প্রাচীন বৈদ্যগণ এই লালচিতের মূলকে চূর্ণের জলে একদিন ভিজিয়ে তার পরদিন তাকে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে আভ্যন্তরিক ঔষধাথে ব্যবহার করে থাকেন। তাঁদের মতে এইটাই হলো লাল চিতার মূলের শোধন পদ্ধতি। তবে সাদা চিতা (Plumbago zeylanica) মূলের শোধন করা হয় না কারণ তার দ্রব্যশক্তিও স্বল্প। এদের গাছ বা পাতার যে কোন গুণ নেই তা নয়, তবে তার বীর্যবত্তা অল্পই, সেইদিক থেকে সে হীনগণ।
সাদা চিতা বা সফেদ চিত্রক-এর গুণাগুণ
সাদা চিতা অন্ত্রের সমস্যা, আমাশয়, লিউকোডার্মা, প্রদাহ, পাইলস, ব্রঙ্কাইটিস, চুলকানি, লিভারের রোগ এবং সেবনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই ভেষজের পাতা ল্যারিঞ্জাইটিস, বাত, প্লীহার রোগ, রিং ওয়ার্ম, স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় ভালো কাজ করে এবং এটি কামোদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। মূলের ছালের টিংচার অ্যান্টি-পিরিওডিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিত্রক মূল হজম উন্নত করতে সাহায্য করে এবং এটি ক্ষুধা জাগায়। চিত্রক মূলও একটি অ্যাক্রো-নার্কোটিক বিষ যা গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
শ্লেষ্মপ্রধান শোথে লালচিতের মূলের অভাবে সাদাচিতের মুল ব্যবহারও ক’রে থাকেন। এই সাদাচিতের মূলগুলি কাঠগর্ভ অর্থাৎ মূলের মধ্যটাই শক্ত কাঠের মত, তার এই শক্ত কাঠটাকে বাদ দিয়ে ওপরের ছালটাই নিয়ে থাকেন। তাও সেটাকে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ঔষধার্থে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও সাদা চিতার পরিবর্তে লাল চিতাও ব্যবহার করা যায়।
সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।
তথ্যসূত্রঃ
১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৫, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৩, পৃষ্ঠা, ১০১-১০৫।
২. “White Leadwort”, tropical.theferns.info, ইউআরএলঃ http://www.flowersofindia.net/catalog/slides/White%20Leadwort.html
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।