জিট্টি পাহাড়ে জন্মানো উপকারী গুল্ম

জিট্টি

বৈজ্ঞানিক নাম: Marsdenia tenacissima (Roxb.) Moon in Cat. Pl. Ceylon: 21 (1824). সমনাম: Asclepias tenacissima Roxb. (1814). ইংরেজি নাম: Rajmahal Hemp. স্থানীয় নাম: জিট্টি, সিট্টি, সিটি।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Gentianales. পরিবার: Apocynaceae. গণ: Marsdenia প্রজাতির নাম: Marsdenia tenacissima

ভূমিকা: জিট্টি (বৈজ্ঞানিক নাম: Marsdenia tenacissima) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ গুল্ম। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

জিট্টি-এর বর্ণনা :

এটি প্যাঁচানো গুল্ম, কাণ্ড ও শাখা ঈষৎ স্থুলাকার ও নিবিড়ভাবে ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত। পাতা সবৃন্তক, স্পষ্টতঃ ডিম্বাকার, দীর্ঘাগ্র, নিম্নাংশ গোলাকার খন্ড বিশিষ্ট হৃৎপিন্ডাকার, পত্রফলক ৪-৫ টি পার্শ্ব বিশিষ্ট, ১০.০-১২.৫ × ৪.০-১০.৫ সেমি, উপরের পৃষ্ঠ রোমশ, পত্রবৃন্তক ও অঙ্কীয় পৃষ্ঠ ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত। সাইম সমভূমঞ্জরী, ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, পুষ্পবৃত্তিকা ১ সেমি এর কম লম্বা। দলমণ্ডল অগভীরভাবে ঘণ্টাকৃতি, বাইরের অংশ রোমশ, খন্ড দৈর্ঘ্যে নলের সমান, অভ্যন্তর মসৃণ। কিরীট পুংকেশরীয় স্তম্ভের নিম্নাংশ লগ্ন। কিরীটীয় শল্ক পাঁচটি, চ্যাপ্টা, ঋজু, উপরে মুক্ত, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র। পলিনিয়া ঋজু, আয়তাকার-বল্লমাকার, প্রতি পরাগধানী থলিতে একল, পাইনোষ্টেজিয়াম প্রায় ৫ মিমি লম্বা। গর্ভপত্র রোমশ, গর্ভমুণ্ড শীর্ষ অর্ধ-শাঙ্কব। ফলিক্যাল দুইটি, গোলাকার, অনূর্ধ্ব ৮ সেমি লম্বা, রোমশ। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: গুল্ম বনাঞ্চল ও বর্ষা-অরণ্য। ফুল ও ফল ধারণ সময় জুন থেকে ডিসেম্বর মাস। মূল ও কাণ্ডের কাটিং দ্বারা সহজেই বংশ বিস্তার করা যায়।
বিস্তৃতি: চীন, পূর্ব হিমালয়, ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে এই প্রজাতিটি বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও টাঙ্গাইল জেলায় পাওয়া যায়।

জিট্টি-এর ব্যবহার:

কচি বিটপের বাকল সূক্ষ্ম রেশমতুল্য তত্ত্ব উৎপাদন করে। ভারতের রাজমহল এর পাবর্ত্যাঞ্চলবাসীরা ভার সহ্য করার ক্ষমতা ও স্থায়িত্বের জন্য এই তন্ত্র দিয়ে তাদের ধনুকের গুন তৈরী করে থাকে। এই উদ্ভিদের শুষ্ক আঠালো রস কালো দাগ মুছতে ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন:  হৃৎফলা উপকারী চির হরিৎ বৃক্ষ

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ০৬ ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) জিট্টি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাসস্থল ধ্বংসের কারনে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন (VU) হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে জিট্টি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে বাংলাদেশে এই উদ্ভিদটির প্রাপ্তিস্থান চিহ্নিত করতে হবে এবং ইন-সিটু পদ্ধতিতে সংরক্ষণের – ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ০৬ ষ্ঠ, পৃষ্ঠা ২৬৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Krishan Lal

Leave a Comment

error: Content is protected !!