আতঁমড়া গুল্ম-এর নানাবিধ ভেষজ প্রয়োগের নিয়ম

আতঁমড়া -এর বোটানিক্যাল নাম Helicteres isora, পূর্বে এটির নাম ছিল Helicteres chrysocalyx. Mig. এবং Helicteres Roxbhurghii, G. Don., পরিবার Sterculiaceae. ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ :— গাছের ও মূলের ছাল, ফল ও পাতা।

আতঁমড়া গুল্ম-এর ব্যবহার:

১. উদর শূলে :— নানা কারণে হতে পারে, তবে যেক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অরুচি, বদ হজম, পেটফাঁপা, মাঝে মাঝে আম সংযুক্ত পাতলা দাস্তের সঙ্গে পেটব্যথা, পেটকামড়ানি, যন্ত্রণা থাকে, সেক্ষেত্রে আঁতৃমোড়া ফল ভেজে মিহি গুড়া করে ১ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার, প্রয়োজনে ৩ বারও খাওয়া চলে। সপ্তাহখানিক খেলেই দোষগুলো চলে যাবে, শূলও থাকে।

ছোট ছোট বাচ্চাদের, নবজাতকদের এইসব লক্ষণের সঙ্গে পেটে ব্যথা হয়ে থাকে, তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দাস্ত পরিষ্কার হয় না, কারো কারো মলবদ্ধতাও হয়ে থাকে, এই ক্ষেত্রে নবজাতদের জন্য ১০০ মিঃ গ্রাঃ, ২/৩ মাসের পর থেকে এক বছর পর্যন্ত ২৫০ এবং তারপর ১০/১২ বছর বয়স পর্যন্ত ৫০০ মিঃ গ্রাঃ মাত্রায় ভাজা আঁতমোড়া ফল মিহি চুর্ণ দিনে ২ বার খেতে দিতে হবে। সাধারণ অনুপান জল। তবে একেবারে (২ টি না হলে মধু সহযোগে ব্যবহার করা বিধেয়। তবে দুধ বা ছানার জল সহযোগেও খাওয়া যেতে পারে।

২. ঝুরো ক্রিমিতে:— যেকোন বয়সে, যেকোন সময়ে এর উপদ্রব হতে পারে। ক্রিমির উপদ্রবের হাত থেকে চিরকালের জন্য রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়, মাঝে মাঝে উপদ্রব হবে এবং সে সময় কিছুটা অংশকে মেরে ফেললে বা পেট থেকে বের করে দিলেই শান্তি।

শিশুদের মলের সঙ্গে যখন ২/৪ টা করে বেরুতে দেখা যাবে, তখন বুঝতে হবে শিশুটি ক্রিমিতে আক্রান্ত, সে সময় বাচ্চাটি কাঁদে, একটা অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। এক্ষেত্রে উপরিউক্ত মাত্রায় ভাজা আতঁমড়া গুল্ম-এর ফল ১০/১৫ দিন খাওয়ালে একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য এর হাত রেহাই পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন:  কারিপাতা বা বারসুঙ্গার গাছে আছে ভেষজ গুণ

৩. শুক্রাল্পতায়:— এই ফলটি যেন শাঁখের করাত, যেতেও কাটে, আসতেও কাটে। এই সমস্যার জন্য এটি ব্যবহার করলে আমাদের দেহের শুক্রজনন গ্রন্থিগুলি বিশেষভাবে সতেজ হয়, এজন্য এটি বৃষ্য। আবার এটি শুক্রকে তরল করে দেয়, তাতে কামের উদ্রেক হয়।

ইতঃপূর্বে বলা হয়েছে—এটি অধিক পরিমাণে অধিক দিন সেবন করলে পুরুষত্ব নষ্ট হয়। অর্থাৎ একদিকে যেমন শুক্রের শক্তিবৃদ্ধি করে, অন্যদিকে তেমনি অধিক পরিমাণে করা হবে। তাই এই ফলটি অল্প মাত্রায় অল্প দিন খাওয়ার পর কিছুদিন বন্ধ রাখতে হবে, আবার খেতে হবে।

এক্ষেত্রে ১ গ্রাম মাত্রায় ভাজা আতঁমড়া গুল্ম-এর ফল চুর্ণ সকালে ও বিকালে ২ বার মাখন বা দুধের সর বা দুধ সহ খেতে হবে। হিসেব মতো ব্যবহার করতে পারলে ভাল উপকার যাবে।

৪. কফ রোগে:— নানা কারণে শরীরে কফ জমতে পারে। কাসি থাকলে হতে পারে, সর্দি হলে হতে পারে, হঠাৎ ঠাণ্ডা লেগে হতে পারে, কোন ক্ষেত্রে কোন বিশেষ রোগের জন্য কখনো কখনো শরীরে কফের বৃদ্ধি হতে পারে। শরীরের/ বুকের এই জমাট বাঁধা কফকে নিঃসারিত করতে হলে গাছের বা মূলের ছাল ১ গ্রাম মাত্রায় দিনে ৩ বার করে খেতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে।

এক্ষেত্রে মায়েদের জন্য একটা সতর্কতা:— আঁতমোড়া গাছের বা মূলের ছাল দুগ্ধহ্রাস করে, তাই যেসব মায়েদের বুকের দুধ বাচ্চারা পান করে, সেসব মায়েরা এটি খাবেন না।

আতঁমড়া গুল্ম-এর বাহ্য-প্রয়োগ

৫. ঠাণ্ডাজনিত ব্যথা ও ফোলায়:— আতঁমড়া গুল্ম-এর ফল বেটে প্রলেপ দিলে দুই ধরণের সমস্যাই ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে চলে যাবে।

৬. খোস-পাঁচড়ায়:— এর উপদ্রবের আওতায় কখনো আসেননি— এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। এক এক সময় দেখা যায়, কোন ঔষধে কাজ হচ্ছে না। এলার্জির সমস্যাও নেই। এক্ষেত্রে গাছের বা মূলের শুকনো ছাল গুড়া করে সরষের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মলমের মত করে দিনে ২ বার করে লাগাতে হবে। ৮/১০ দিন লাগালে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে। ভালো হয়ে যাবার পরেও আরও কয়েকদিন ব্যবহার করা উচিত।

আরো পড়ুন:  চাকেমদিয়া ভেষজ গুণসম্পন্ন ও শোভা বর্ধক বৃক্ষ

CHEMICAL COMPOSITION

Helicteres isora

Analysis of bark: Chloroplast pigments, phytosterol, a hydroxy carboxylic acid, saponin, sugars, phlobatannins and lignin 22.4%. Analysis of leaves: crude protein 13.25%, ether extract 3%, crude fibre 19.8%, calcium 3.15%, phosphorus 7% and pro-vitamin A. Stalks and twig without bark contain: pentosan, lignine and cellulose.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ৭৬-৮০।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Adityamadhav83

Leave a Comment

error: Content is protected !!