নানা রোগের নিরাময়ের জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা হিসাবে মেথির ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। মেথির শাক, মেথি দানা, মেথির (Fenugreek) পেস্ট করে অন্যান্য খাবার তৈরি করে খাওয়া হয়। কিছু কিছু রোগের জন্য মেথির লাড্ডু খাওয়া হয়। প্রতিদিন প্রয়োগের জন্য নানা রকম ভাবে মেথির লাড্ডু ইত্যাদি তৈরি করে রাখা যায়। আবার মেথি পাক করে খাওয়া যায়।
মেথির লাড়ু তৈরির করবার পদ্ধতি:
এক টেবিল চামচ মেথির দানা এক টেবিল চামচ ঘিয়ে ভেজে নিন। মিহি করে পিষে নেবেন। এবারে এক টেবিল চামচ ঘিয়ের মধ্যে ২৫০ গ্রাম আখের গুড় ও আধ কাপ জল দিয়ে রস তৈরি করুন। পেষা মেথি এই রসের মধ্যে ঢেলে দিন ও আঁচে বসিয়ে নাড়তে থাকুন। ভাল করে পাক হলে নামিয়ে নিয়ে খুব ছোট ছোট লাড্ডু তৈরি করে নিন। প্রতিদিন সকালে একটি করে মেথির লাড়ু খেলে বাত রোগের জন্যে আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া হাত বা পায়ের আড়ষ্টতা কমে যাবে এবং বাতের ব্যথাও দূর হবে।
মেথি পাক:
নানান অসুখ সারাতে মেথি পাকের গুণের কথা আগেই বলা হয়েছে। মেথি পাক একদিন একটু পরিশ্রম করে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন তাহলে নির্ভেজাল খাঁটি জিনিসটা পাবেন।
মেথি পাক তৈরির পদ্ধতি:
যা যা লাগবে : মিহি করে পেষা মেথি ৫০ গ্রাম, দেশী ঘি ৩০০ গ্রাম, দুধ ২ লিটার, চিনি ৫০০ গ্রাম, গোলমরিচ, শুঠ, যোয়ান, ধনে, জিরে, কালজিরে, জায়ফল, দারচিনি, তেজপাতা, মৌরি সব এক সঙ্গে মিশিয়ে ২ চা চামচ । খুব অল্প পরিমাণে এই দশটি মশলা নিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে পাউডারের মতো মিহি করে পিষে নিন (শুকনা তাওয়ায় ঘি বা তেলে ভাজবেন না তাহলে সব গুণ নষ্ট হয়ে যাবে রোদে শুকিয়ে মচমচে করে নিতে পারেন)। এই পেষা মশলা একসঙ্গে মিশিয়ে চালুনি দিয়ে চেলে নিন। সব মশলা এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ হবে মাত্র ২ চা চামচ। এইভাবে মশলা মেশালে দশটি মশলার ভেষজগুণ পাবেন। অন্যথায় এই মশলা না মিশিয়েও মেথি পাক তৈরি করতে পারেন।
দ্বিতীয় পদ্ধতি : মেথিদানার পাউডার (মেথির গুড়া), ঘি ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ঢিমে আঁচে বসাবেন। নেড়ে নেড়ে মধুর মতো ঘন করে নিন। ঘন হলে চিনি মেশাবেন। চিনি গলে গিয়ে মিশে গেলে এবং ঘন হলে নামিয়ে নিন। সমস্ত পেষা মশলা মিশিয়ে দিন। ঠাণ্ডা হলে কাচের বোয়ামে ভরে রাখুন।
প্রতিদিন সকালে প্রায় এক চা চামচ করে খেলে সব রকমের বায়ু রোগ সেরে যায়, শরীর পুষ্ট হয়, বীর্যবৃদ্ধি হয় এবং প্রসূতির (যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন) তাঁরা জদি সৃতিকা রোগে ভোগেন তাও সেরে যায়।
তথ্যসূত্রঃ
১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, ২২৩-২২৭।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: आशीष भटनागर
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।