ছোট বান্দা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম

ছোট বান্দা

বৈজ্ঞানিক নাম: Macrosolen cochinchinensis (Lour.) Van Tiegh., Bull. Soc. Bot. Franc. 41: 122 (1894). সমনাম Loranthus cochinchinensis Lour. (1790), Loranthus globosus Roxb. (1832), Loranthus ampullaceus Roxb. (1832). ইংরেজি নাম : Shield-Leaf Tree. স্থানীয় নাম : ছোট বান্দা, রেমা, রেনদা। গণ: Macrosolen প্রজাতির নাম: Macrosolen cochinchinensis

ভূমিকা: ছোট বান্দা (বৈজ্ঞানিক নাম: Macrosolen cochinchinensis) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ গুল্ম । এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।  

ছোট বান্দা-এর বর্ণনা :

অধিক শাখাযুক্ত পরজীবীয় গুল্ম, সম্পূর্ণ মসৃণ, পর্ব স্ফীত, উদ্ভিদের গোড়া পোষকের সংযোগস্থলে স্ফীত, অস্থানিক মূল পোষক বরাবর অবিরাম। পত্র ৪-১২ × ১.২- ৫.০ সেমি, উপবৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার বা ডিম্বাকার, কচি পত্র বল্লমাকার, প্রশস্তভাবে দীর্ঘাগ্র, পুরু চর্মবৎ, মসৃণ, উপরের পৃষ্ঠ উজ্জ্বল, মধ্যশিরা উপরিভাগে বৈশিষ্ট্যসূচক, পার্শ্বশিরা সরু, গোড়া সূক্ষ্মাগ্র বা কীলকাকার, পত্রবৃন্ত ৩-১০ মিমি লম্বা।

পুষ্প ৫-২০ মিমি লম্বা, অক্ষীয় রেসিমে বিন্যস্ত, একক বা জোড়ায় অবস্থিত, মাঝে মাঝে রেসিমে গুচ্ছাকারে সজ্জিত, ৩-৬ জোড়া পুষ্পবিশিষ্ট, প্রতিটি পুষ্প একটি মঞ্জুরীপত্র ও ২টি উপমঞ্জরীপত্র দ্বারা আবৃত, মঞ্জরীপত্র ডিম্বাকার, প্রায় ১ মিমি লম্বা, উপমঞ্জরীপত্র যুক্ত, পেয়ালা-আকৃতির। বৃতি নল প্রায় ৩ মিমি লম্বা, গর্ভাশয়ের সাথে যুক্ত, নল গর্ভাশয় অপেক্ষা সামান্য লম্বা, প্রায়শই কর্তিতাগ্র। পাপড়ি ৫টি, ১০-১৫ মিমি লম্বা, খণ্ড মধ্যভাগ থেকে বক্র, সবুজাভ-হলুদ, শীর্ষ ঈষৎ রক্তবেগুনি।

পুংকেশর দলখন্ড অপেক্ষা সামান্য খাটো, পুংদণ্ড সোজা। গর্ভদণ্ড সরু, প্রায় ৮ মিমি লম্বা, পাদদেশের উপরিভাগে গ্রন্থিল। ফল ৬-৮ মিমি লম্বা, সামান্য গুটিকাযুক্ত, পর্যায়ক্রমে সবুজ, হলুদ ও গাঢ় বেগুনি, মঞ্জরীপত্রের পেয়ালা কর্তৃক উত্তোলিত এবং গর্ভদণ্ডের গোড়া দ্বারা আবৃত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: n = ১২ (Barlow, 1971)। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল প্রায় সারা বছর।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার :

গুল্ম ও বৃক্ষ, যেখানে ইহা পরজীবী বা অর্ধ- পরজীবী হিসেবে জন্মায়। বংশ বিস্তার  হয় বীজ দ্বারা, পাখির মাধ্যমে বীজের বিস্তার ঘটে।

আরো পড়ুন:  গন্ধবেণা, গন্ধ তৃণ বা লেমন ঘাস বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ তৃণ

বিস্তৃতি:

সিকিম হিমালয় থেকে পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমে দক্ষিণ চীন, মালয় পেনিনসুলা, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশের সর্বত্র ইহা পাওয়া যায়।

ব্যবহার:

পোষক উদ্ভিদের ক্ষতি সাধন করে এবং বাংলাদেশে কাঁঠাল ফল (Artocarpus heterophyllus), আম (Mangifera indiaca) এবং Shorea robusta বৃক্ষে ইহা পরজীবী (Alam, 1984)। ফলের আঁশালো অংশ থেকে নির্যাসকৃত গাম সিলেট জেলায় পাখি ধরার কাজে ব্যবহার করা হয় (Alam, 1986) ।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৮ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ছোট বান্দা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ছোট বান্দা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম কে আলম (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৮ম, পৃষ্ঠা ৪০৪-৪০৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি efloraofindia.com থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!