সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির ঊনবিংশ কংগ্রেসে প্রদত্ত ভাষণ

কংগ্রেসে ভাষণ

যে সমস্ত ভ্রাতৃপ্রতিম পার্টি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে উপস্থিত হয়ে আমাদের পার্টি কংগ্রেসকে সম্মানিত করেছেন, অথবা যাঁরা বন্ধুত্বপূর্ণ অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন, আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন, আমাদের আরও সাফল্য কামনা করেছেন, পার্টি কংগ্রেসের নামে তাদের ধন্যবাদ জানানোর অনুমতি আমাকে দিন। আরো পড়ুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উৎস ও চরিত্র

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উৎস

এটা ভাবা ভুল যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হঠাৎ ঘটে গেছে বা কোনও কূটনীতিজ্ঞর ভুলের জন্য এই যুদ্ধ বেধেছে। অবশ্য ভুল যে হয় না তা নয়। বাস্তবে, আধুনিক একচেটিয়া পুঁজির বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতেই এই যুদ্ধ বেধেছে। মার্কসবাদীরা একাধিকবার ঘোষণা করেছে পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সাধারণ সংকট ও সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্ম দেয়। আরো পড়ুন

শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণির পার্টি

‘রাশিয়া এক এবং অবিভাজ্য’ যখন লোকে জোর গলায় এ কথা বলতো সেদিন চলে গেছে। আজ একটি শিশুও জানে এক এবং অবিভাজ্য রাশিয়া বলে কিছু নেই, অনেক আগেই রাশিয়া ভাগ হয়ে গেছে- বুজোয়া ও শ্রমিক এই দুটি বিরোধী শ্রেণিতে। আজ আর এ কথাটি গোপন নেই যে, এই দুটি শ্রেণির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করেই আমাদের বর্তমান জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। আরো পড়ুন

অবকাশ যাপনে কমরেড লেনিন

আমার মনে হয়, “অবকাশ যাপনে কমরেড লেনিন” নিয়ে এখন লিখতে যাওয়াটা যথাযোগ্য হবে না, যখন অবকাশ-কাল শেষ হয়ে আসছে এবং শীঘ্রই কমরেড লেনিন কাজে ফিরে আসবেন। তাছাড়া, আমার অনুভূতিগুলো এত বেশি আর এত ভারি যে, ‘প্রাভদা’র সম্পাদকমণ্ডলী যেভাবে অনুরোধ করেছেন তেমনি একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে সেগুলো সম্পর্কে লেখাটা নিতান্ত সুবিধাজনক নয়। আরো পড়ুন

নৈরাজ্যবাদ অথবা সমাজতন্ত্র

ডিসেম্বর ১৯০৬ – জানুয়ারি ১৯০৭; আমরা সেই ধরনের লোক নই, যারা নৈরাজ্যবাদ শব্দটার উল্লেখ হলেই অবজ্ঞাভরে মুখ ফিরিয়ে এবং উন্নাসিকভাবে হাত নেড়ে বলে, ‘ও সম্পর্কে সময় নষ্ট করে কি হবে? ওটা তো আলোচনারই যোগ্য নয়!’ আমরা মনে করি এ রকম সস্তা সমালোচনা মর্যাদাহানিকর ও নিরর্থক। আমরা আবার সে ধরনের লোকও নই, যারা এই চিন্তা করে নিজেদের সান্তনা দেই যে নৈরাজ্যবাদীদের ‘পেছনে কোনো ব্যাপক জনসাধারণ নেই এবং সেজন্য তারা ততটা বিপজ্জনক নয়।’ আরো পড়ুন

পুঁজিবাদী দেশগুলিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বর্ধমান উত্তেজনা

দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সঙ্কটের একটি ফল হয়েছে এই যে পুঁজিবাদী দেশগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে— সেই দেশগুলির অভ্যন্তরে ও সেই দেশগুলির পারস্পরিক সম্পর্কক্ষেত্রে, উভয়তঃই এক অভূতপূর্ব উত্তেজনা বৃদ্ধি হয়েছে। বৈদেশিক বাজারের জন্য তীব্র লড়াই, অবাধ বাণিজ্যের শেষ চিহ্নের অবলুপ্তি, নিবারক শুল্ক, বাণিজ্য যুদ্ধ, বৈদেশিক মুদ্রা যুদ্ধ, ডাম্পিং ও অন্যান্য অনেক অনুরূপ ব্যবস্থা যা অর্থনৈতিক কর্মনীতির ক্ষেত্রে চরম জাতীয়তাবাদের পরিচায়ক ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ককে চূড়ান্তভাবে বিষিয়ে তুলেছে, আরো পড়ুন

নারী পুরুষ ও শ্রমবিভাগ

ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই আমরা জানতে পারি যে সমাজে যে শ্রেণি বা গোষ্ঠী উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে, এবং উৎপাদনের প্রধান কাজগুলো করে থাকে, কালে কালে তাদেরই যে উৎপাদন ব্যবস্থার উপর আধিপত্য স্থাপিত হবে সে কথা অবশ্যম্ভাবী। মাতৃপ্রধান সমাজে এমন একটা সময় ছিলো যখন উৎপাদন ব্যবস্থার উপর নারীদেরই প্রাধান্য মেনে নেয়া হতো। তার কারণ কি? আরো পড়ুন

লেনিনবাদের ভিত্তি পুস্তকের ভূমিকা

বিষয়বস্তু হিসেবে লেনিনবাদের ভিত্তি খুবই ব্যাপক। এ সম্বন্ধে পুরোপুরি আলোচনা করতে গেলে সম্পূর্ণ একটা বই লেগে যাবে। সত্যি কথা বলতে কি, অনেকগুলি বইই দরকার হবে। সুতরাং স্বভাবতই, আমার বক্তৃতার মধ্যে লেনিনবাদের সম্পূর্ণ আলোচনা থাকবে এমন আশা করা যায় না। বড়ো জোর, এতে লেনিনবাদের ভিত্তি সম্বন্ধে একটা মোটামুটি চুম্বক অংশ আরো পড়ুন

কর্মীদের উপর সব নির্ভর করে

‘শিল্পবিজ্ঞানই সবকিছু নির্ণয় করে’— এই পুরনো স্লোগান যে যুগের অবস্থার প্রতিফলন সে যুগে আমরা শিল্পযন্ত্রের অভাবে ভুগেছি, সে যুগ আজ অতীত। এই পুরনো স্লোগানের বদলে নতুন স্লোগান আজ আমাদের গ্রহণ করতে হবে, সেই নতুন স্লোগান হচ্ছে— ‘কর্মীদের গুণবত্তাই সবকিছু নির্ণয় করে’। এটিই এখন প্রধান ব্যাপার। আরো পড়ুন

শ্রেণিসংগ্রাম

আজকের সমাজ অত্যন্ত জটিল! এ’হলো রং- বেরংয়ের শ্রেণি ও গোষ্ঠীগুলির জোড়াতালি বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া; বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া সামন্ততান্ত্রিক জমিদার; দিনমজুর, অদক্ষ শ্রমিক ও দক্ষ কারখানা-শ্রমিক; উচ্চতম, মাঝারি ও নিম্নতম যাজকমন্ডলী; উচ্চতন, মাঝারি ও ক্ষুদে আমলাতন্ত্র; নানামতের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং অনুরূপ নানা রকমের অন্যান্য গোষ্ঠী। আমাদের সমাজের এই হলো বহুবর্ণ ছবি! আরো পড়ুন

error: Content is protected !!