টিখুর বা অ্যারারুট বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

টিখুর বা অ্যারারুট

বৈজ্ঞানিক নাম: Maranta arundinacea L., Sp. Pl.: 2 (1753). সমনাম: Maranta sylvatica Roscoe ex J.E. Smith (1819). ইংরেজি নাম: অ্যারারুট, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অ্যারারুট। স্থানীয় নাম: টুথুর, টিখুর, অ্যারারুট।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Monocots. বর্গ: Zingiberales. পরিবার: Marantaceae. গণ: Maranta প্রজাতির নাম: Maranta arundinacea

ভূমিকা: টিখুর বা অ্যারারুট (বৈজ্ঞানিক নাম: Maranta arundinacea) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ বীরুৎ । এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

টিখুর বা অ্যারারুট-এর বর্ণনা:

এটি বীরুৎ, মূলজকান্ড লতান, কান্ড খাটো। পত্র সবৃন্ত ক, ডিম্বাকার। পুষ্প প্রান্তীয় সাইমে বিন্যস্ত, সহপত্রী, সরু, চমসাকার। বৃত্যংশ ৩ টি, সামান্য অসম। পাপড়ি ৩ টি, দলনালিতে যুক্ত। পুংকেশর ১ টি, আংশিক সম্পূর্ণ, নিম্নাংশে যুক্ত। গর্ভপত্র ১-প্রকোষ্ঠী, ডিম্বক ১ টি। ফল ডিম্বাকার- দীর্ঘায়ত, অবিদারী। ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ১৮, ৪৬, ৪৮

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

অতিরিক্ত আর্দ্র এ ছায়াযুক্ত অঞ্চল। ফুল ও ফল ধারণ মে থেকে আগস্ট মাস। গ্রন্থিকন্দের পরিপক্ক প্রান্তীয় অংশ থেকে বংশ বিস্তার।

বিস্তৃতি:

দক্ষিণ আমেরিকা ও জাঞ্জিবার। বৃটিশরা অষ্টাদশ শতকে এটিকে প্রবর্তন করে। বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় চাষাবাদ হয়।

ব্যবহার:

গ্রন্থিকন্দের শ্বেতসার শিশুখাদ্যরূপে ব্যবহার করা হয়। কক্সবাজার অঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায় গ্রন্থিকন্দ সরাসরি বা সিদ্ধ করে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ১১খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) টিখুর বা অ্যারারুট প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে টিখুর বা অ্যারারুট সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম কে পাশা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩৭৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  মঞ্জিটা বা মজাঠি গাছের এগারোটি ভেষজ গুণাগুণ ও প্রয়োগ

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Wibowo Djatmiko

Leave a Comment

error: Content is protected !!