আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > মতাদর্শ > গণতন্ত্র > আজ্ঞা কাকে বলে

আজ্ঞা কাকে বলে

আজ্ঞা (ইংরেজি: Mandate) হচ্ছে  কোনও কিছু করা বা না করা সম্পর্কে আদেশ বা অনুমতি। রাজনৈতিক নানা ধরনের ক্রিয়াকর্মে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়ে কোনও দল যখন কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সে দল নির্বাচিত হলে বলা হয় যে সংশ্লিষ্ট কাজ করার পিছনে ভােটদাতাদের সঙ্গে চুক্তি পূরণ তথা আদেশ পালনের দায়িত্ব রয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দলের জনগণের আজ্ঞাধীনে থাকা বিধেয়। জনসাধারণের আজ্ঞা পালনের উপর দল ও সরকারের বৈধতা নির্ভর করে। গণতন্ত্রে বৈধতার উৎস হলো জনগণের সম্মতি।[১]

নির্বাচনে, বিশেষ করে একটি বৃহৎ বিজয়ে প্রায়ই বলা হয় যে নতুন নির্বাচিত সরকার বা নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ নির্দিষ্ট নীতিগুলি কার্যকর করার জন্য নিরপেক্ষভাবে আজ্ঞাসমূহ পালন করবে।[২] যখন কোনো সরকার পুনঃনির্বাচন চায় তখন তারা প্রচারণার অংশ হিসাবে নতুন নীতিগুলি পেশ করতে পারে এবং ভোটারদের কাছ থেকে অনুমোদনের জন্য নতুনভাবে আশা করতে পারে যে তারা “নতুন আজ্ঞা” চাইছে।

আজ্ঞা সূত্রে নানা প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনে বহুরকমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তাই ক্ষমতাসীন দলের কাছে বিভিন্ন ভােটদাতার বিভিন্ন প্রত্যাশা থাকে। বহু ভােটদাতা প্রতিশ্রুতি ব্যতিরেকেই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দলকে ভােট দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের কাছে সেই দলের আজ্ঞা পালনের প্রকৃতি ও পরিমাণ কী হবে? নির্বাচনের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রয়ােজন দেখা দিতে পারে। তখন নতুন প্রেক্ষাপটে আজ্ঞা নেবার প্রয়ােজন সম্পর্কে প্রশ্ন দেখা দেয়।[১]

এছাড়াও আজ্ঞা প্রত্যয়টির অপর একটি প্রয়ােগ ইতিহাস-বিখ্যাত। প্রথম বিশ্ব-মহাযুদ্ধের পর জার্মানি ও তুরস্কের কয়েকটি ভূখণ্ড ও উপনিবেশের প্রশাসন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের একটি বিভাগ কর্তৃক অধিগৃহীত হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব-মহাযুদ্ধের পরও ইতালি ও জাপানের কয়েকটি ভূখণ্ডের প্রশাসন অনুরূপভাবে রাষ্ট্রসংঘের অছিপরিষদের উপর ন্যস্ত হয়।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩১-৩২।

২. Glossary Elections ACT. Jul 2012. http://www.elections.act.gov.au/glossary (cf., The Government’s claim that once elected they have the right and responsibility to implement their policies.)

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top