বড়কুচ পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ

বড়কুচ

বৈজ্ঞানিক নাম: Micromelum minutum (J. G. Forster) Wight & Arn., Prodr. Fl. Ind. Orient.: 448, 468 (1834). সমনাম: Micromelum pubescens Blume (1825), Micromelum ceylanicum Wight (1840), Micromelum compressum (Blanco) Merr. (1918). ইংরেজি নাম: Lime Berry. স্থানীয় নাম: কড়ইফুলা, বড়কুচ, দুলিয়া। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae অবিন্যাসিত: Eudicots বিভাগ: Angiosperms বর্গ: Sapindales পরিবার: Rutaceae গণ: Micromelum প্রজাতি: Micromelum minutum.

ভূমিকা: বড়কুচ ( বৈজ্ঞানিক নাম: Micromelum minutum) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।

বড়কুচ-এর বর্ণনা :

ছোট থেকে মধ্যম আকৃতির, কন্টকহীন বৃক্ষ, ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু, ছোট শাখা এবং কুঁড়ি ঘনভাবে খাটো- রোমশ। পত্র একান্তর, সচূড়পক্ষল, ৩০ সেমি পর্যন্ত লম্বা, পত্রক ৯-১৫টি, একান্তর, ডিম্বাকার-বল্লমাকার থেকে ডিম্বাকার, ৩-১২ × ১.৫-৬.০ সেমি, গোড়া স্থূলাগ্র এবং অসম, শীর্ষ সরু-দীর্ঘাগ্র, প্রান্ত অখন্ডিত থেকে অনিয়মিতভাবে তরঙ্গায়িত-দপ্তর। পুষ্পবিন্যাস শীর্ষক, সাইম সদৃশ-প্যানিকল। পুষ্প উভলিঙ্গ, ৫-অংশক। বৃতি পেয়ালাকার, অগভীরভাবে ৫-দন্তর। পাপড়ি ৫টি, প্রান্তস্পর্শীয়, রেখাকার-আয়তাকার, ৭.০ × ১.৫ মিমি, বহির্ভাগ ঘনভাবে চাপা রোমাবৃত, ফিকে সবুজ থেকে হলুদাভ-সাদা। পুংকেশর ১০টি, পুংদন্ড রেখাকার, ৪-৬ মিমি লম্বা, পরাগধানী উপবৃত্তীয়, প্রায় ২ x ১ মিমি, অস্পষ্টভাবে এবং অনুদৈর্ঘ্য খাঁজযুক্ত, প্রায় রোমশ, ৫- প্রকোষ্ঠী। গর্ভদন্ড বেলনাকার, রোমহীন, গর্ভমুন্ড প্রায় ১ × ১ মিমি, মুন্ডাকার, কোষ একটি ঝুলন্ত ডিম্বকযুক্ত। ফল উপবৃত্তীয়, আয়তাকার বেরী, প্রায় ১৫ × ৭ মিমি, পাকলে কমলা বা লালাভ, অন্ত: ত্বক রসালো, শ্লেষ্মাসদৃশ, সাদা, ২- ৩ বীজী। বীজ রোমহীন, পাকলে হলুদ থেকে লাল, বীজপত্র চ্যাপ্টা এবং পাকানো। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

প্রাথমিক এবং গৌণ বনাঞ্চল, সর্বোচ্চ উচ্চতা ১০০০ মিটার। ফুল ও ফল ধারণ সারা বর্ষব্যাপী। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।

বিস্তৃতি :

ভারত, সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া এবং প্যাসিফিক। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর এবং শেরপুর জেলার বনে পাওয়া যায়।

বড়কুচ-এর ব্যবহার:

পাতা এবং মূল জ্বরের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূলের থেতলানো বা সিদ্ধ কাথ শিশুর ডায়রিয়ায় ব্যবহৃত হয়, এবং পাকস্থলীয় বায়ুনাশক। দক্ষিণ সুমাত্রায় মূলের টুকরা কাশির জন্য পানের সাথে চিবিয়ে খাওয়া হয়। জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার হলো পেনিনসুলার মালয়েশিয়ায় পত্রের চূর্ণ চামড়ার চুলকানিত প্রলেপ দেয়া হয় এবং মূল সিদ্ধ পালাজ্বরে প্রলেপ দেয়া হয়। ফিলিপাইনে অপরিণত বিটপ তেলের সাথে গরম করে শিশুদের স্নায়ুবিক আক্ষেপের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইন্দো-চীনে স্ক্যাবিস-এর কারণে উত্তেজনা নির্মূলে চামড়ায় পত্রের প্রলেপ দেয়া হয়। ফিজিতে পাতা বা ছোট শাখার অভ্যন্তরীণ বাকল বিভিন্নভাবে মাথা ব্যথা এবং পাকস্থলী-ব্যথায়, কাশি নিমূলে এবং জিহ্বার ক্ষতে, অতিরিক্ত রক্ত:স্রাব নিয়ন্ত্রনে, গনোরিয়া চিকিৎসায় এবং শিশুদের গলার রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ১০মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বড়কুচ প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, অধিক মাত্রায় উদ্ভিদ ব্যবহার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারনে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বড়কুচ সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির ইন-সিটু পদ্ধতিতে সংরক্ষণ প্রয়োজন।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. এম আমান উল্লাহ, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৮০-১৮১ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Ethel Aardvark

Leave a Comment

error: Content is protected !!