মাওবাদ ও জনগণের আমরা

মাও, তোমার দেশে গিয়ে ব্যাঙ খাওয়া হয়নি আমাদের, আমরা মারা গেছি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে, একদিন যারা আমাদেরকে চিনে গিয়ে ব্যাঙ খাওয়ার শ্লোগান দিতো, সেই সব মহাভণ্ডেরা এখন তোমার দেশবাসির গুও সানন্দে ভক্ষণ করে, নিয়মিত বেইজিং সাঙহাইয়ে শপিঙ সারে; আমরা ১৫ বা ২৫ বা ৩৫ কোটি মানুষকে একত্রিত করতে পারিনি, তুমি ৬০ কোটির জন্য একই বৃন্তে শত ফুল ফুটিয়েছিলে, তোমার অজস্র কাজ ছিলো, জনসভা, পথসভা, দলীয় সভা, আরো পড়ুন

আমরা কী?

আমরা কী অপরাধী, আমরা কী অ্যাডাম আর ইভের মতো পতিত, আমরা কী ইউরো আমিরিকানদের মতো পতিত, আমরা কী মধ্যপ্রাচ্যীয়দের মতো পতিত, আমরা কী পচাগলা রক্তাক্ত ইতিহাসের মতো পতিত, আমরা কী পাশবিকতার কাছে পরাজিত ও পতিত, আমরা কী সগোত্রের মাংস পছন্দ করি, আমরা কী আঞ্চলিকতাবাদি, আমরা কী দাস না দাসমালিক, আমরা কী শ্রমিক না শ্রমিক শোষক, আমরা শ্রেণিহীন মানুষ না শ্রেণি, বৈষম্যভিত্তিক প্রেমিক, আমরা কী ব্যাঙের ছাতা না কলুর বলদ না কলম না সিজোফ্রেনিয়া রোগি আরো পড়ুন

বিপন্ন জনগণের ইতিহাস

নিজে বাঁচলে সবার বাঁচা হবে, কবার বাঁচলে দেশ বেঁচে যাবে? কার বাড়িতে সব বিদেশি পাখি, বিদেশি গাছে ভরছে চার আঁখি, নিজে বাঁচা যায় না—তবু বাঁচা, নিজের বাড়ি নিজের দেশে খাঁচা, সন্তানাদি বাঁচার ক্ষীণ আশা, আশা বাঁচে গভীর পোড়া বুকে, আশা বাঁচে স্তালিনও বাঁচে। আরো পড়ুন

মানব সম্পদের স্বপদে দাঁড়ানো

এলো বানী, অমৃতবচন মানব সম্পদে রূপান্তর করুন মানব হবে সম্পদ, মানুষ হবে সম্পত্তি জবাই করো মানুষ, কিডনি, লিভার, হার্ট, কর্নিয়া করো রপ্তানি মানব হইল সম্পদ, কী হে, মানুষ হইল টাকা তাই শহর ঢাকা টাকায় ঢাকা ঢাকা, ঢাকা আর টাকা হায়রে মানবজমিন মানব সম্পদ এমন সোনার জমিন দুইখানা পদ, এমন সোনার শরীর জ্যান্ত আপদ, বিশাল মানবজমিন মানবসম্পদ, সুষ্ঠু ব্যবহার করো অনুভুতি আর অনুভব, শিল্প সহজে ফোটে মানবজমিনে। আরো পড়ুন

দল ও পরাধীনতার ধারাবাহিকতা

দাস সমাজ

মানুষগুলো বদলে গেল স্বার্থপরতায়, রাজনীতি উচ্ছন্নে গেল কার কুচেষ্টায়, কষ্ট করে কে আর দীপ জ্বেলে যায় মাঝপথে? তার চেয়ে সহজ পথ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নেশা, পুঁজির পাশাখেলা, অংকে যত দূরেই থাক গণতন্ত্র আর দেহবিক্রির সূত্র, সব ছাত্রই মুখস্ত কর, হাতে নাও ব্যালট কাগজ, সিল মারো সারারাত গোপনে গোপনে, খবর শুনছেন—আধুনিক রাজনীতি প্যাকেজ প্রোগাম; — আরো পড়ুন

আমরা গণশত্রু পেয়ে গেছি

আমাদের সেলিব্রেটিরা দোলনার মতো স্বপ্নে দোলে রাজনীতি আর স্বাধীনতাহীন শরীরে যোগাযোগ রাখে এপাশে ওপাশে; কী চমতকার বেচাকেনা অবারিত দরজা, পাসপোর্ট ভিসা লাগবে না পন্যের, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বা অর্থ তহবিলে বেচে দাও বৌ বন্ধু তেল নুন আর সকাল বিকাল রাত্রি নীল আকাশ নদী আর কাশফুল। আরো পড়ুন

পুরুষালী নেতা ও ভাতার

পুরুষতন্ত্র

মন্ত্রীসাব কহেন কোটি কোটি টাকা দেন, এখন আর অল্পেতে পোষায় না, যত পারেন দেন, ডাল ভাত খাবো, প্রতিদিন মাছ গোস্ত ভালো লাগে না, মন্ত্রিসাব পাব্লিকরে জিগাইলেন ‘কী করেন?’ — গান করি আর সঙসারধর্ম পালন করি। কতো দায়িত্ব মন্ত্রিমিয়ার বাড়ির পাশের কোলকাতা, পকেটের কোকাকোলা, বক্ষের বিভাজন সবই তার চায় নেত্রি শুধু মাঝদুপুরে ভাত ঘুম দেয়, উচ্চ লোভী ঘুম! আরো পড়ুন

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না

আমার দেশ না

যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায় আমি তাকে ঘৃণা করি- যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে আমি তাকে ঘৃণা করি— যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না আমি তাকে ঘৃণা করি- আটজন মৃতদেহ চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে আমি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যাচ্ছি আট জোড়া খোলা চোখ আমাকে ঘুমের মধ্যে দেখে আরো পড়ুন

আমার খবর

আমি সেই মানুষ যার কাঁধের ওপর সূর্য ডুবে যাবে। বুকের বোতামগুলো নেই বহুরাত কলারটা তোলা ধুলো ফ্যা ফ্যা আস্তিন হাওয়াতে চুল উড়িয়ে পকেট থেকে আধখানা সিগারেট বার করে বলব দাদা একটু ম্যাচিসটা দেবেন? লোকটা যদি বেশি ভদ্র হয় সিগারেট হাতে রেখে এগিয়ে দেবে দেশলাই আরো পড়ুন

একটা ফুলকির জন্যে

একটা কথায় ফুলকি উড়ে শুকনো ঘাসে পড়বে কবে সারা শহর উথাল পাথাল, ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে কাটবে চিবুক চিড় খাবে বুক লাগাম কেড়ে ছুটবে নাটক শুকনো কুয়োয় ঝাঁপ দেবে সুখ জেলখানাতে স্বপ্ন আটক একটা ব্যথা বর্শা হয়ে মৌচাকেতে বিঁধবে কবে ছিঁড়বে মুখোশ আগ্নেয় রোষ আরো পড়ুন

error: Content is protected !!