ধলা নদী (ইংরেজি: Dhala River): ধলা নদীটি বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের এবং বাংলাদেশের সিলেট জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১৫৮ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক ধলা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ৩৫।
প্রবাহ: ধলা নদীটি মেঘালয়ের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় হতে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণমুখে প্রবাহিত হয়ে সিলেট জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই উপজেলার একই ইউনিয়নে প্রবহমান পিয়াইন (সিলেট-সুনামগঞ্জ) নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটির অপর একটি শাখা কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নে পিয়াইন (সিলেট-সুনামগঞ্জ) নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটিতে পানির প্রবাহ পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে এর প্রশস্ততা পূর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পলি পড়ে নদীটি দিনদিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নদীটিতে কোথাও তেমন ভাঙন নেই। তবে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৫ সালে নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। শুধু বর্ষাকালে নদীটিতে সীমিত পরিসরে নৌকা চলাচল করে। এ নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহার করা হয় না।
অন্যান্য তথ্য: ধলা নদীটি জোয়ারভাটা প্রভাবিত নয় এবং নদীটি বন্যাপ্রবণ নয়। নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশ অংশে কোনো প্রকল্প নেই এবং নদীটিতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই। নদীতে কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এই নদীর পাড়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনাও নেই।
তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১৯৩-১৯৪, ISBN 984-70120-0436-4.
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
