মাষকালই ডাল দিয়ে তৈরি নানা রেসিপি

কলাইকে ভারী, পাকে মধুর, স্নিগ্ধ, রুচিকারক, বায়ুনাশক, বীর্যবর্ধক বলা হয়। এর যেমন ভেষজ গুণ আছে তেমনি নানাভাবে খাওয়ার উপায় আছে।

কলাই ডাল খাওয়ার বিভিন্ন রেসিপি:  

১. ডালের লাডডু : কলাইয়ের (Vigna mungo) ডালের আটা বা বেসন, গমের আটা, সমপরিমাণে নিয়ে একটু বেশি ঘি দিয়ে আঁচে বসিয়ে নাড়তে থাকুন। একটু পিপুল গুঁড়া দিন। এবারে আন্দাজ মতো চিনি এবং চিনির দ্বিগুণ পরিমাণ জল দিন। জল শুকিয়ে গেলে নামিয়ে লাড্ডু তৈরি করে নিন। রাতে শোওয়ার আগে একটা করে লাড্ডু ও দুধ খাবেন। এতে শরীরের পুষ্টি হবে। কখনও রোগা হবে না, শরীরের বল বাড়বে।

২. কলাইয়ের ডালের বড়া : কলাইয়ের ডাল জলে ভিজিয়ে রাখুন। পিষে নিয়ে নুন, গোলমরিচ, হিং, জিরে, রসুন ও আদা মিশিয়ে ঘিয়ে বা তেলে ভেজে বড়া তৈরি করুন। এই বড়া খেলে বায়ু, প্যারালিসিসে মুখ বেঁকে যাওয়া, অরুচি, দুর্বলতা, ক্ষয় আর শূল সারবে ।

৩. ডালের ও দই মেশানো বড়া: এ কলাইয়ের ডাল পিষে নিয়ে একটু টক দই দিয়ে ফেটিয়ে বড়া তেলে বা ঘিয়ে ভাজলে সেই বড়া খেলে শরীরের বল ও ধাতু বৃদ্ধি হয়।

৪. কলাইয়ের ডালের পানীয় : ( কলাইয়ের ডালের আটা শুকনো পেষা কলাইয়ের ডাল) গরুর দুধে ফুটিয়ে নিন। একটু ভাল ঘি মেশাবেন। অল্প গরম থাকতে থাকতে পর পর সাত দিন পান করলে মূত্রপথ দিয়ে যদি ধাতুস্রাব হয় তাতে উপকার হবে।

৫. শ্বেতীরোগে কলাইয়ের ডাল : টাটকা কলাইয়ের ডাল পিষে সাদা দাগের ওপর লালালে উপকার পাওয়া যায়।

৬. মাষাদি সপ্তক ক্বাথ: যা কলাইয়ের ডালসহ সাতটি উপকরণ পিষে তৈরি করা হয় ও কবিরাজি দোকানে পাওয়া যায় (কলাই, বলা খপাট, কৌছে, কৃতণ নামক ঘাস, রানী, অশ্বগন্ধা এবং এর মূল থেতো করে বা আধ-কুটো করে ক্বাথ তৈরি করা হয়। একটু গরম করে হিং ও নুন মিশিয়ে খেলে পক্ষাঘাত, মন্যাস্তম্ভ (গলার নাড়ি আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া), কানে বিশেষ ধরনের আওয়াজ হওয়া (কর্ণনাদ), কানের ব্যথা (কর্ণশূল) এবং দুর্জয় অর্দিত নামক মুখ বেঁকে যাওয়া রোগ সারে।

আরো পড়ুন:  পঞ্চপত্র দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো শোভাবর্ধক ভেষজ প্রজাতি

তথ্যসূত্রঃ

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা ৬৫-৬৬।

Leave a Comment

error: Content is protected !!