান থেকে একটা নেয়/ ওখান থেকে দুটো/ এমনি করে বাসা বানায়/ কুড়িয়ে খড়কুটো/ যখন ডাকি আয়রে পাখি/ ধরা দে/ হারিয়ে খেই বুকের এই/ গরাদে/ একটিবার ফিরিয়ে ঘাড়/ সহসা অপ্রস্তুত/ বাঁকানো ঠোটে চমকে ওঠে/ চোখের জলবিদ্যুৎ আরো পড়ুন

মরুভূমির হাওয়ায়

আমি কখনও ভুলি না/ কিভাবে/ তুমি আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিলে/ এক শশাকের রাত্তির।/ আকাশের চোখ ধুলো দিচ্ছিল/ বাইরে/ মরুভূমির হাওয়া।/ অন্ধকারে রিনটিন রিনটিন করে/ একদল উট/ বেশ একটু নাকউঁচুভাবে/ শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে যাচ্ছিল।/ রাস্তার ওপাশে ওটা কী গাছ/ আমি জানি না/ বাগানে ফুটে আছে ওটা কী ফুল/ আমি জানি না। আরো পড়ুন

ল্যাং

ডান কানটা বিগড়ে গেলেও, বা কানটা আছে, তাইতে ধরছি কে এবং কী, ছাড়ছে ধারে-কাছে –। ‘আপনি, মশাই, গেছেন বদলে, বদলে গেছেন, ছি ছি। আগে গলায় বাজ ডাকাতেন, এখন করেন চিঁ চিঁ।’ ‘ইনাম পেয়ে জাহান্নামে আরো পড়ুন

উত্তরপক্ষ

বাবা বলেন, যখন হবার/ আপনিই হয়,/ আসল ব্যাপার/ সময়।/ বাবা বলেন, সবার আগে/ জানা দরকার/ স্রোতে লাগে/ কখন জোয়ার,/ কখনই বা ভাটা।/ বাবা বলেন, এমনি ক’রে/ সারা রাস্তা ধৈর্য ধ’রে/ মড়া টপকে/ মড়া টপকে/ মড়া টপকে হাঁটা।/ বাবারা যা বলেন তা কি ঠিক ?/ এও ভারি আশ্চর্য,/ গা বাঁচাবার নাম দিয়েছেন সহ্য। আরো পড়ুন

পূর্বপক্ষ

ছেলেপুলেগুলোকে থামাও তো !/ ওঃ সারাটা দিন যা গেছে !/ এখন একটু গড়িয়ে নিই।/ কী গেল ? পাথরের সেই পুরনো মূতিটা ?/ ইস, ভেঙে-ভেঙে ওরা আর কিছু রাখল না।/ এখনকার যে কী হাওয়া !/ একটু গড়িয়ে নিই।/ ও সারাটা দিন যা গেছে !/ মাঠে ধান রুয়েছি, পুকুরে চারামাছ।/ জল হাওয়ায়, একটু রও, হানফান করে বাড়বে— আরো পড়ুন

গোলোকধাম

ডানাকাটা পরী বলে,/ ‘বুড় হ/ একবার খতম হলে খেল/ তারপর স্বর্গে যাবি ?/ দূর ই –/ বলিহারি তোর এই আক্কেল !/ ফের যদি দেখেছি গির্জায় !/ উঁহু,/ সাধুসন্তেরও কাছে না।/
গায়ে দিবি বাহারে মেরজাই,/ ফুল কিনবি –/ হোক ধারদেনা। আরো পড়ুন

সাধ

দু দেয়ালে রুজু রুজু/ দুটো ছবি/ টাঙানো পেরেকে।/ একটিতে কাটায় বিদ্ধ/ যীশুখ্রীষ্ট!/ অন্যটিতে/ হেলায় করেন কর্ণ মৃত্যুকে বরণ/ রথের চাকায় হাত রেখে। দুটোই জ্বলজ্বল করছে/ বিধিবহিভূর্ত দুটি/ চিরঞ্জীব/ জন্মের মহিমা। আরো পড়ুন

ফেরাই

সবাই সমান/ যেখানে গেলে সবাই সমান হয়/ ‘সব লাল হো যায়েগা’ ব’লে/ এক লাফে/ সটান সেই জায়গায়/ কাঁধ ধরাধরি ক’রে/ পৌছুনো/ এবং পৌঁছে দেওয়া গেল।/ রাবণের চুল্লির সামনে লাইনবন্দী হয়ে/ ধর্না দিচ্ছে/ লালগাড়ি-পাশ-হওয়া/ ছুরিবিদ্ধ গুলিবিদ্ধ/ অপাপবিদ্ধের দল। আরো পড়ুন

দ্রুতি

গভীর রাত তীব্র গতি খড়ের গাড়ি গরুর চোখ গাছের গুঁড়ি খড়ির দাগ ॥ সুভাষ মুখোপাধ্যায়সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৯ – ৮ জুলাই ২০০৩) ছিলেন বিশ শতকের উল্লেখযোগ্য বাঙালি বামপন্থী কবি ও গদ্যকার। তিনি কবি হিসেবে খ্যাতিমান হলেও ছড়া, প্রতিবেদন, ভ্রমণসাহিত্য, অর্থনীতিমূলক রচনা, অনুবাদ, কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা, উপন্যাস, জীবনী, শিশু ও কিশোর সাহিত্য ইত্যাদি রচনাতেও উল্লেখযোগ্য … Read more

error: Content is protected !!