কুমারি বুড়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উপকারি বৃক্ষ

কুমারি বুড়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Mallotus tetracoccus (Roxb.) Kurz, For. Fl. Brit. Burma 2: 382 (1877). সমনাম: Rottlera tatracocca Roxb. (1832), Rottlera ferruginea Roxb. (1832), Mallotus albus (Roxb.) Muell.-Arg. (1865), Mallotus ferrugineus (Roxb.) Muell.-Arg. (1866). ইংরেজি নাম: Rusty Kamala। স্থানীয় নাম: কুমারি বুড়া, মইনবুড়া, মুরালিয়া। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Malpighiales. পরিবার: Euphorbiaceae. গণ: Mallotus প্রজাতির নাম: Mallotus tetracoccus

ভূমিকা: কুমারি বুড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Mallotus tetracoccus) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ গাছ। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

কুমারি বুড়া-এর বর্ণনা:

ছোট বৃক্ষ আকৃতির এই প্রজাতিটি ৭ থেকে ১১ মিটার উঁচু হয়। এদের শাখা শক্ত, শুষ্ক অবস্থায় হলদে তারকাকার রোমযুক্ত, পরবর্তীতে রোমশ বিহীন। পত্র প্রতিমুখ বা একান্তর, উপপত্র অনুপস্থিত বা ক্ষুদ্র, বৃন্ত ৪-১৫ সেমি লম্বা, তারকাকার রোমশ, ২টি পত্রফলকের সাথে সংযোগস্থলের উপরে বিদ্যমান, পত্রফলক প্রশস্ত ডিম্বাকার বা প্রায় গোলাকার থেকে ভল্লাকার-ডিম্বাকার, ৫-২০ × ৩-১৬ সেমি, দীর্ঘাগ্র থেকে সূক্ষাগ্র, পার্শ্বীয় শিরা ৩-৬ জোড়া।

পুং মঞ্জরী পেনিকুলেট, কাক্ষিক, বহু শাখান্বিত, প্রায় ১৮ সেমি লম্বা, ঘন তরকাকার বা শাখায়িত রোমশ। পুংপুষ্প: অবৃন্তক, বৃতি খন্ড ৩.৪- ৪.২ × ১.৫-২.০ মিমি, ডিম্বাকার, সূক্ষ্মাগ্র বা স্থূলাগ্র, ঘন রোমাবৃত, পুংকেশর ৩-৪ মিমি লম্বা, পরাগধানী ০.৫ মিমি লম্বা। স্ত্রীমঞ্জরী পুংমঞ্জরীর অনুরূপ কিন্তু দীর্ঘতর, প্রায় ৩০ সেমি লম্বা। স্ত্রীপুষ্প: অবৃন্তক, বৃতিখন্ড ২.৫-৩.০ মিমি লম্বা, ডিম্বাকার, সূক্ষ্মাগ্র, গর্ভাশয়ের সাথে যুক্ত, গর্ভাশয় ১.০ × ৯.৫ মিমি, বৃতি দ্বারা আবদ্ধ, রোমশ, গর্ভদন্ড ২ মিমি লম্বা, স্থায়ী, পালক সূদশ। ফল ৬ × ১০ মিমি, অর্ধগোলাকার, অমসৃণ, সাদা রোমশ, ৩-৪ বীজী, বীজ ৩ × ২ মিমি, কালো। ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ৬৬।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ:

চিরহরিৎ ও গৌণ অরণ্য, স্যাঁতসেঁতে ভূখন্ড, সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আঁশ মাটি। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল সারা বর্ষব্যাপী। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

আরো পড়ুন:  আনারস-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ ও প্রয়োগ

বিস্তৃতি :

ভুটান, ভারত, মায়ানমান ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট জেলায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে পওয়া যায়।

ব্যবহার: জ্বালানি কাষ্ঠরূপে ব্যবহৃত।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৭মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) কুমারি বুড়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে কুমারি বুড়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম অলিউর রহমান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৭ম, পৃষ্ঠা ৪৬৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: T. R. Shankar Raman

Leave a Comment

error: Content is protected !!