আমরা যাবো

জলের কলে টিপ, টিপ,/ টিপ, টিপ।/ এখুনি/ বাসন-ধোয়া জলে/ নিজের মুখ দেখবে/ ধোঁয়ায় ধোঁয়াকার আরও একটি সকাল ।/ ততক্ষণে শানবাঁধানো অন্ধকার/ দেয়ালে দেয়ালে মাথা খুঁড়ে মরুক/ আর আমরা জলের কলে শুনি – আরো পড়ুন

সুন্দর

যখন তোমার আঁচল দমকা হাওয়ায় একা একা উড়ছিল/ তখনও নয়/ বিকেলের পড়ন্ত রোদে বিন্দু বিন্দু ঘাম/ তোমার মুখে যখন মুক্তোর মতো জ্বলছিল/ তখনও নয়/ কী একটা কথায় আকাশ উদ্ভাসিত ক’রে/ তুমি যখন হাসলে/ তখনও নয়/ যখন ভোঁ বাজতেই আরো পড়ুন

লাল টুকটুকে দিন

তুমিই আমার মিছিলের সেই মুখ—/ এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত যাকে খুঁজে/ বেলা গেল।/ ফিরে দেখি সে আগন্তুক/ ঘর আলো ক’রে ব’সে আছে পিলসুজে।/ দিনে দূরে ঠেলে দিনান্তে নিলে কাছে।/ ঠা-ঠা রোদ্দুরে পাইনি কোথাও ছায়া,/ নীল সমুদ্র পুড়ে গেছে সেই আঁচে/ চোখ মুছি—/ তুমি স্বপ্ন !/ না, তুমি মায়া ? আরো পড়ুন

অগ্নিকোণ

অগ্নিকোণের তল্লাট জুড়ে দুরন্ত ঝড়ে তোলপাড় কালাপানি/ খুন হয়ে যায় সাদা সাদা ফেনা/ ঘুমভাঙা দলবদ্ধ ঢেউয়ের/ ক্ষুরধার তলোয়ারে।/ বনেজঙ্গলে ঝটপট করে প্রতিহিংসার পাখা। কাঁধের জোয়াল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ধনুকের মতো বাঁকা পিঠগুলো টান ক’রে ঘুরে দাড়ায়— পেরাকে পেনঙে টিনের খনিতে রবারের বনে, মশলার দ্বীপে/ সোনাফলা ইরাবতীর দুধারে উপত্যকায়/ বদ্বীপে, নীলকান্তমণির/ ঝিকিমিকি দেশে শ্যামে, কম্বোজে/ আনামী পাহাড়ে/ মেকং নদীর বানডাকা জলে/ ঘুম-ভেঙে-ওঠা অগ্নিকোণের মানুষ।/ রক্তের পাকে শত্রুকে পুঁতে/ অন্ধকারের বুকে হাঁটু দিয়ে দুহাতে উপড়ে আনে/ দুঃশাসনের ভিং।আরো পড়ুন

ঘোষণা

এ দেশ আমার গর্ব, এ মাটি আমার কাছে সোনা। এখানে মুক্তির লক্ষ্যে হয় মুকুলিত আমার সহস্র সাধ,সহস্র বাসনা। এখানে আমার পাশে হিমাচল, কন্যাকুমারিকা। অলঙ্ঘ্য প্রাচীর ঐক্য প্রতিজ্ঞা পরিখা।   দুর্ভিক্ষ পীড়িত দেশ, রক্তচক্ষু রাজার শাসন— শকুনি বিশ্বস্ত বন্ধু, মুঠোয় শিথিল সিংহাসন; সর্বাঙ্গে চিহ্নিত মৃত্যু, শবের গলিত গন্ধ ছোটে।   প্রজাপুঞ্জ ওঠে; আগুন লেগেছে ঘরে, খরসূর্য … Read more

হেঁ-হেঁ আলির ছড়া

কাণ্ড মহকুমার সদরে ভাই দেখে এলাম কাণ্ড একজন ডালে একজন পাতায় খোঁজে গাছের কাণ্ড দেখতে তালপাতার সেপাই মাথাগুলো প্রকাণ্ড তাকায় না ফলফুলে লক্ষ্য একদম মূলে বলে না অবিশ্যি খুলে তারা ছাড়া বাকি সবাই কেন অকালকুষ্মাণ্ড এ কয় ওরে, শিখো রে পৌঁছুতে হয় কী ক’রে সোজা সটান শিকড়ে— ব’লে যেই না হাত দেয় ছেড়ে চিৎ ক’রে … Read more

কাছে দূরে

মুখখানি যেন ভোরের শেফালি নেমে গেল এক্ষুনি দু-অধরে চেপে চাঁদ একফালি নেমে গেল এক্ষুনি তার দুটি আঁখি খঞ্জন পাখি দূরে কাছে ঘুরে নাচে এই আছে এই নেই আছে নেই দূরে কাছে ঘুরে নাচে নেমে গেল এক্ষুনি হাওয়া বারে বারে আঁচল সরায় হাত বারে বারে ঢাকে হাত খালি হলে আঙুল জড়ায় সময়কে পাকে পাকে নেমে গেল … Read more

ফড়েদের প্রতি

আমি জানি, আমি দাবা খেলতে বসলেই/ পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়বে এক লক্ষ ফড়ে—/ যে যার হাতের কাজ ফেলে রেখে/ আমার প্রত্যেকটা চাল/ পাখি পড়ানোর মত করে বলে দিতে চাইবে। আরো পড়ুন

আমার কাজ

আমি চাই কথাগুলোকে পায়ের ওপর দাঁড় করাতে। আমি চাই যেন চোখ ফোটে প্রত্যেকটি ছায়ার। স্থির ছবিকে আমি চাই হাঁটাতে। আমাকে কেউ কবি বলুক আমি চাই না। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যেন আমি হেঁটে যাই। আমি যেন আমার কলমটা ট্রাক্টরের পাশে নামিয়ে রেখে বলতে পারি— এই আমার ছুটি ভাই, আমাকে একটু আগুন দাও। সুভাষ … Read more

আশ্চর্য কলম

এই যে দাদা, এতদিনে বেরিয়েছে/ নতুন ফর্মুলায় তৈরী/ খলিফাচাঁদের আশ্চর্য কলম — ‘খাইখাই’/ চোর, জোচ্চোর, লোচ্চা, লম্পট, খাজা, খোজা/ পণ্ডিত, মূর্খ যে কেউ চোখ বুঁজে/ রাতারাতি লেখক হতে পারে।/ একলম হাতে থাকলে/ বসা বা দাঁড়ানো, চিৎ বা উপুড়/ যে কোন অবস্থায়/ প্রকাশ্যে ঝোপ বুঝে কোপ দেওয়া যায়—/ কোনরকম আগবাগ বা রাখঢাকের দরকার হয় না। আরো পড়ুন

error: Content is protected !!