ভূমিকা: নোয়া মরিচা (বৈজ্ঞানিক নাম: Maesa ramentacea) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ গুল্ম। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।
নোয়া মরিচা-এর বর্ণনা :
এটি গুল্ম আকৃতির। প্রায় ৯০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের শাখা-প্রশাখাগুলো ঝুলন্ত এবং গুটিকাযুক্ত, বাকল গাঢ় বাদামী, আঁচিলবিশিষ্ট। পাতা ৭.৫-২০.০ × ২.৫-৬.০ সেমি, ডিম্বাকার-ভল্লাকার থেকে উপবৃত্তাকার-ভল্লাকার, অখন্ড বা নিচের দিকে বাঁকা, দীর্ঘাগ্র বা তীক্ষ্ণ, পাতলা চর্মবৎ, মসৃণ, পার্শ্বশিরাসমূহ নিম্নপৃষ্ঠে সুস্পষ্ট, মধ্যশিরার উভয়পাশে ৬-৯টি, পত্রবৃন্ত ১.৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা।
পুষ্পমঞ্জরী কাক্ষিক, মসৃণ অনিয়তাকার যৌগিক মঞ্জরী, সচরাচর পাতা থেকে বড় নয়। পুষ্প ক্ষুদ্র, সাদাটে। বৃত্যংশগুলো ডিম্বাকার- উপবৃত্তাকার, কিনারা সিলিয়াযুক্ত। পাপড়িগুলো উপবর্তুলাকার। পুংকেশরগুলো পাপড়ি থেকে বড়। গর্ভাশয় অর্ধঅধোগর্ভ, গর্ভদন্ড সরু, গর্ভমুণ্ড স্থূলাগ্রবিশিষ্ট। ফল রসালো, ফ্যাকাশে বাদামী-সাদা, আড়াআড়িভাবে ২ মিমি (প্রায়)। বীজ কোণীয়, কুঞ্চিত, গাঢ় বাদামী বা কালচে। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
চিরহরিৎ অরণ্যের ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে স্থানে বড় গাছের তলায় জন্মে। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল জানুয়ারী থেকে নভেম্বর মাস।
বিস্তৃতি:
চীন থেকে ভারতের পূর্বাংশ, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে ইহা কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার বনভূমি থেকে রিপোর্ট হয়েছে।
নোয়া মরিচা-এর ব্যবহার:
মালয়েশিয়াতে নোয়া মরিচা পাতাচূর্ণ চুলকানি এবং অন্যান্য চর্মরোগের চিকিৎসায় জন্য উদ্ভিদের বাহ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়। বুকের ব্যাথা নিরাময়ক হিসেবে ভাতের সাথে ইহার পাতা খাওয়া হয়ে থাকে। শুষ্ক পাতা মাছের বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে(আগস্ট ২০১০) নোয়া মরিচা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাস্থল ধ্বংসের কারনে বাংলাদেশে এটি হুমকির সম্মুখীন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে নোয়া মরিচা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির স্ব-স্থানের বাইরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তথ্যসূত্র:
১. এ বি এম রবিউল ইসলাম ও এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৯ম, পৃষ্ঠা ২৭৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: N Arun Kumar
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।