ভেরসা নদী বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের আন্তঃসীমান্ত নদী

ভেরসা নদী (ইংরেজি: Versa River) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। তবে নদীটি বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত আন্তঃসীমান্ত নদী নয়। নদীটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায়১১ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১৫ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক ভেরসা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৯৩।[১]

প্রবাহ: নদীটি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বিলাঞ্চল হতে উৎপত্তি লাভ করে একই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। নদীটি প্রবাহপথে ভজনপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া অতিক্রম করেছে। অতঃপর নদীটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার ছোপরা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের তেলিগাছ গ্রামে ডাহুক নদীতে পতিত হয়েছে।

ভেরসা নদীটি বারোমাসি প্রকৃতির। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে এই নদীর পানি সেচ কাজের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, যে কারণে সারা বছর পানির প্রবাহ পরিদৃষ্ট হয়। পলির প্রভাবে নদীর তলদেশ ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।[১]

অন্যান্য তথ্য: ভেরসা নদী বন্যাপ্রবণ এবং এই নদীর অববাহিকায় কোনো প্রকল্প নেই। এই নদীতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর এবং কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এই নদীটিতে জোয়ারভাটার প্রভাব নেই। এই নদীর তীরে গিতাল গছ উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়াবুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়াবুড়ি বাজার, নওয়াপাড়া হাট, ডুংডুগিহাট অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:  

১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১৫২, ISBN 984-70120-0436-4.
২. হানিফ শেখ, ড. মো. আবু (ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। “উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নদ-নদী”। বাংলাদেশের নদ-নদী ও নদী তীরবর্তী জনপদ (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: অবসর প্রকাশনা সংস্থা। পৃষ্ঠা ৪৬। আইএসবিএন 978-9848797518।

Leave a Comment

error: Content is protected !!