বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা

বনবন ঘোরা থেকে মাথা বড় কষ্টে সুস্থির হয় অন্ধকারে, চিন্তার গতিবেগ শূন্যতায় নেমে যায়, দিনাতিপাতের পরে আবার বাড়ে এক ফালি হিসেব নিকেশ দৈনন্দিন হাজিরা ও অনুপস্থিতির গড়;   কবেকার বস্তির দলা পাকানো জঙ্গলে জন্মেছিলো আমার উৎসাহহীন ভ্রুণ, তারপর অবিরাম পথচলা রাজপথ অলিগলি জংলি ইট কাঠ রড টিন সিমেন্ট মেলায়; উদ্যান চোখেও দেখেনি কারো দাদা, আমি … Read more

মৃত্যু এসে নিয়ে যাক শৃঙ্খলিত প্রাণ

জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই জন্মেছো তুমি, উঠেছো বেড়ে কন্টকাকীর্ণ সুবিস্তীর্ণ জনমানববহুল মাঠে, তোমার মাথার উপরে গভীর পুঁজভর্তি সাদা আকাশ, প্রভাত সূর্য অতিরুগ্ন বৃদ্ধের মতো লাঠি ধরে এগিয়ে আসে ঘন দেয়ালের ভিতর দিয়ে, অথচ তুমি জানো না আজো এদেশে রাত্রি নামে ঘুষখোরের মতো বীরদর্পে, তোমার মহানিয়ন্ত্রককে তুমি চোখে দেখোনি কিন্তু উপনিয়ন্ত্রকের পা টিপে দাও, গোসল করাও, … Read more

তৃতীয় পক্ষের গমনাগমন

ক্ষণে ক্ষণে টের পাই তোমার ত্রিসীমানায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে আছি; পথ নেই ছেড়ে যাবার; ইতিহাস শিক্ষা দেয় একদিন প্রয়োজন ফুরাবে, কেননা ইতিহাস সবকিছু পাঠায় ধ্বংসকুপে তুমি-আমি-কংকাল-রাজপ্রাসাদ-সভ্যতা-কৃষ্ণগহ্বর; ইতিহাস পাঠায় ধ্বংসকুপে মরণের স্পন্দনে চলমান প্রাণের ঘূর্ণায়মান সুতা ছিঁড়ে ছুটে চলা অবিরাম বিড়বিড় আউলা প্রলাপ বকা ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি আমার ছাদ হতে পৌঁছে যায় তোমার অলিন্দে; আমাকে পৌঁছে … Read more

ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক

জমে আছে মাথার ক্ষতস্থানে জমাট রক্তপিন্ডের মতো কালচে বিষাদ, বুকের বেয়াড়া রোগে কাবু হয়ে বসে থাকি ব্যাঙের প্রস্তরমূর্তি, উপপাত্র বাঁকা হাসির;— নাম নেই; শালা গাধা, বলির পাঁঠা, দুবর্গ ইঞ্চি জমির অস্থায়ি মালিক, চেয়ার টেবিলবিহীন মাটিতে বসে খাই, তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, ফিকফিক হাসি হঠাৎ, কোলাহলহীন শব্দহীন অর্থহীন অচিননগরে   অকাজ বা কাজ— ইটভাঙা হাড়িভাঙা ঘুমভাঙা ডিমভাঙা … Read more

প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ

একা শহরে দাঁড়িয়ে আছি আমি বাজ পড়ে পুড়ে যাওয়া পাতাহীন গাছ, কখনো নড়ে উঠি ভুকম্পনে কিংবা দেখি কখন বেখেয়ালে ঘুনপোকা খেয়েছে কেন্দ্রিয় শাঁস, পাঁজরের অবকাঠামো; ক্ষণিক বৃষ্টি হলে জংধরা ডালপালা ঝরঝর ঝরে পড়ে, প্রবল হাওয়ার লুকোচুরি হাড়ে লাগায় টক্কর, চিন্তাজ্বরে কেঁপে কেঁপে মৃত্যুর সাথে লড়ি বিশ্রী বামন; বিদ্রোহি ক্রীতদাসের বেড়ি পরানো দুপায়ের মতো আমার আয়ু … Read more

পৌরাণিক প্রেম

‘চলো দূরের ওই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে ওখানে অপেক্ষা করে আছে আমাদের কাল’ উদ্দীপিত সখী রাজকন্যার কানে জানায় আজকের গোপন সংবাদ, পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটির ধারে কার খোঁজে দাঁড়িয়ে সেই অচেনা যুবক? দূরে বন্য হরিণীরা খেলা করছে ইতিহাসের সংগে, সখীদের সাথে নিয়ে রাজকন্যা কেন প্রাণ চাইলেও খুব কাছে আসছে না তার, সেকি অমঙ্গলের ভয়ে— তবে … Read more

গতিশীল কালের জননী

ও নদী, তোমার বুকে আজ ধ্বংসের বিশুষ্ক ঝিলিক, শাখা প্রশাখায় উড়ছে মৃত্যু আগমনি বাঁশির ধূলা, পাহাড় তোমার চলার পথে গড়েছে পাথুরে  প্রতিবন্ধকতা, শুখা মরুভূমি মারীভূমি বানিয়েছে ধূধূ বালিয়াড়ি; গুমোট শীত রাত্রি এনেছে চলমান হিংসুটে হাড় কাঁপানো হিংস্রতা, তোমার প্রবহমানতা কী থামিয়ে দেবে তুমি? ঘৃণায় কি জল দেবে না আমাদের, তরুণ তরল জল, সেই জলের জীবনও … Read more

একদিন তোলপাড় বর্ষার বৃষ্টির ফোঁটায়

তোমার শৈশব তোমার মেয়েবেলা আজকের সারাদিনের বৃষ্টির ভুরভুর গন্ধে মিশে গেছে; তোমার মানসপ্রতিমা জানালা বন্ধ করেছে বৃষ্টির ছাঁট এসেছে বলে; না তুমি খোলা জানালা বন্ধ করো না, তুমুল বৃষ্টি আসুক, আমি বৃষ্টির কণায় মিশে হাওয়া জলে সাঁতার কেটে এসে দাঁড়াবো তোমার জানালার পাশে;— তোমার চোখের বুদবুদে আমার ছায়াকে নিশ্চিত দেখতে পাবো।   পৃথিবীর সমস্ত জলের … Read more

তুমি আমাদের জীবনের অংশ

সুদূর আকাশ হতে ঝরতে থাকা অস্তিত্বের ফোঁটায় তোমাকে অনুভব করি, বুঝতে পারি জলের বুদবুদে ভেসে যাওয়া তুমি শিকড়হীন নির্বাক কথা বলে যাও দেহের ভঙ্গিমায়, তুমি কখনো দুরন্ত দুর্বার নদীর জলস্রোতে দুকুল ছাপানো কীর্তিনাশা, জলোচ্ছাস ও ঝড়ের দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত; কখনো তুমি শান্ত নিস্তব্ধ পুকুরের জলে ফুটে থাকা অগনিত চাঁদমালা, গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা তুমি … Read more

একুশের গান

(হেলাল হোসেন ঢালীকে)   সমুদ্রের ছুটে আসা সফেন তরঙ্গমালার মতো, অথবা আকাশ থেকে টিপ টিপ করে পড়া স্পঞ্জ রূপ বৃষ্টির শব্দের মতো কিংবা স্বচ্ছ চকচকে কাঁচের মতো শিহরণ খেলে যায় আমার কাব্যিক ত্বকের বুকে, রঙধনুর রঙিন আভা ছড়িয়ে যায় আমার ভ্রমণের র্কদমাক্ত মৃত্যু উপত্যকাপূর্ণ পথে; অথচ এখন তুমি মহাবিশ্বের শ্রুতিময় ধ্রুবতারা জ্বলে জ্বলে সুগন্ধ বিলিয়ে … Read more

error: Content is protected !!